আজ অন্য রকম একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি ৷ টাইটেল দেখে পোস্ট সম্পর্কে ধারনা করে নিয়েছেন কি বিষয় নিয়ে পোস্ট এটা ৷

যাইহোক  আমার এক পুলিশ বন্ধুর থেকে   গল্প সুুুুনি সেলফোন ট্র্যাকিং সম্পর্কে সেটাই তুলে ধরলাম ৷

 

সেলফোন এবং সেল

সেলফোন ট্র্যাকিং সম্পর্কে আরো ভালোভাবে বুঝতে, সেল ফোন কীভাবে কাজ করে সেটা পরিপূর্ণভাবে বোঝা প্রয়োজনীয়। আমাদের দেশে মূলত একমাত্র পুলিশ বা আইনি বাহিনীই সেলফোন ট্র্যাকিং এর বৈধতা রাখে। সাধারন জনগন বা আপনি আমি চাইলে যেকোনো ফোন ট্র্যাক করার অধিকার রাখি না। কোন অপরাধীকে যদি সন্দেহ করা হয় তবে তার সেলফোন ট্র্যাক করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। বেশিরভাগ সময়, আমাদের দেশে ট্র্যাকিং করার সময় পুলিশ সেল অপারেটরের সাহায্য গ্রহন করেন। আর অপারেটররা পুলিশকে বিনা দ্বিধায় সাহায্য করার জন্য রাজী হয়ে যায়। পুলিশ অপরাধীর নাম্বারের কল রেকর্ড, রেজিস্ট্রেশন নেম, ফোনের সর্বশেষ লোকেশন জানতে চায় এবং অপারেটর এই তথ্য গুলো প্রদান করে সাহায্য করে। যদি অপরাধী তার আসল নাম এবং ঠিকানা ব্যবহার করে সিমকার্ডটি রেজিস্ট্রেশন করিয়ে থাকে, তবে তাকে সনাক্ত করতে আর দেরি লাগে না, তাছাড়া অপরাধীর কল রেকর্ড থেকে সে কাকে কাকে বেশি কল করেছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করেও অপরাধীর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

এখন পালা ঐ অপরাধীর ফিজিক্যাল লোকেশন খুঁজে বেড় করা এবং তাকে ধরে এনে জেলে পুড়ে দেওয়া। অপরাধী সাধারনত অপরাধ করার সময়ের সিম/নাম্বারকে ফেলে দেয় অথবা নষ্ট করে ফেলে, কিন্তু ফোনটি বেশিরভাগ সময় ব্যবহার করতেই থাকে। আর সে যদি ঐ ফোন ব্যবহার করে, হোক সে যতোই অন্য সিম বা অন্য অপারেটরের সিম ব্যবহার করছে, তাকে ট্র্যাক করা সম্ভব।

প্রথমে অপরাধীর পুলিশের কাছে থাকা নাম্বার থেকে অপরাধীর ফোনের আইএমইআই (IMEI) নাম্বার বেড় করে নেওয়া হয়। আপনি যে অপারেটরের সিম ব্যবহার করছেন, আপনার অপারেটরের কাছে আপনার ফোন সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে এবং অবশ্যই আপনার ফোনের আইএমইআই নাম্বার রয়েছে। আইএমইআই নাম্বারকে কোন ফোনের ফিঙ্গার প্রিন্টও বলতে পারেন, কেনোনা আপনার ফোন ব্যবহার করে আপনি যেখানেই কল করুণ না কেন, আপনার আইএমইআই তথ্য সেখানে চলে যায়। এখন অপরাধী সাধারনত তার ফোনে আলাদা কোন সিম বা আলাদা অপারেটরের সিম ব্যবহার করবে। তো সে যে সিমই ব্যবহার করুক না কেন, ঐ অপারেটরের কাছে তার আইএমইআই নাম্বার চলে যাবে।

এখন পুলিশ আরো ভিন্ন ভিন্ন অপারেটরের কাছে অপরাধীর পাওয়া ফোনের আইএমইআই নাম্বার জানিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, এই আইএমইআই এর ফোন তাদের অপারেটরে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা। অপারেটররা সহজেই এই তথ্য পুলিশকে সরবরাহ করে দেবে, যদি কোন অপারেটরে সেই আইএমইআই এর ফোন পাওয়া যায়, তবে সেই ফোনে ব্যবহৃত বর্তমান নাম্বারও পুলিশকে দিয়ে দেওয়া হয়। আর পুলিশ যখন অপরাধীর বর্তমান ব্যবহৃত নাম্বার পেয়ে যায়, তো বলতে পারেন ৫০% কাজ শেষ।

