🔥 কমিউনিটি প্রশ্ন করুন, উত্তর দিন, পয়েন্ট অর্জন করুন — বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় টেক কমিউনিটিতে
যোগ দিন

AI এর মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করুন!

প্রারম্ভিকতা

প্রায় বছরখানেক আগে TrickBD তে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে অমরত্ব লাভের বিষয়ে লিখেছিলাম যেখানে সাইকোলজি এবং টেকনোলজিক্যাল দিক হতে বিষয়টি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছিলাম। তদুপরি কমেন্ট সেকশনে আমাকে ঐ সময় বেশ ভালো রকমেরই রোস্টিং হতে হয় [যদিও বিষয়টা আমি এনজয় করি কেননা তা হতে প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট এবং সেল্ফ ডেভোলপের অবকাশ থাকে] – যাই হউক তখন হতেই অমরত্ব লাভের এপ্লিকেশন তৈরীর ভাবনা জিদ আকারে মাথাকে জেঁকে বসেছিলো। এই লেখাটি পড়ার পূর্বে অনুরোধ করবো “আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সির মাধ্যমে অমরত্ব লাভ” লেখাটি পড়ুন তাহলে জীবন এবং অমরত্ব লাভ এর সাইকোলজিক্যাল পার্সপেক্টিভ হতে ডিটেইলস জানতে ও বুঝতে পারবেন।

কনসেপ্ট

আসুন আগে কনসেপ্টে আলোকপাত করি…

“জীবন কি?” সেটার নানান দৃষ্টিকোণ হতে নানান বিশ্লেষণ করা যায় – তাতে অমরত্ব লাভ বিষয়টা কিন্তু কেবলি “শারীরিকভাবে বেঁচে থাকা নয়” বরং আমাদের DNA এক্সটেনশনে আমাদের জীবনের যে শিক্ষা, স্মৃতি, আচার আচরন, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি’কে এমনভাবে সংরক্ষণ করা যাতে তা আপনার মৃত্যুর পরও সক্রিয়ভাবে যে কারোর সাথে কমিউনিকেট করতে কাজে আসবে।

সহজভাবে বললে আমাদের প্রত্যকের এক একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা যাতে

(১) আমাদের নাম, পরিচয়, পরিচিতি এবং জীবন বৃত্তান্ত ডিটেইলস থাকবে

(২) আমরা আমাদের জীবনকালে যতোটা সময় জীবিত থাকি সেই সময়ে প্রাপ্ত শিক্ষা, জ্ঞান, বুদ্ধি ইত্যাদি ডিজিটাল ডাটা আকারে সেইভ থাকবে।

(৩) প্রাণী হিসেবে মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো আবেগ তথা ইমোশন; এই আবেগ বা ইমোশন তথা ভালোবাসা, রাগ, ক্ষোভ, সহানুভূতি, আনন্দ ও দুঃখ কষ্টের সাইকোলজিক্যাল ফ্যাক্টগুলো ক্লাসিফাইড করা।

 (৪) আমাদের জীবনকালে আমরা বহু সম্পর্কের জালে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকি – যেমন আমরা কখনো কারোর সন্তান, ভাই – বোন, স্বামী – স্ত্রী কিংবা পিতা – মাতা, বন্ধু ইত্যাদি। আমাদের ঐ সকল সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের এপ্রোচ এবং ইমোশন হয় ভিন্ন ভিন্ন; সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ইমোশনাল মোশন বিষয়টিকে সঠিকভাবে ইমপ্লিমেন্ট করা।

সেটআপ ইউটিলাইজেশান

সবার আগে AmorJibon এপ্লিকেশন প্রবেশ করুন এবং আপনার পছন্দের যেকোন AI মডেল যেমন Google এর Gemeni / OpenAi এর ChatGPT / Claude / DeepSeek / GorkAi অথবা Open Router হতে যেকোন AI মডেল এর যেকোন ভার্সন API হতে কানেক্ট করুন।

