মুখ কি মনের কথা বলে?

মুখ কি সত্যিই মনের কথা বলে?

সচরাচর বোধহয় “না” – বরং আমাদের মুখ [কথা বলা মুখ] যে কথা বলে তাতে মনে থাকে অন্যকিছু…
সুতরাং প্রায় সময়েই আমরা মুখে যে কথা বলি সেটাই আসলে আমাদের মনের কথা হয়না।
তবুও আমাদের মুখ [মুখাবয়ব] তে যে আকার ইঙ্গিত এবং ভাবগত আচরণ ফুটে থাকে সুপ্তভাবে সেটাই আমাদের মনের অনেকাংশের ভাব ফুটিয়ে তুলে।
এই যেমন….

ফ্যাক্ট

* মাইক্রো-এক্সপ্রেশন (Micro-expressions): মানুষ যখন কোনো সত্য আবেগ লুকাতে চায় তখন তার মুখে মাত্র ১/২৫ সেকেন্ডের জন্য আসল ভাবটি ফুটে ওঠে – যাকে বলা হয় ‘মাইক্রো-এক্সপ্রেশন’। এটি এতই দ্রুত ঘটে যে সাধারণ চোখে ধরা কঠিন, কিন্তু সাইকোলজিক্যালি এটি দেখেই আসল সত্য বুঝে ফেলা পসিবল।
তথাপি রিয়েল টাইম হাই রেজুলেশনে 2D চিত্রে 3D সিমুলেশনে উইথ জুম ইন – জুম আউট ফিচারে ভিডিও গ্রাফিক সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন এনালাইসিসে এটি ডিটারমিনেট করার প্রয়াস নেওয়া যেতে পারে।
* হাসির পার্থক্য (Duchenne Smile): মুখে মিথ্যা হাসি হাসা সহজ, কিন্তু মনের আসল আনন্দ চোখে ফুটে ওঠে। আসল হাসিতে চোখের কোণে ভাঁজ পড়ে (Crow’s feet) এবং যদি কারো শুধু ঠোঁট হাসে কিন্তু চোখ স্থির থাকে তাহলে প্রায় সময় সেটি মনের কথা নয় বরং অনেকাংশে লোক দেখানো হাসি।
* চোখের মণির সংকোচন-প্রসারণ: আমরা যখন কোনো কিছু পছন্দ করি বা উত্তেজিত হই, তখন আমাদের চোখের মণি (Pupil) নিজে থেকেই বড় হয়ে যায় (এটি আমাদের নিউরাল ফিজিক্যাল বৈশিষ্ট) তদুপরি এটি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে তাই চোখকে মনের আয়না বলা যেতে পারে এবং মাইন্ড রিডিং (ফেইস এনালাইসিসে) এটি প্রাইমারি প্রিভিলেজ।
* নাক স্পর্শ: কথা বলার সময় কেউ যদি বারবার নাক স্পর্শ করে বা ঘষে তবে অনেক ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া যেতে পারে সে কোনো কিছু লুকাচ্ছে যাকে ‘পিনোকিও ইফেক্ট’ বলে কারণ মিথ্যা বলার সময় নাকের টিস্যুতে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় এবং তাতে এক প্রকার চুলকানি অনুভূত হয়।
* ঠোঁট চেপে রাখা: কেউ যদি কথা বলার সময় বারবার নিজের ঠোঁট ভেতরে ঢুকিয়ে চেপে রাখে তার মানে সে মনের কোনো গভীর দুশ্চিন্তা বা নেতিবাচক আবেগ দমন করার চেষ্টা করছে এবং যথাসম্ভব স্বাভাবিক থাকার মেকি অভিনয় করছে।
* চোখের পলক পড়ার হার: স্বাভাবিকের চেয়ে ঘনঘন চোখের পলক ফেলা মানসিক চাপ, অস্বস্তি এবং কিছুক্ষেত্রে মিথ্যা বলার লক্ষণ হতে পারে আবার কেউ খুব গভীরভাবে কিছু ভাবলে তার চোখের পলক পড়া কমে যায়।
* ডান বনাম বাম মস্তিষ্ক: আমাদের মুখের বাম দিক আমাদের আবেগ বেশি প্রকাশ করে। কারণ মস্তিষ্কের ডান অংশ (যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে) শরীরের বাম দিকের পেশিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই কারো আসল আবেগ বুঝতে তার মুখের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক্সপ্রেশান এনলাইসিস করা যেতে পারে।
* ভ্রুর অবস্থান: যখন কেউ সত্যিকারের ভয় পায় বা অবাক হয় তখন তার ভ্রু ধনুকের মতো বেঁকে উপরে উঠে যায়। কিন্তু জোর করে অবাক হওয়ার ভান করলে ভ্রুর নড়াচড়া ততটা স্বাভাবিক হয় না বরং বিক্ষিপ্ত ও অনিয়ত হয়।
* চোখ ফেরানো (Eye Direction): সাধারণত মানুষ যখন কোনো স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করে তখন চোখ এক দিকে যায় আর যখন কোনো গল্প বানানোর (মিথ্যা) চেষ্টা করে তখন চোখ অন্যদিকে ঘোরে। যদিও এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে এটি মনের অস্থিরতার সংকেত দেয় এবং ইন্ডিভিজ্যাল বিহ্যাবিয়ারে মুভমেন্ট ট্রাকিং এর মাধ্যমে অনেকটাই মনের কথার জানান দেয়।
* কগনিটিভ ডিসোনেন্স (Cognitive Dissonance): যখন আমাদের মুখ এক কথা বলে আর মন অন্য কথা তখন মুখে এক ধরণের অস্বস্তি বা ‘টানটান’ ভাব ফুটে ওঠে। এই মুখাবয়বের অমিল বা অসঙ্গতি সাইকোলজিক্যালি আমাদের টোটাল ফিজিক্যাল স্ট্রাকচারে প্রভাব ফেলে – ফলে বাহ্যিক আচরণে এক অপ্রকৃতস্থ অবস্থা ফুটে ওঠে।
যেমন স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত দেহ মোচরানো, পা নাড়ানো, হাতের অহেতুক অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি। বস্তুপক্ষে আমাদের শরীর আসলে কখনো মিথ্যা এক্সপ্রেশানে অভ্যাস্ত নয় – যতোক্ষন না অবধি মস্তিষ্ক হতে সিগন্যাল ইমিটিং এর মাধ্যমে ফিজিক্যালি সেটার প্রতিফলন ঘটছে; আর এই প্রতিফল বা Reflection তে কথার সাথে সময়ের সাথে সাথে রিফ্লেক্স ডিফারেন্স সেটিই আসলে মনের মূল কথা প্রকাশ হওয়ার অনন্য উপায়।