এখন অপরাধীর সেলফোন থেকে তার বর্তমান লোকেশন পাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। আপনি যখন ফোন অন করেন, সাথে সাথে আপনার ফোন আপনার সিমের সেলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে, সিগন্যাল পাওয়ার জন্য। আপনার ফোন একসাথে অনেক টাওয়ার বা সেল থেকে সিগন্যাল পায়, কিন্তু সবচাইতে কাছের এবং স্ট্রং সিগন্যাল পাওয়া সেলের সাথে কানেক্টেড হয়। আপনার অপারেটর কিন্তু সহজেই বলে দিতে পারবে, আপনার ফোনটি এই মুহূর্তে তাদের কোন স্থানের অবস্থিত সেল টাওয়ারের সাথে কানেক্টেড রয়েছে।

আপনারা যদি কেউ আগে টেলিটক সিম ব্যবহার করে থাকেন, তবে অবশ্যই লক্ষ্য করে থাকবেন, ফোনে টাওয়ারের লোকেশন প্রদর্শন করতো, এখনো এই সিস্টেম রয়েছে কিনা জানি না। যাইহোক, ব্যবহারকারীর ফোনের সিগন্যালের কোয়ালিটি এবং আশেপাশের আরো টাওয়ার থেকে তথ্য নিয়ে তার লোকেশন আন্দাজ করা সম্ভব। অপরাধীর আশেপাশের মোট তিনটি টাওয়ার থেকে সিগন্যাল নেওয়া নয় এবং সিগন্যালের উপর ত্রিভুজ আঁকার কল্পনা করে লোকেশন জানার চেস্টা করা হয়। যদিও এই পদ্ধতিতে ১০০% সঠিক লোকেশন জানা সম্ভব হয়না, তবে অনেক ভালো ধারণা যায়।

এবার হয়তো আপনি ভাবছেন, যদি ফোনকে অপরাধী এয়ারপ্লেন মুড করে রাখে তাহলে? —আপনাকে জানিয়ে রাখি, সেলফোন অপারেটিং সিস্টেমের দুইটি দিক থাকে, একটি দিক যেটা আপনার ফোন এবং নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্টেড হয় এবং আরেকটি দিক হলো আপনার ফোনের ইউজার ইন্টারফেস। ইউজার ইন্টারফেসে যতোই দেখাক, আপনার ফোনটি এয়ারপ্লেন মুডে রয়েছে, কিন্তু আপনার ফোনটি তারপরেও নেটওয়ার্ক থেকে পিং গ্রহন করে। আর নেটওয়ার্ক চাইলে সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ লোকেশন তথ্য ফোনটি থেকে পেতে পারে। আর ফোনটি অন থাকলে এতে ফোর্স ২জি চালু করে দেওয়া হয়, কেনোনা ২জি’তে এনক্রিপশন অনেক দুর্বল তাই সহজেই পুলিশ ঐ ফোনটি থেকে আরো প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যেতে পারে।

জিপিএস ট্র্যাকিং

সেলফোন ট্র্যাকিং এর ক্ষেত্রে আপনার ফোনে থাকা জিপিএস অনেক বেশি সহায়ক হিসেবে কাজ করে। অপরাধী যদি কোন স্মার্টফোন ব্যবহার করে আর তাতে যদি জিপিএস লাগানো থাকে তবে পুলিশের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। জিপিএস থাকলে সেল অপারেটরের সাথে যোগাযোগ না করেও ফোনের লোকেশন পাওয়া সম্ভব। পুলিশের কাছে কিছু সিস্টেম সেটআপ থাকে যার মাধ্যমে তারা ফোনের জিপিএস থেকে অ্যাক্সেস নিয়ে লোকেশন ট্র্যাক করে। কিন্তু বিভিন্ন দেশের পুলিশ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে জিপিএস ট্র্যাকিং করে। বড় বড় দেশের কাছে সরাসরি স্যাটেলাইট অ্যাক্সেস থাকে, ফলে তারা সহজেই তথ্য পেয়ে যায়, ফোনটি ঠিক কোন জিপিএস  স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল গ্রহন করছে। আমাদের দেশের পুলিশ সাধারনত দুইভাবে জিপিএস ট্র্যাকিং করে।

