গুগল সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে যখন আমরা জানতে চাইবো কিংবা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে যখন আপনি জেনে নিতে চাইবেন, তখন একেবারেই শুরুর দিকে যে বিষয়টি সম্পর্কে আমাদেরকে জেনে নিতে হয় সেটা হল, সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করে?

সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করে?

কিভাবে কাজ করে এই বিষয়টিকে বুঝার জন্য আমরা চাই যে, এই টপিকে সর্বমোট তিনটি ধাপে ভাগ করতে পারি। আর এই তিনটি ধাপ হল;

  • সার্চ ইঞ্জিন ক্রোলিং।
  • ইনডেক্সিং।
  • রেংকিং কিংবা রেজাল্ট দেখানো।

এবার চলুন এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে আমরা, মোটামুটি ডিটেইলে জেনে নেই।

ক্রলিং (Crawling)

যখনই যে কেউ কোন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে কিংবা সেই ওয়েব সাইটটি আপডেট করে, তখন সে ওয়েবসাইট ম্যানুয়ালি স্ক্যান করা কি সম্ভব? অর্থাৎ কেউ একজন ওয়েবসাইটি ভিজিট করবে এবং তারপরে সেটিকে ম্যানুয়াল স্ক্যান করবে? বিষয়টি আসলে এতটা সহজ না কিংবা প্রায় সম্ভব।

সার্চ ইঞ্জিন ক্যারিসমা

সার্চ ইঞ্জিনের বট বা “স্পাইডার” ইন্টারনেটে হাজার হাজার ওয়েবসাইট স্ক্যান করে বেড়ায়। তারা নতুন পেজ খুঁজে বের করে এবং আগের পেজ আপডেট হয়েছে কি না তা খোঁজে। এবং তারপরে তাদের যে সমস্ত ক্রলিং রুলস রয়েছে সেগুলো এপ্লাই করে এবং এটা ডিসাইড করেছে পেইজটিকে ইনডেক্স করা প্রয়োজন নাকি প্রয়োজন নয়।

উদাহরণ: গুগলের একটি বট আপনার সাইটের হোমপেজে গিয়ে দেখলো সেখানে নতুন একটি ব্লগ পোস্ট এসেছে, সে তখন সেটি সংগ্রহ করে। এবং এই কাজটি করার জন্য অবশ্যই তারা এডভান্স মেকানিজম ব্যবহার করে থাকে, যা তারা কখনোই পরিপূর্ণভাবে রিভিল করে না।

আর এটিই হল ক্রলিং। যার মাধ্যমে গুগল, নতুন পেজ গুলো খুজে নেয় এবং একই সাথে কোন পেজ আপডেট হয়েছে কিনা সেটি বুঝে নেয়।

ইনডেক্সিং (Indexing)

যখন সার্চ ইঞ্জিন কোন একটি পেজ কে ক্রল করে, এর পরবর্তী ধাপে সার্চ ইঞ্জিন কে এই বিষয়গুলোকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়। এবং তারপরে পরবর্তী যে ধাপ রয়েছে সেটিতে পৌঁছাতে হয়।

ক্রলিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে সার্চ ইঞ্জিন একটি বিশাল ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে। প্রতিটি পেজের

  • টাইটেল
  • হেডিং
  • কীওয়ার্ড
  • কনটেন্ট
  • ছবি

সবকিছু বিশ্লেষণ করে সংরক্ষণ করে।

উদাহরণ: যদি আপনার পেজে লেখা থাকে “সেরা হোটেল ঢাকায়”, তাহলে সার্চ ইঞ্জিন সেটিকে “ঢাকার সেরা হোটেল” সম্পর্কিত রেজাল্টে রাখতে পারে। যদি আপনি পেজটিকে পুরোপুরি ভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি করে গড়ে তুলতে পারেন।

সেজন্য, যে কোন ওয়েবসাইটকে রেংকিং এ দেখানোর জন্য আমাদেরকে অবশ্যই পেজকে ভালোভাবে, অন পেজ এসইও টেকনিক ফলো করে গুছাতে হয়, এবং তারপরে যখন আমরা আরো ভালোভাবে অফ পেইজ এসইও করতে পারি, তখন সেটি সার্চ রেজাল্টে দেখানো শুরু করে।

র‍্যাঙ্কিং ও রেজাল্ট দেখানো (Ranking & Retrieval)

কেউ কিছু সার্চ করলে, সার্চ ইঞ্জিন ইনডেক্স থেকে প্রাসঙ্গিক পেজগুলো বের করে, তারপর অ্যালগরিদম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো বা প্রাসঙ্গিক রেজাল্টগুলো উপরে দেখায়।

এখানে গুরুত্ব পায়:

  • পেজের প্রাসঙ্গিকতা (relevance)
  • কনটেন্টের মান (content quality)
  • লোডিং স্পিড
  • ব্যাকলিংক (অন্যান্য সাইটের রেফারেন্স)
  • মোবাইল ফ্রেন্ডলি কি না
  • ইউজার এক্সপেরিয়েন্স (UX)

যে সমস্ত পেজ এ সমস্ত বিষয়ে এগিয়ে থাকবে সেগুলো রেংকিংয়ে ভালো প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ গুগলের অ্যালগরিদম যে সমস্ত পেইজ ভালোভাবে ফলো করতে পারবে সেগুলোই এগিয়ে থাকবে। বিষয়টি একেবারেই সহজ, পানির মত সহজ।

তাহলে আজকে এই পর্যন্ত, আশা করি গুগল কিভাবে কাজ করে তার সংক্ষিপ্ত ডিটেলস সম্পর্কে জেনে নিতে পেরেছেন, যেগুলো মোটামুটি ভাবে জেনে নিলে আপনি সার্চ ইন্জিনের কাজ করার সক্ষমতা সম্পর্কে খানিকটা ধারনা নিতে পেরেছেন বলে আশা করা যায়৷