মুখাবয়বে মনের কথা

উপরোক্ত এতোসব সূক্ষ আচরণ ও পরিবর্তন আসলে সাধারণ মানুষের পক্ষে বুঝে ওঠা কঠিন বটে; তবে আমরা AI প্রযুক্তি ব্যবহারে এই সকল ডিটেইলস Knowledge Base করে রিয়েল টাইম ফেইস এনালাইসিস করে কিছুটা হলেও হয়তো মনের খবর আন্দাজ করতে পারি।
এমনই প্রয়াসে তৈরী https://humayunshariarhimu.github.io/MicroMind/ যেখানে রিয়েল টাইম ফেইস এনলাইসিস করে সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন এনলাইসিস করা যাবে।
যদিও এটাতে খুবই কম সংখ্যাক ফাংশান এনাবল তথাপি Root Conational Fact ডিটেক্ট করে এপ্লাইড সাইকোলজিক্যাল বিষয়গুলো ডিফাইন করা যেতে পারে [এটিকে একটি শিশু প্রজেক্ট বলা চলে তথাপি গিটহাব ওপেন রিসোর্স দেওয়া রইলো – আপনি চাইলে কনট্রিবিউট কিংবা আপনার প্রয়োজন মতো মোডিফাই করে নিতে পারেন]।
এখন কথা হলো যে এটি তো রিয়েল টাইম ভিডিও বেইজ অন ফেইস এনলাইসিস তথাপি স্টিল ফটোগ্রাফ অর্থাৎ ছবি হতে ফেইস এনলাইসিস করা যেতে পারে কিভাবে? সেক্ষেত্রে https://humayunshariarhimu.github.io/FaceMotion/ প্রজেক্ট ব্যবহারে যে কারোর স্টিল ফটোগ্রাফ হতে তার রিয়েল টাইম ইমোশন ডিটেক্ট করা যেতে পারে [ওপেন সোর্স]।

বস্তুতপক্ষে মাইন্ড রিডিং এর ক্ষেত্রে ফেসিয়াল ইগজামিনেশনে সূক্ষাতিসূক্ষ যেসব ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং বিষয়গুলো থাকে সেগুলোই AI এর মাধ্যমে ট্রেইন করিয়ে ফাইন টিউনিং করে যে কারোর ফেইসের সাথে তুলনা করে এটলিস্ট ব্যক্তির মানসিক অবস্থার একটি রাফ ডাটা পাওয়া যায়; সেই রাফ ডাটার সাথে আরও সকল উপাত্ত (ব্যক্তিগত বিষয়) যোগ করে বর্তমান মানসিক অবস্থার বিচার ও মূল্যায়ন করা চলে।

কনক্লুশন

আমরা AI কে এমনভাবে ব্যবহার করতে পারি যেন তা মানুষের মুখ হতে মনের কথার আপাত একটি রিডিং দিতে পারে; তাতে ব্যক্তির শুধু ফরেনসিক তথ্য নয় বরং কার্যত অনেক ক্ষেত্রে সাইকোলজিক্যাল নানান উপসর্গ এনালাইসিসে ব্যক্তিগত মাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে পারে।
আমরা যতোটা পজেটিভাবে ডেভোলপমেন্টে প্রয়াসী হবো ততোই হয়তো আমাদের মুখ হয়ে উঠবে মনের আয়না – ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে তাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি প্রযুক্তির অনন্য শিখড়ে।

শুভকামনা রইলো, ভালো থাকুন।
টেলিগ্রামে আমন্ত্রণ রইলো OpenEye