[হ্যাকিং লার্নিং – ০৯] : USB Killer : আপনার শত্রুর পিসি বা মোবাইল এক্কেবারে ফিনিশ!

হ্যাকিং লার্নিং

লেখটির শিরোনাম কিছুটা চমকপ্রদ হলেও বাস্তবিকভাবে এটি বেশ ভয়ংকর একটি সাইবার টুল – সাধারণত USB Killer দেখতে একটি নরমাল পেনড্রাইভ এর মতোই হয় তবে সেটি এক প্রকার ইলেকট্রনিক্স হাই ভোল্টেজ ফ্ল্যাশার। এটি ভিক্টিমের পিসিতে লাগানো মাত্রই ভিক্টিমের পিসি পুরোটাই ক্র্যাশ করবে (টোটাল ইলেকট্রিক সার্কিট শর্ট সার্কিট হবে এবং ডিভাইস ডেস্ট্রয় হবে)।

চলুন একটা USB Killer ডিভাইস তৈরী করি…

USB Killer Pendrive

বাজারে USB Killer আপনি কিনতে পাবেন – সেটা আপনার নিজেকেই মোডিফাই করে বানিয়ে নিতে হবে। এটার জন্য আপনি ৩০/৩৫ টাকা দামের পেনড্রাইভ সদৃশ্য একটি কার্ড রিডার কিনতে হবে। এরপর কার্ড রিডারের সার্কিটের পরিবর্তে আপনাকে আপনার ডিজাইন করা মিনি সার্কিট বোর্ড’টি রিপ্লেস করতে হবে।
ইলেকট্রিক হাই ভোল্টেজ ফ্ল্যাশার তৈরীতে আমাদের যা যা কম্পোনেন্ট লাগবে:

কম্পোনেন্ট

(১) PWM Controller – IC LM3481QMM/NOPB [ফ্লাইব্যাক কনভার্টার নিয়ন্ত্রণ – MOSFET সুইচিং এবং ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ]
(২) N-Channel – MOSFET TPH1R403NL [হাই-স্পিড সুইচিং (ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি সাইড)]
(৩) Flyback Transformer – TTRN-060S-013-T [5V থেকে হাই-ভোল্টেজ (240V) স্টেপ-আপ]
(৪) Fast Recovery Diode – ES2J_C5390 [হাই-ভোল্টেজ রেক্টিফিকেশন (240V DC আউটপুট)]
(৫) USB Type-A Male [5V DC ইনপুট]
(৬) Current Sense Resistor – 0.025Ω [MOSFET-এর কারেন্ট সেন্সিং এর জন্য]
(৭) Resistor – 300kΩ [ফিডব্যাক ভোল্টেজ ডিভাইডার]
(৮) Resistor – 40.2kΩ [ফ্রিকোয়েন্সি/কম্পেনসেশন সেটিং]
(৯) Resistor – 300kΩ [ফিডব্যাক ভোল্টেজ ডিভাইডার]
(১০) Resistor – 2kΩ [ফিডব্যাক লুপ]
(১১) Capacitor -1µF [IC-র ডিকাপলিং]
(১২) Capacitor – 22nF [কম্পেনসেশন নেটওয়ার্ক]
(১৩) Capacitor – 22µF [ইনপুট ফিল্টার]
(১৪) Capacitor – 100nF [ইনপুট ফিল্টার]
(১৫) Capacitor – 10nF [স্নাবার/ফিল্টার]
(১৬) Capacitor – 1µF [ফিল্টার]
(১৭) Capacitor – 10µF [ফিল্টার]
পিন ডায়াগ্রাম

এখন এই সকল কম্পোনেন্ট নিয়ে সার্কিট ডায়াগ্রাম হবে নিচের মতো (ফ্রন্ট + ব্যাক সাইট) :

