IQOO NEO 7 PRO – আসল ফ্লেগশিপ কিলার

IQOO এর ব্যাপারে যারা জানেননা। তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলবো। IQ হচ্ছে মূলত Vivo এর একটি সাব ব্রান্ড। যারা হাই বা মিড রেঞ্জ বাজেটে স্মার্টফোন তৈরি করে থাকে। যেগুলো সাধারণ ফ্লাগশিপ কিলার টাইপের হয়। আবার মিড রেঞ্জ বাজেটের গেমিং স্মার্টফোন। যেটা আমরা One Plus এর শুরুর দিকে দেখেছিলাম। গত ৪ বছর ধরে তারা ফোন তৈরি করছে। ভারত এবং চিনের মার্কেটে তাদের ফোন গুলো পাওয়া যেতো। তবে এখন বাংলাদেশেও ফোনটি অফিশিয়াল ভাবে পাওয়া যাচ্ছে।

IQOO NEO 7 PRO এই ফোনের ডিসপ্লে হিসেবে আছে
AMOLED প্যানেল যেখানে 120 Hzs হাই রিফ্রেশরেট দেখতে পাবেন। এটিতে Qualcomm SM8475 Snapdragon 8+ Gen 1, এটাতে 5000 Mah এর ব্যাটারির সাথে 120 ওয়াট এর চার্জারও পাবেন তাছাড়াও এই ফোনে আপনারা 40 মেগাপিক্সেলের মেইন শুটার আছে যেটাতে OIS থাকছে। এই রকম কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্ট আছে যেই কারনে এই ফোনটি হাইপের একদম শীর্ষে রয়েছে। এই ফোনটি ইন্ডিয়ার মার্কেটে ৩৫ হাজার রুপিতে লঞ্চ হয়েছে (৮/১২৮) বাংলাদেশি টাকাই কনভার্ট করলে ৪৫ হাজার এর আশেপাশে থাকছে। প্রাইসটা এর থেকে বেশিও হতে পারে।

এর বক্সটা দেখলে আপনারা গেমিং গেমিং একটা ভাব পাবেন। দেখতে অনেক সুন্দর। কালো এবং হলুদ কালারের মিশ্রনে তৈরি৷

ফোনটা হাতে নিলে অনেক বড় মনে হয়ে আপনার। আসলেই ফোনটা অনেক বড়। তবে যেহেতু গেমারদের তার্গেট করে এই ফোনটা বানানো হয়েছে। তাদের জন্য সুবিধা হবে। এই ফোনটার বডি ফ্রেমটা প্লাস্টিকের তৈরি। তবে হাতে কোনো ছাপ এটাতে উঠছিলো না। রেগুলার প্রয়জনের সব পোর্টস এবং বাটন থাকলেও এটাতে 3.5 mm হেডফোন জ্যাক পাচ্ছেন না। ভালো বিষয় হচ্ছে যে এটা আপনারা Air Bluster পাচ্ছেন। এটাতে একসাথে দুইটা সিম কার্ড ব্যাবহার করতে পারবেন। তবে আলাদা করে মেমোরি কার্ড ব্যাবহার করার কোনো সুযোগ নেই।

ফোনটার ডিসপ্লে আমার কাছে বেশ ভালো লাগেছে। ডিসপ্লেটা ফ্লাট কার্ভ ডিসপ্লেনা অবশ্যই। তবে ডিসপ্লের চিন-বেজেল মোটামোটি ঠিকই আছে। তবে লোয়ার চিনটা বাকি গুলোর থেকে তুলনামূলক মোটা মনে হয়েছে। আর এর যে পাঞ্চন কাটটাও কিছুটা বড়। এটা একটু ছোটো রাখলো আরো ভালো লাগতো। তবে এগুলোর বাইরে এই ডিসপ্লে থেকে বেশ ভালো ব্রাইটনেস পাওয়া গেছে। সরাসরি সূর্যের আলোতেও ভালোভাবে ব্যাববার করা যাবে। রিফ্রেশরেট ১২০ হার্ডস ঠিকঠাক মতোই কাজ করছিলো। এই ডিসপ্লেতে ১ বিলিয়ন কালার রয়েছে। যেকোনো কাজ করা, ভিডিও দেখা, গেমিং করা সব কিছুতেই পারফরম্যান্স খুবই ভালো ছিলো। তবে ডিসপ্লেতে কোনো প্রোটেকশন দেওয়া আছে কি না এটা ঠিক মতো জানা যায় নি। কেনার পর কোনো প্রোটেক্টর ব্যাবহার করলে ভালো হবে। ডিসপ্লে মাঝে আছে Fingerprint Sensor দেওয়া আছে। তবে ফোনটা অনেক বড় হওয়ার কারনে সেন্সরটা একটু নিচে মনে হয়েছে। তবে এটা প্রতিবারই সঠিক রেজাল্ট দেই।

