অনেকেই ব্যবসায়ের প্রয়োজন, ইউটিউব বা ফেসবুকে পেজের মনিটাইজেশন অন করা, কিংবা পরিবারের সঞ্চয়পত্র কেনার উদ্দেশ্যে ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট তৈরি করে থাকেন। তবে পরবর্তী সময়ে কাজের প্রয়োজন শেষ হলেও টিন সার্টিফিকেট চালু থাকার কারণে প্রতি বছর জিরো রিটার্ন জমা দিতে হয় এবং নানা ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।

​আপনি যদি আপনার ই-টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে চান, তবে খুব সহজেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদনের মাধ্যমে তা বাতিল করতে পারবেন।

ই-টিন সার্টিফিকেট কি অনলাইনে বাতিল করা সম্ভব?

​না, ই-টিন সার্টিফিকেট অনলাইনে বাতিল করা সম্ভব নয়।

টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার জন্য আপনাকে অফলাইনে সার্কেল অফিসে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে বাতিল করতে হবে। এজন্য প্রথমে আপনাকে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরন করতে হবে  টিন সার্টিফিকেট বাতিলের ফরম

​👉 যেভাবে ব্যবহার করবেন:

১. উপরের লিংকে ক্লিক করে ফরম জেনারেটর পেজে প্রবেশ করুন।

২. ফরমে আপনার তারিখ, কর অঞ্চল, ই-টিন নম্বর, নাম, পিতা/স্বামীর নাম, ঠিকানা ও বাতিলের কারণ লিখে দিন। টিন সার্টিফিকেটে যা যা দেয়া আছে।

৩. লাইভ প্রিভিউ দেখে “জমা দিন ও ইমেজ ডাউনলোড করুন” বাটনে ক্লিক করলেই আবেদনপত্রটি আপনার ডিভাইসে ডাউনলোড হয়ে যাবে।

৪. এরপর এটি প্রিন্ট করে স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জুড়ে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে জমা দিলেই কাজ শেষ!

আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণকসমূহ:

১. ই-টিন সার্টিফিকেট: ই-টিন সার্টিফিকেটের মূল কপি বা প্রিন্ট কপি। 

২. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। 

৩. রিটার্ন জমার প্রমাণ: বিগত ৩ বছরের জিরো রিটার্ন বা রিটার্ন জমার প্রাপ্তিস্বীকার পত্র (Acknowledgment Receipt)।

৪. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র (কারণ সাপেক্ষে):

  • করদাতা মারা গেলে: ডেথ সার্টিফিকেট বা মৃত্যু সনদ।

  • ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে: ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের অফিসিয়াল প্রমাণপত্র বা ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের কপি।

  • ভুলে একাধিক টিন খোলা হলে: অন্য সক্রিয় বা মূল টিন সার্টিফিকেটের কপি।

যেসব কারণে ই-টিন সার্টিফিকেট বাতিল করা যায়

​জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করা যায়:

  • ​ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া: যদি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্তমানে কোনো আয় না থাকে।

  • ​ভুলে একাধিক টিন তৈরি হলে: ভুলবশত একাধিক টিন একাউন্ট খোলা হয়ে থাকলে অতিরিক্তটি বাতিল করা যায়।

  • ​করযোগ্য সীমার নিচে আয়: টানা ৩ বছর যদি আপনার আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকে এবং ভবিষ্যতে আয় বাড়ার সম্ভাবনা না থাকে।

  • ​কাজের প্রয়োজন শেষ হওয়া: সঞ্চয়পত্র, জমি কেনাবেচা বা ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদির জন্য টিন করে থাকলে এবং বর্তমানে সেই প্রয়োজন না থাকলে।

  • ​স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে যাওয়া: স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে গেলে নিয়মিত নোটিশ বা ঝামেলা এড়াতে টিন বাতিল করা যায়।

  • ​করদাতার মৃত্যু হলে: মূল করদাতার মৃত্যু হলে উপযুক্ত প্রমাণের মাধ্যমে টিন বাতিল করা সম্ভব।

​আবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী প্রক্রিয়া

​১. কম্পিউটারে আবেদনপত্র প্রস্তুত ও প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় সনদে স্বাক্ষর করুন।

২. আপনার সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল বা ট্যাক্স সার্কেল অফিসে গিয়ে আবেদনটি জমা দিন।

৩. রাজস্ব কর্মকর্তা আপনার প্রদত্ত তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করবেন।

৪. সমস্ত তথ্য সঠিক থাকলে কর্তৃপক্ষ আপনার টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবে এবং চিঠির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হবে।