এখন আপনি যদি আপনার ভার্চুয়াল পার্সোনালিটি প্রোফাইল তৈরী করতে চান সেটিও করতে পারেন অথবা আপনি যদি চান আপনার জানাশোনা অমুক ব্যক্তি যেমন “আপনার বাবা/মা/বন্ধু/প্রেমিক/প্রেমিকা কিংবা আপনার পরিচিত যেকোন মানুষ” এর ডিজিটাল পার্সোনালিটি প্রোফাইল তৈরি করতে পারেন।

নতুন উত্তরাধিকার তৈরি

  1. “নতুন উত্তরাধিকার” বাটনে ক্লিক করুন >>> আপনি যার পার্সোনালিটি তৈরী করতে চাচ্ছেন তার নাম, জন্মসাল (এটি গুরুত্বপূর্ণ কেননা AI এই জন্মসাল হতে ঐ সময়ে কোন একটি নির্দিষ্ট রিজিওনের মানুষদের চিন্তাধারা কেমন ছিলো সেটা রিয়েলাইজ করতে পারে), পেশা, ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য (যেমন আসলে মানুষটি কেমন? তার স্বভাব চরিত্র, চিন্তা চেতনার ধরণ, মানসিকতা, জীবনবোধ, দর্শন ইত্যাদি) লিখুন, ভাষারীতি, হিউমার, কন্ঠস্বর (টোন ভাইব), ইমেইজ যুক্ত করুন।
  2. পরবর্তী ধাপে আপনি উক্ত ব্যক্তির জীবনদর্শন সম্পর্কে ডিটেইলস লিখুন (এই সকল ডাটা ব্যক্তির স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি ইত্যাদির সামগ্রিক ডাটা হিসেবে কাজ করবে), মূল্যবোধ, ধর্ম ও সমাজ সম্পর্কে চিন্তা চেতনা, গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি যা কিনা উক্ত ব্যক্তির স্পেসিফাইড মেমরী ফাংশন ইউনিট হিসেবে কাজ করবে।
  3. এখন সম্পর্ক অনুসারে ব্যক্তির আচরণগত তথ্য যোগ করুন। সম্পর্ক অনুযায়ী ভার্চুয়াল সত্ত্বা যেন সে অনুসারে রেসপন্স করতে পারে –
    • বাবা/মা [কতটা কঠোর বা নরম?]
    • সন্তান [বাবা/মার প্রতি আচরণ…]
    • প্রেমিক/প্রেমিকা [রোমান্টিক? যত্নশীল?]
    • বন্ধু [রসিক? আড্ডাবাজ?]
    • সহকর্মী [পেশাদার?]
  4. টাইম ক্যাপসুলে ব্যক্তির কোন স্পেসিফিক বার্তা কিংবা মেসেজ যা হতে পারে ভালোবাসা মূলক বাণী, উপদেশ, স্মৃতি ইত্যাদি >>> সংরক্ষণ করুন।
    [যদি আপনি চান আপনার উক্ত ব্যক্তিত্বের তথ্য লোকালি সেইভ রাখতে তাহলে সহজেই ইমপোর্ট করে রাখতে পারেন যা জেসন আকারে ডাটা সেইভ থাকবে – প্রয়োজন অনুসারে সেটি পরবর্তীতে ব্যবহার করতে পারেন।]

ইমপ্লিমেন্ট

এখন আপনার তৈরী করা ডিজিটাল পার্সোনালিটি সত্ত্বার সাথে কমিউনিকেশান শুরু করতে চ্যাট সেশানে “কথা বলুন” বাটনে ক্লিক করুন >>> এখন উক্ত ব্যক্তির সাথে ঠিক কোন পার্সপেক্টিভ হতে কনভারসেশান করতে চাচ্ছেন সেটি স্পেসিফাইড করুন যেমন বাবা / মা, সন্তান, প্রেমিক/প্রেমিকা, বন্ধু, সহকর্মী ঠিক যে মোডে কনভারসেশান চলবে সেটি সিলেক্ট করুন >>> এখন চ্যাট সেশানে আপনি ঐ সত্ত্বার সাথে যেকোনো বিষয়ে তার ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতির সাথে আবেগ তথা ইমোশন কানেক্ট করে কনভারসেশন চালিয়ে যেতে পারেন। এখানে Voice, TTS, VR ইত্যাদি ফাংশান পাবেন।

