গত সপ্তাহে এক ট্যুরিস্ট ভাই ফোন দিয়ে প্রায় কান্না জুড়ে দিলেন — “ভাই, সেন্ট মার্টিনে নেমে দেখি ফোনে একটাও সিগন্যাল নাই, ফ্যামিলির সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারতেছি না।”

পেশায় ট্যুর অপারেটর হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শত শত ট্যুরে হাজারো পর্যটকের সাথে থেকে একটা জিনিস খেয়াল করেছি — মানুষ ব্যাগে ওষুধ রাখে, ক্যাশ রাখে, কিন্তু ফোনের ডিজিটাল প্রস্তুতি নিয়ে একদম ভাবে না। অথচ দ্বীপে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে এই নিয়েই।

আজ সেই অভিজ্ঞতাগুলোই শেয়ার করছি।

কোন অপারেটরের সিগন্যাল কাজ করে?

আমার অভিজ্ঞতায়:

• গ্রামীণফোন: সবচেয়ে ভালো কভারেজ, তবে পিক সিজনে কনজেশন হয়

• রবি: মাঝারি, জেটি আর বাজার এলাকায় ভালো

• বাংলালিংক: দুর্বল, অনেক জায়গায় ডেড

• টেলিটক: সারপ্রাইজিংলি কিছু রিমোট পয়েন্টে কাজ করে

তবে ইন্টারনেট স্পিড নিয়ে আশা ছেড়ে দিন। 4G আছে নামে, কাজে মনে হবে 2G। ভিডিও কল প্রায় অসম্ভব ধরে নিলেই ভালো।

যাওয়ার আগে ফোনে যা সেট করে নেবেন

১. Google Maps-এ সেন্ট মার্টিন area টা offline download করে নিন। নেট না পেলেও GPS কাজ করবে।

২. রিসোর্ট, গাইড, শিপের হেল্পলাইন নাম্বার contact-এ save করুন, screenshot-ও তুলে নিন।

৩. NID-এর ছবি ফোনে রাখুন — শিপে ওঠার আগে লাগবে।

৪. bKash/Nagad login রাখুন, তবে মনে রাখবেন — দ্বীপে ক্যাশই রাজা। কোনো ATM নেই।

পাওয়ার নিয়ে বাস্তবতা

দ্বীপে বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু অনেক রিসোর্টে দিনের বেলা জেনারেটর বন্ধ থাকে। তাই ২০,০০০ mAh-এর উপরে পাওয়ার ব্যাংক রাখুন। ফোন, ক্যামেরা — সব এর উপরই চলবে।

বুকিং নিয়ে একটা সতর্কতা

আগে মানুষ টেকনাফ ঘাটে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনত। এখন অনেকে অনলাইনে বুক করে। তবে সাবধান — ফেসবুকে অসংখ্য ফেক পেজ advance নিয়ে উধাও হয়ে যায়। বুকিংয়ের আগে দেখুন প্রতিষ্ঠানটা রেজিস্টার্ড কি না, কত বছর ধরে চলছে, review আছে কি না।

শেষ কথা

সেন্ট মার্টিন আসলে ডিজিটাল ডিটক্সের জায়গা। সিগন্যাল কম পাবেন — এটাকে সমস্যা না ভেবে সুযোগ হিসেবে নিন। সমুদ্রের সামনে বসে থাকুন, ফোনটা পকেটেই থাক।

আমি পেশায় ট্যুর অপারেটর, তাই এই অভিজ্ঞতাগুলো নিজে থেকেই জমেছে। প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে করুন, উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।