হ্যালো বন্ধুরা, গুগল ক্রোমের পর ফায়ারফক্স হলো দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রাইভেসিবান্ধব ব্রাউজার। ফায়ারফক্সের পারফরম্যান্স আরও চমৎকার করার জন্য এর অ্যাড-অন বা এক্সটেনশন স্টোরে হাজারো অপশন রয়েছে। তবে সব এক্সটেনশন কিন্তু নিরাপদ নয়।

আজকের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে ফায়ারফক্সের এমন ২০টি এক্সটেনশন শেয়ার করব, যেগুলো মজিলা (Mozilla) দ্বারা ভেরিফাইড (Recommended Badge প্রাপ্ত), সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আপনার নিত্যদিনের ব্রাউজিংকে অনেক সহজ করে তুলবে। কাজের সুবিধার্থে এগুলোকে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সাজানো হলো:

. uBlock Origin: এটি কেবল একটি অ্যাড-ব্লকার নয়, এটি একটি দক্ষ কন্টেন্ট ব্লকার। এটি কম্পিউটারের র‍্যাম বা প্রসেসর খুব কম খরচ করে এবং বিরক্তিকর সব বিজ্ঞাপন ও ট্র্যাকার ব্লক করে পেজ লোডিং স্পিড বাড়িয়ে দেয়।

. Firefox Multi-Account Containers: ফায়ারফক্সের নিজস্ব অফিশিয়াল এক্সটেনশন। এর মাধ্যমে আপনি একই ব্রাউজারে আলাদা কন্টেইনার বা ট্যাবে একই ওয়েবসাইটের একাধিক অ্যাকাউন্ট (যেমন: দুটি আলাদা ফেসবুক বা জিমেইল) লগইন করে রাখতে পারবেন, একটির ডেটা অন্যটিতে প্রবেশ করবে না।

. Bitwarden: একটি অত্যন্ত নিরাপদ, ওপেন-সোর্স এবং ফ্রি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার। আপনার সব ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড এখানে এনক্রিপ্টেড অবস্থায় সেভ থাকবে, যা হ্যাকিংয়ের হাত থেকে আপনার অ্যাকাউন্টগুলোকে বাঁচাবে।

. Privacy Badger: অলাভজনক সংস্থা EFF-এর তৈরি এই এক্সটেনশনটি ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা অদৃশ্য ট্র্যাকারগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিনে ফেলে এবং সেগুলোকে আপনার ডেটা চুরি করা থেকে ব্লক করে।

. Cookie AutoDelete: আপনি যখনই ব্রাউজারের কোনো ট্যাব বন্ধ করবেন, এই এক্সটেনশনটি ওই ওয়েবসাইটের রেখে যাওয়া সব কুকিজ (Cookies) সাথে সাথে ডিলিট করে দেবে। ফলে কেউ আপনাকে ট্র্যাক করতে পারবে না।

. ClearURLs: আমরা যখন ইন্টারনেট থেকে কোনো লিংক কপি করি, তার শেষে অনেক ট্র্যাকিং কোড (যেমন: ?utm_source=...) যুক্ত থাকে। এই এক্সটেনশনটি লিংক থেকে সেই ময়লা বা ট্র্যাকিং অংশটুকু কেটে একদম ফ্রেশ ও ছোট লিংক তৈরি করে দেয়।

প্রোডাক্টিভিটি ও নিত্যদিনের কাজ

. Dark Reader: যেসব ওয়েবসাইটে নিজস্ব কোনো নাইট মোড বা ডার্ক থিম নেই, এটি সেই সব ওয়েবসাইটের সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডকে চোখের জন্য আরামদায়ক ডার্ক মোডে রূপান্তর করে। রাতে ব্রাউজিংয়ের জন্য এটি আবশ্যক।

. TWP – Translate Web Pages: গুগল ক্রোমের মতো এক ক্লিকে পুরো ওয়েবপেজকে নিজের ভাষায় (যেমন বাংলায়) অনুবাদ করার জন্য এটি সেরা ওপেন-সোর্স এক্সটেনশন।

. LanguageTool: এটি একটি চমৎকার প্রাইভেসিবান্ধব রাইটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট। ইংরেজিতে মেইল বা পোস্ট লেখার সময় ব্যাকরণ (Grammar) এবং বানানের ভুলগুলো এটি রিয়েল-টাইমে সংশোধন করে দেয়।

১০. SingleFile: আপনি যদি কোনো দরকারি ওয়েবপেজ বা আর্টিকেল অফলাইনে পড়ার জন্য সেভ করতে চান, তবে এটি পুরো পেজটিকে (ছবি ও স্টাইলসহ) একটি মাত্র একক HTML ফাইলে রূপান্তর করে সেভ করে নেয়।