এই ফোনটিতে প্রোসেসর হিসেবে পাচ্ছেন Qualcomm SM8475 Snapdragon 8+ Gen 1. রিসেন্টলি Nothing Phone 2 লঞ্চ হলো এটাতেও এই প্রসেসরটিই ব্যাবহার করা হয়েছে। এটা গত বছরের প্রসেসর যা ৪ ন্যানোমিটার বেজ। এটাতে র‍্যাম হসেবে ৮/১২ জিবি পাওয়া যাচ্ছে। এটাতে Funtouch UI দেওয়া আছে।

এই স্মার্টফোনটি রেগুলার পারফরম্যান্স এ ভালোই ফলাফল দিয়েছে। একটা মিডরেঞ্জ বা ফ্লাগশিপ কিলার ফোন থেকে আমরা যেমনটা আসা করি ঠিক তেমনই পারফরম্যান্স দিচ্ছিলো এই ফোনটি। ৮ জিবি র‍্যাম দিয়ে আমরা এটাতে মাল্টি টাস্কিং এও ভালো ফলাফল পাচ্ছিলাম। কোনো ধরনের ল্যাগ বা আটকে যাওয়ার কোনো ইস্যু পাই নি৷ আ্যাপ ওপেন বা ক্লোজ টাইমও অনেক ফাস্ট ছিলো। এই স্মার্টফোনটা খুব বেশি হিট জেনারেট করা তা না। গরম হওয়ার কিছু সময় পরেই এটা তাড়াতাড়িই ঠান্ডা হয়ে যায়।

IQOO যেগেতু গেমারদের উদ্দেশ্য করেই এই ফোনটা তৈরি করেছে সেহেতু আমরাও এটাতে কিছু গেম ট্রাই করি। এটাতে একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট গেমিং চিপ রয়েছে। এটা থাকার ফলে নাকি FPS বুস্ট করবে এই রকম ফলাফল নাকি দেই। তবে এই বিষয়টা আমরা খুব বেশি দেখতে পাই নি। তবে এমনিতেও গেমিং রেজাল্টটাও অনেক ভালো ছিলো। লং টাইমেও ফোনটা ভালো পারফরম্যান্স দিচ্ছিলো। তবে অনেক সময় পর পারফরম্যান্স কিছুটা ড্রপ করতে পারে। PUBG, CODM, Genshin Impact, eFootball গেম গুলো থেকেও অনেক ভালো রেজাল্ট আমরা দেখতে পেয়েছি। আমার মতে যেহেতু এই ফোনটা বাংলাদেশ মার্কেট এই সময় ৪৯ হাজার টাকাই পাওয়া যাচ্ছে (৮/১২৮)। সেই যায়গা থেকে এই গেমিং হোক বা রেগুলার পারফরম্যান্স দুটোই অনেক ভালো ছিলো।

তবে ভাই গেমিং ফোনগুলোতে ক্যামেরা খুব একটা ভালো হয়টা এটা আমাদের সকলেরই জানা। এটার মেইন শুটারটা হচ্ছে ৫০ মেগাপিক্সেল এর। যার পাশাপাশি Wide লেন্সটাও দেওয়া আছে। সামনের দিকটাই ৬ মেগাপিক্সেল এর সেন্সর দেওয়া। এগুলো থেকে পিকচার গুলো চলার মতো। কালারগুলো একেবারে একুরেট হয় না। কিছুটা বুস্ট কালার দেই। লো লাইটে এর ক্যামেরা খুব ভালো পারফরম্যান্স করে না। তবে তুলনা মূলকভাবে নাইটমুডটা ঠিকঠাক আছে। ক্যামেরাটা গেমিং ফোন হিসেবে অনেক ভালোই আছে।

আপনি যদি ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ক্যামেরার জন্য ফোন নিতে চান তাহলে আরো অপশন পাবেন। তবে যদি ক্যামেরা এবং পারফরম্যান্স দুটোই চান তাহলে এই ফোনটা দেখতে পারেন।

2 thoughts on "IQOO NEO 7 PRO – আসল ফ্লেগশিপ কিলার"

  1. Somrat Ahmed Contributor says:
    ATC te dekhsilam etar cameray mere dise -_-
    1. zerox Author Post Creator says:
      ?

Leave a Reply