গত মাসে আমার এক পরিচিতজনের ফোনে একটা কল এল। ওপাশ থেকে খুব ভদ্র গলায় একজন নিজেকে বিকাশের কাস্টমার কেয়ার বলে পরিচয় দিল। বলল, আপনার অ্যাকাউন্টে একটা সমস্যা হয়েছে, বন্ধ হয়ে যাবে, এখনই একটা কোড পাঠাচ্ছি, সেটা বলুন। ভাগ্য ভালো, উনি কোডটা বলেননি — ফোন কেটে দিয়েছিলেন। পরে জানা গেল, এটা ছিল একদম ক্লাসিক OTP স্ক্যাম।

OTP মানে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড — এই কোডটাই আসলে আপনার অ্যাকাউন্টের চাবি। যে একবার কোডটা পেয়ে যাবে, সে আপনার টাকা সরাতে পারবে, আপনার হোয়াটসঅ্যাপ পর্যন্ত দখল করে নিতে পারবে। আর স্ক্যামাররা ঠিক এই কোডটার জন্যই ফোন করে।

চিনবেন যেভাবে, প্রথম লক্ষণ: কেউ ফোনে OTP বা PIN চাইলেই বুঝবেন এটা প্রতারণা। কোনো আসল ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা কোম্পানি কখনো ফোনে আপনার OTP বা PIN চায় না। এটা তাদের নিয়মের বাইরে। দ্বিতীয় লক্ষণ: তাড়াহুড়ো। ওরা বলবে, এখনই না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ, টাকা আটকে যাবে, পুলিশ আসবে — এই ভয় দেখিয়ে ভাবার সময় দেয় না। তৃতীয় লক্ষণ: ভুল করে পাঠিয়েছি গল্পটা। কেউ বলবে, ভুল করে আপনার নম্বরে কোড চলে গেছে, একটু ফরোয়ার্ড করে দিন। ওই কোড আসলে আপনার অ্যাকাউন্টেরই কোড, যেটা ওরা নিজেরা ট্রিগার করেছে। আর কলার আইডিতে বিকাশ বা ব্যাংকের নাম দেখালেও ভরসা করবেন না, নম্বর নকল করা আজকাল খুব সহজ।

সবচেয়ে নিরাপদ নিয়মটা আমি নিজে মেনে চলি: আমাকে কেউ অ্যাকাউন্ট নিয়ে ফোন করলে আমি কথা বাড়াই না। ফোন কেটে অ্যাপের ভেতরে দেওয়া অফিসিয়াল হেল্পলাইন নম্বরে নিজে কল করি। বিকাশের ক্ষেত্রে সেটা 16247। আর সত্যিকারের কোনো সমস্যা থাকলে অফিসিয়াল চ্যানেলেই সেটা জানা যাবে।

আর যদি ভুল করে কোড বলে ফেলে থাকেন, দেরি করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে হেল্পলাইনে কল করে অ্যাকাউন্ট লক করুন, PIN বদলে ফেলুন, আর লেনদেনের হিস্ট্রি চেক করুন। লজ্জা পেয়ে চুপ থাকলে ক্ষতিটাই বাড়বে। এই পোস্টটা পরিবারের বয়স্কদের সঙ্গে শেয়ার করে রাখুন — ওরাই এই স্ক্যামের সবচেয়ে বড় টার্গেট।