সার্কিট ডায়াগ্রাম

ইউটিলিটি

যদিও এটি দেখতে সাধারণ পেনড্রাইভের মতোই থাকবে তবে কম্পিউটারের USB পোর্টে ঢোকালে এটি পোর্ট থেকে সাধারণ ৫ ভোল্ট ডিসি বিদ্যুৎ সার্কিটে ইনপুট নিবে এরপর ভেতরের সার্কিট সেই ৫ ভোল্ট বিদ্যুৎকে খুব দ্রুত গতিতে বারবার অন-অফ (সুইচিং) করতে থাকে। এতে বিদ্যুতের প্রবাহ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ওঠানামা করতে শুরু করে (অনেকটা অল্টারনেট কারেন্ট বা AC এর মতোই) তাতে এই ওঠানামা করা বিদ্যুৎকে একটি কয়েল বা ট্রান্সফরমারের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয় যা ৫ ভোল্ট থেকে ২৪০ ভোল্টে রূপান্তরিত হয়। এরপর এই উচ্চ ভোল্টেজকে ভেতরের ছোট ছোট ক্যাপাসিটরে (এজ লাইক ব্যাটারির) জমা করা হয়। কনট্রোলার সার্কিট মনিটর করে যাতে ভোল্টেজ ঠিক ২৪০ ভোল্ট অবধি রিচ করে। এরপর যখন ভিক্টিম কম্পিউটারের ইনসার্ট করা হয় তখন কম্পিউটারের ডেটা লাইন (D+ / D-) যদিও মাত্র ৩ থেকে ৫ ভোল্টের জন্য তৈরি হয় কিন্তু এই ডিভাইসটি চার্জ জমা শেষে হঠাৎ করে সেই ২৪০ ভোল্ট একসাথে কম্পিউটারের ডেটা লাইনে আউটপুট দেয় ফলে এই হঠাৎ ২৪০ ভোল্টে কম্পিউটারের ভেতরের চিপ বা মাদারবোর্ডের সার্কিট সাথে সাথে পুড়ে যায় এবং কম্পিউটার স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে পড়ে।

সম্পূর্ণ প্রজেক্ট (পিসিবি ডিজাইন সহ) পেতে পারেন গিটহাব রিপো (ওপেন সোর্স) : https://github.com/HumayunShariarHimu/USB-KilleR/tree/main/USB-KilleR-01

ইউটিলাইজেশান

এখন কথা হচ্ছে এই USB কিলার তো আর ভিক্টিম সেধে সেধে তার কম্পিউটারে ইনসার্ট করবে না তাইনা?!
তাহলে উপায়?
এখানে হ্যাকিং এর মূল ফান্ডামেন্ট “সোস্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং” কাজে লাগাতে হবে। সাধারণত একটি চিঠি যেমন যে কারোর কাছেই দেওয়া হউক না কেন সে সেটা খুলে দেখবে তেমনি ভিক্টিম’কে যদি বলা হয় “এটির ভেতর তোমার সব গোপন রেকর্ড ডাটা আছে – এটা একটি কপি আর অরিজিনালটা আমার কাছে আছে” তাহলে ভয়ে হউক কিংব কৌতূহলে সে অবশ্যই এটা তার কম্পিউটারের ঢুকিয়ে দেখবে যে আসলে কি আছে? আর যখনই একবার ঢোকাবে ততোক্ষণে ভিক্টিম এর পিসি বুমমম!!!

মোবাইল ইউটিলাইজেশান

মোবাইলের ক্ষেত্রে যদি সরাসরি পিসির মতো USB পোর্ট নেই তথাপি এখনকার সিংহভাগ মোবাইল অটোম্যাটিক OTG রেসপন্সিভ (কিছু কিছু মোবাইলে অবশ্য ম্যানুয়ালী OTG কানেকশন ON করতে হয়) – তবে যাই হউক উপরের সোস্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং একইভাবে কাজে লাগিয়ে ভিক্টিমের মোবাইল ক্র্যাশ করানোও সম্ভপর।

সবিশেষ হ্যাকিং হউক প্যাশান – ক্ষতির উপায় নয়; সেই শুভকামনা রইলো।
ওয়েব আমন্ত্রণ রইলো : PsychoTech