১১. Tab Session Manager: আপনার ব্রাউজারে একসাথে অনেকগুলো ট্যাব ওপেন রাখার অভ্যাস থাকলে এটি আপনার জন্য লাইফসেভার। এটি আপনার সমস্ত ওপেন ট্যাবের সেশন সেভ করে রাখে, যাতে ব্রাউজার ক্র্যাশ করলেও সব ট্যাব এক ক্লিকে ফিরিয়ে আনা যায়।

১২. Absolute Enable Right Click & Copy: অনেক ওয়েবসাইটে মাউসের রাইট ক্লিক করা বা টেক্সট সিলেক্ট করে কপি করা ব্লক করা থাকে। এই এক্সটেনশনটি চালু করলে সেই সব সাইট থেকে অনায়াসে তথ্য কপি করা যায়।

মিডিয়া ও বিনোদন

১৩. SponsorBlock for YouTube: ইউটিউব ভিডিও দেখার সময় ভেতরের বিরক্তিকর স্পন্সরড অংশ, ইন্ট্রো বা সাবস্ক্রাইব করার অনুরোধের অংশগুলো এটি ক্রাউডসোর্সিংয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্কিপ (Skip) করে দেয়।

১৪. Enhancer for YouTube: ইউটিউব প্রেমীদের জন্য এটি একটি অল-ইন-ওয়ান টুল। এটি দিয়ে ভিডিওর ভলিউম মাউসের স্ক্রোল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা, সিনেমা মোড অন করা এবং ভিডিওর কোয়ালিটি আগে থেকে ফিক্সড করে রাখা যায়।

১৫. Return YouTube Dislike: ইউটিউব অফিশিয়ালি ভিডিওর ডিসলাইক কাউন্ট লুকিয়ে ফেলার পর, এই এক্সটেনশনটি পুনরায় ভিডিওর আসল লাইক ও ডিসলাইকের সংখ্যা স্ক্রিনে ফিরিয়ে আনে। এর ফলে ভিডিওটি কাজের নাকি ফালতু, তা সহজেই বোঝা যায়।

অ্যাডভান্সড ও টেকনিক্যাল টুলস

১৬. Wappalyzer: বিশেষ করে ডেভেলপার এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য এটি দারুণ কাজের। যেকোনো ওয়েবসাইট ওপেন করে এই এক্সটেনশনে ক্লিক করলেই দেখা যাবে সাইটটি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, সিএমএস (যেমন: WordPress) বা ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

১৭. Violentmonkey: এটি একটি ওপেন-সোর্স ইউজার-স্ক্রিপ্ট ম্যানেজার। এর মাধ্যমে আপনি কাস্টম জাভাস্ক্রিপ্ট কোড রান করিয়ে যেকোনো ওয়েবসাইটের কার্যক্ষমতা নিজের মতো পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।

১৮. Buster: Captcha Solver for Humans: ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইটে ঢোকার সময় যে বিরক্তিকর ইমেজ ক্যাপচা (CAPTCHA) আসে, এটি সেগুলোকে অডিও রেকগনিশনের মাধ্যমে নিজে থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান করে দেয়।

১৯. LocalCDN / Decentraleyes: ওয়েবসাইট লোড হওয়ার সময় বিভিন্ন ফাইল থার্ড-পার্টি সিডিএন (CDN) থেকে ডাউনলোড না করে আপনার কম্পিউটারের লোকাল লাইব্রেরি থেকে লোড করায়। এতে ট্র্যাকিং যেমন কমে, তেমনি পেজ লোড হয় সুপারফাস্ট।

২০. User-Agent Switcher and Manager: এই টুলটি দিয়ে আপনি আপনার ফায়াফক্স ব্রাউজারকে অন্য যেকোনো ব্রাউজার (যেমন: Chrome, Safari) বা অপারেটিং সিস্টেমের (যেমন: Android, iPhone) মতো নকল পরিচয় দিতে পারবেন। অনেক সাইট যা শুধু ফোনে খোলে, তা পিসিতে খোলার জন্য এটি বেশ কাজের।

একটি ছোট টিপ: ফায়ারফক্স এক্সটেনশন স্টোরে যে এক্সটেনশনগুলোর পাশে একটি সবুজ রঙের ট্রফি বা ‘Recommended’ ব্যাজ থাকে, সেগুলো মজিলা টিম নিজে কোড রিভিউ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাই এক্সটেনশন ব্যবহারের সময় সবসময় এই ব্যাজটি দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এই ২০টি এক্সটেনশনের মধ্যে কোনটি আপনার সবচেয়ে বেশি পছন্দ হলো? কমেন্ট করে আমাদের জানান! ধন্যবাদ।