Virtual Reality (VR) স্পেসিফিকেশান

এতো বকবক পড়ার আগে চলুন একটি ভিডিও দেখে আসি…

এখানে একজন মা তার হারিয়ে ফেলা মৃত সন্তান’কে Virtual Reality এর মাধ্যমে ফিরে পাওয়ার প্রয়াসী; এখানে এনিমেশন ও গ্রাফিক্সের সাথে সাথে ইমোশন অ্যাটাচমেন্ট করতে যেমন ইন্টেলিজেন্স ব্যবহৃত হয়েছে যাতে ভার্চুয়াল হলেও যেন সত্যি সত্যিই সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে জীবন্ত স্পর্শ করার অনুভূতি গেইন হয় – তেমনি অমর জীবনে ভবিষ্যতে এমন VR Environment কে AI এর মাধ্যমে আরও অধিক ইফেক্টিভ’ভাবে ইমপ্লিমেন্ট করা যেতে পারে।

সত্যি সত্যিই কি অমরত্ব লাভ হলো?

এখন একটি বড় প্রশ্নের সামনে দাড়াতে হয় যে সত্যি সত্যিই কি অমর জীবনের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ হলো? বস্তুত আপনি যদি “অমরত্ব” মানে মনে করেন ফিজিক্যালি হাড্ডি চর্বিতে চামড়ার আস্তরণে আপনি আজীবন বেঁচে থাকবেন এবং সেটাই অমরত্ব তাহলে সেটি সম্ভবপর হয়নি। অন্যদিকে শতাব্দী ধরে চলে আসা জীবনের আবহে আমরা যেমন আমাদের নিজেদের শিক্ষা দীক্ষা, জ্ঞান, স্মৃতি ইত্যাদি আপন সন্তানের DNA এক্সটেনশনে রেখে যাই – সেটা হতেই বংশ পরম্পরায় আমাদের জিনের তথ্য বাহিত হয়ে আমরা বিকাশ লাভ করি সেক্ষেত্রে “অমর জীবন” হতে আপনি আক্ষরিকভাবেই ভার্চুয়ালি অমরত্ব লাভ করতে পারেন। আপনি যখন হয়তো এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবেন না তখনও আপনার জ্ঞান, বুদ্ধি, মানসিকতা ও মানবিকতা, চিন্তা চেতনা এই পৃথিবীতে আপনার উত্তরাধিকার Run করাবে – আপনি তখনও একজন ভার্চুয়াল সত্ত্বা হয়ে চিরজীব হয়ে বেঁচে থাকবেন।

সবিশেষ

মৃত্যু মানেই শেষ নয়; জীবনের মূল্য এটা নয় যে শত সহস্র বৎসর বেঁচে থাকা বরং ঠিক যতোটুকু সময় আমরা পৃথিবীতে জীবিত থাকি সেটা কতোটা ইফেক্টিভ ও ইফিসিয়েন্সি নিয়ে উপভোগ করতে পারি, সেই জীবনকালের সময়টাকে কাজে লাগাতে পারি এবং ভবিষ্যতের আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কতোটা কার্যকরী জ্ঞান, বুদ্ধি ও মানবিকতা রেখে যেতে পারি তাতেই পরম স্বার্থকতা – এক্ষেত্রে অমর জীবন আপনাকে মৃত্যুর পরও অমর ও সক্রিয় করে রাখবে এই সুন্দর পৃথিবীতে….

সকলের জন্য নিরন্তর শুভকামনা রইলো।

মন্তব্য করুন