আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, অর্থাৎ আরাফাতের দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য নিয়ামত। এই দিনটি বছরের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি। আসুন হাদিসের আলোতে জেনে নিই এই দিনের গুরুত্ব, রোজা এবং বিশেষ আমল সম্পর্কে।
এই দিনে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের সবচেয়ে বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং পৃথিবীর আকাশে নেমে এসে ফেরেশতাদের সাথে অহংকার করেন।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“আরাফাতের দিনের চেয়ে অন্য কোনো দিন আল্লাহ তাআলা এত বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না। তিনি (বান্দাদের) নিকটবর্তী হন এবং ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করে বলেন, ‘এরা কী চায়?’”
— (সহীহ মুসলিম: ১৩৪৮)
আরাফাতের দিনের সাওম
যাঁরা হজে যাননি, তাঁদের জন্য আরাফাতের দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই একটি রোজা বিগত ও আগামী বছরের গুনাহ খাতা মাফ করে দেয়।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আরাফাতের দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন:
“আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এটি তার পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা (ক্ষমা) হিসেবে গণ্য হবে।”
— (সহীহ মুসলিম: ১১৬২)
(নোট: যারা হজে আছেন এবং আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য রোজা না রাখাই সুন্নাত, যাতে তারা ইবাদতের শক্তি পান।)
তবে, আরাফাতের রোজা রাখা হয় ৯ জিলহজ। তবে এটি নিয়ে সাধারণত দুটি মত প্রচলিত আছে এবং দুটিই গ্রহণযোগ্য। আর এই দুইটি মত হলো:
- আঞ্চলিক চাঁদের হিসাব অনুযায়ী (বাংলাদেশ ও উপমহাদেশে): বাংলাদেশে যেদিন জিলহজ মাসের ৯ তারিখ হবে, অর্থাৎ আরবি মাসের আজকের তারিখ যেদিন ৯ জিলহজ্জ হবে, সেদিন রোজা রাখা। এটিই সবচেয়ে প্রচলিত এবং জমহুর (অধিকাংশ) ওলামাদের মত। কারণ, ইবাদত সাধারণত স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল (যেমনটা রমজান ও ঈদের ক্ষেত্রে হয়)।
- সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিন: যেদিন সৌদি আরবে হাজরে কেরাম আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন, সেই দিনটির সাথে মিলিয়ে রোজা রাখা।
উত্তম পন্থা: যদি সম্ভব হয় এবং কোনো বিভ্রান্তি এড়াতে চান, তবে ৮ ও ৯ জিলহজ (টানা দুটি) রোজা রাখা সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম। এতে করে কোনো অবস্থাতেই আরাফাতের দিনের রোজা মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না এবং জিলহজের প্রথম দশকের সাধারণ রোজার সওয়াবও পাওয়া যায়।
রোজার নিয়ম ও নিয়ত
- সেহরি ও ইফতার: সাধারণ রমজানের রোজার মতোই সুবহে সাদিকের আগে সেহরি খেতে হবে এবং সূর্যাস্তের পর ইফতার করতে হবে, অর্থাৎ, সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি জেনে’ই এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে।
- নিয়ত: নফল রোজার জন্য মনে মনে ইচ্ছা করাই যথেষ্ট যে, “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আগামীকালের আরাফাতের নফল রোজা রাখছি।” মুখে নির্দিষ্ট কোনো আরবি বা বাংলা বাক্য উচ্চারণ করা জরুরি নয়।
- নফল রোজার বিশেষ সুবিধা: যেহেতু এটি নফল রোজা, তাই যদি কেউ রাতে নিয়ত করতে ভুলে যান এবং সুবহে সাদিকের পর থেকে দুপুরের আগে পর্যন্ত (যদি এর মধ্যে কিছু না খেয়ে থাকেন) নিয়ত করেন, তাও রোজা হয়ে যাবে। তবে রাতে বা সেহরির সময় নিয়ত করাই উত্তম।
আরাফাতের দিনের সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফাত দিবসের দোয়া। আর আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছেন তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ (বাক্য) হলো:
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর)
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
— (সুনান আত-তিরমিজি: ৩৫৮৫)
তাহলে আজকে এই পর্যন্ত, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা, আপনর এবং আমাদের সকলেই মেহনত কবুল করুন।
1 টি মন্তব্য