প্লে স্টোরে “Free VPN” লিখে সার্চ দিলে হাজারটা অ্যাপ আসে। কিন্তু একটা সহজ প্রশ্ন কখনো করেছেন — VPN সার্ভার চালাতে তো টাকা লাগে, তাহলে এই ফ্রি অ্যাপগুলো টাকা কামায় কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তরটা জানলেই ফ্রি VPN নিয়ে অর্ধেক সন্দেহ দূর হয়ে যাবে।

সত্যিটা হলো, অনেক ফ্রি VPN আপনার ব্রাউজিং ডেটা লগ করে বিজ্ঞাপন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। ভাবুন তো — প্রাইভেসির জন্য VPN নিলেন, অথচ আপনার তথ্যই হয়ে গেল তাদের পণ্য। শুধু দেখার মানুষটা বদলালো, নজরদারি বন্ধ হলো না। এটাই ফ্রি VPN-এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

এর বাইরেও সমস্যা কম নয়। ফ্রি সার্ভারে হাজার হাজার ইউজার একসাথে ঢোকে, ফলে স্পিড থাকে কচ্ছপের মতো। মাসে ডেটা ক্যাপ থাকে — সাধারণত ৫০০MB থেকে ১GB। সার্ভার লোকেশন থাকে হাতেগোনা ১-২টা। আর কিছু অ্যাপ তো দুর্বল এনক্রিপশন ব্যবহার করে বা আসল IP লিক করে ফেলে — মানে সুরক্ষার ভান, ভেতরে ফাঁকা। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ফ্রি VPN অ্যাপে ম্যালওয়্যার বা ট্রাফিক লিকের সমস্যা পাওয়া গেছে।

তাহলে কি ফ্রি VPN একদমই ব্যবহার করা যাবে না? না, ব্যাপারটা অতটাও কালো-সাদা নয়।

পাবলিক Wi-Fi-তে বসে হালকা ব্রাউজিং বা নিউজ পড়ার মতো কম ঝুঁকির কাজে ফ্রি VPN চলতে পারে — তবে শর্ত একটাই, নামকরা সিকিউরিটি কোম্পানির ফ্রি টিয়ার হতে হবে। যেমন Proton VPN বা Windscribe-এর ফ্রি প্ল্যান — এগুলো তাদের পেইড সার্ভিসেরই সীমিত সংস্করণ, ব্যবসার মডেল পরিষ্কার। VPN কেমন জিনিস, টেস্ট করে দেখতেও ফ্রি টিয়ার ঠিক আছে।

কিন্তু ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, বা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে লগইনের সময় ফ্রি VPN-এর ধারেকাছেও যাবেন না। আর যে অ্যাপ দাবি করে “সম্পূর্ণ ফ্রি, আনলিমিটেড” অথচ কোনো পেইড প্ল্যানই নেই — সেটা দেখলেই সাবধান হোন। ব্যবসার মডেল পরিষ্কার না থাকাটাই সবচেয়ে বড় রেড ফ্ল্যাগ।

আমি নিজে একসময় পাবলিক Wi-Fi-তে ফ্রি VPN ব্যবহার করতাম, পরে এই ব্যাপারগুলো জেনে সতর্ক হয়েছি। ফ্রি VPN মানেই খারাপ নয় — কিন্তু চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করার জিনিসও নয়।