আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?

আমরা প্রতিদিন অনেক আমল করার চেষ্টা করি। কেউ বেশি নফল নামাজ পড়ি, কেউ বেশি কুরআন তিলাওয়াত করি, কেউ বেশি দান-সদকা করি।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন—আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?

এই প্রশ্নের উত্তর রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেই দিয়েছেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?”

রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন—

“সময়মতো সালাত আদায় করা।”

তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “তারপর কোনটি?”

রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন—

“মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা।”

তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “তারপর কোনটি?”

তিনি বললেন—

“আল্লাহর পথে জিহাদ করা।”

—সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম

এই হাদিসের দিকে একটু মন দিয়ে তাকালে আমাদের জন্য অনেক বড় শিক্ষা আছে।

অনেক সময় আমরা ভাবি, আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার জন্য অনেক বড় বড় আমল করতে হবে। অথচ রাসুল ﷺ প্রথমেই যে আমলের কথা বলেছেন, সেটা হলো সালাত।

অর্থাৎ নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়—এটা একজন মুসলমানের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি।

আর দ্বিতীয় যে বিষয়টি এসেছে, সেটা হলো মা-বাবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার।

আমরা অনেক সময় মসজিদে গিয়ে ইবাদত করি, কিন্তু ঘরে এসে মা-বাবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করি। অথচ রাসুল ﷺ আল্লাহর কাছে প্রিয় আমলের তালিকায় মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারকে এত গুরুত্বপূর্ণ করে বলেছেন।

তাই শুধু নফল ইবাদত করলেই হবে না; আমাদের ফরজ দায়িত্বগুলোও ঠিক করতে হবে।

নামাজ সময়মতো পড়া।

মা-বাবার সঙ্গে সম্মান করে কথা বলা।

মানুষের হক নষ্ট না করা।

হারাম থেকে বেঁচে থাকা।

আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজ করা।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ছোট হলেও নিয়মিত আমল।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যেটা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।

—সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম

তাহলে বুঝতে পারছেন?

প্রতিদিন একদিন অনেক ইবাদত করে পরে ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে, অল্প হলেও নিয়মিত আমল করা বেশি মূল্যবান হতে পারে।

আজ থেকেই একটা ছোট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

নামাজ সময়মতো পড়ব।

মা-বাবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করব।

প্রতিদিন কুরআন পড়ব।

আর কোনো ভালো আমল শুরু করলে সেটা নিয়মিত করার চেষ্টা করব।

কারণ আল্লাহ আমাদের শুধু কত বেশি আমল করেছি সেটা দেখেন না—আমাদের ইখলাস, আনুগত্য এবং আমলের ধারাবাহিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহর কাছে প্রিয় হতে হলে সবসময় বড় কিছু দিয়ে শুরু করতে হবে না। কখনো কখনো একটি ছোট কিন্তু আন্তরিক ও নিয়মিত আমলই হতে পারে আপনার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ।

আল্লাহ আমাদের নামাজ কায়েম করার, মা-বাবার হক আদায় করার এবং নিয়মিত নেক আমল করার তাওফিক দান করুন।

আমিন।