প্রথমত, অপরাধীর ফোনটি যদি স্মার্টফোন হয়, তবে স্বাভাবিকভাবে সেটি হয়তো অ্যান্ড্রয়েড হবে, তখন পুলিশ এতে লগইন থাকা জিমেইল আইডিতে অ্যাক্সেস পাওয়ার চেষ্টা করে। কেনোনা গুগল আপনার ফোনের লোকেশন হিস্টোরি সেভ করে রাখে। আবার গুগলে ফোন ট্র্যাক করারও অপশন রয়েছে। তাই গুগল অ্যাকাউন্টের উপর কন্ট্রোল পেয়ে গেলে সেলফোন ট্র্যাকিং সহজ হয়ে যায়।

যদি গুগল অ্যাকাউন্ট কন্ট্রোলে আনা সম্ভব না হয়, তবে আবার সেল অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করা হয়। প্রত্যেকটি জিপিএস ওয়ালা ফোনে আরেকটি অপশন থাকে যেটা এ-জিপিএস নামে পরিচিত। ধরুন আপনি এমন জায়গায় রয়েছেন যেখানে পর্যাপ্ত পরিমানে জিপিএস স্যাটেলাইট নেই আপনার লোকেশন নির্ভুল করার জন্য, তখন আপনার ফোন এ-জিপিএস এর সাহায্য নেয়। এ-জিপিএস মূলত আপনার মোবাইল অপারেটর আপনাকে এই সেবা প্রদান করে থাকে আপনার জিপিএস লোকেশন নির্ভুল করার জন্য।

ফলে আপনার অপারেটরের কাছেও আপনার লোকেশন তথ্য থাকে। তাছাড়া আপনি যতো লেটেস্ট সেলফোন টেকনোলজি ব্যবহার করবেন, ততোই দ্রুত আপনাকে ট্র্যাক করা সম্ভব হবে। যেমন আপনি যদি ৪জি ব্যবহার করেন, তবে আপনার একদম সঠিক লোকেশন পাওয়া সম্ভব। আবার অপরাধীর ফোনের ম্যাক অ্যাড্রেস যদি কোন ভাবে পুলিশ পেয়ে যায়, তবে সে কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করার মাধ্যমেও তার লোকেশন খোলাসা করে দেবে।

আশা করি আপনি আপনারাা বুঝে গেছেন ৷

Photo cust: Google

Total Thanks by 👍 Imran🌷

🌻ধন্যবাদ ৷

26 thoughts on "এক নজর দেখে নিন | পুলিশ কিভাবে লোকেশন ট্রাক/চিহ্নিত করে ?"

  1. Fole Rabby Fole Rabby Contributor says:
    ভাল পোস্ট কিন্তু আপনার টাইটেল এর সাথে কোন মিল নেই পোস্ট এর
    1. sopon sopon Author Post Creator says:
      বুঝলাম না ৷
  2. Fole Rabby Fole Rabby Contributor says:
    “আপনি জানেন কি? | মোবাইল দ্বারা কিভাবে লোকেশন মার্ক/চিহ্নিত করা হয়?”
    এটা কিভাবে সম্ভব যে একটা ফোন দিয়ে লোকেশন বের করে আপনি দিতে পারতেন টাইটেল টা কিভাবে একটা অপারেটর কম্পানি একজন গ্রাহকের লোকেশন বের করে তা নিয়ে বিস্তারিত। আশা করি আমার কথা বুজতে পেরেছেন ।
    1. sopon sopon Author Post Creator says:
      Done.

      “এক নজর দেখে নিন | পুলিশ কিভাবে লোকেশন ট্রাক/চিহ্নিত করে ?”

      আপনার মুল্যবান মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ ৷

  3. Md Parvej Md Parvej Contributor says:
    Ai same post onek agei onno akta site a dhekci
    1. sopon sopon Author Post Creator says:
      Tai.. good
  4. Md Shaown + Contributor says:
    good post
    1. sopon sopon Author Post Creator says:
      Thanks
    1. sopon sopon Author Post Creator says:
      👍
    1. sopon sopon Author Post Creator says:
      Tnx
    1. sopon sopon Author Post Creator says:
      Thanks
  5. Cyber mad Contributor says:
    কেউ কি বলতে পারবেন আমার মোবাইল টি android version 9 থেকে versión 10 করব
    1. sopon sopon Author Post Creator says:
      Pc দিয়ে করা যাবে ৷ তবে খুব শক্ত কাজ
  6. MOHAMMAD KAWSAR MOHAMMAD KAWSAR Contributor says:
    ফোনে সিম না থাকলে কি ট্রাক করা সম্ভব
    1. sopon sopon Author Post Creator says:
      না ৷ তবে অন্য যে কোন সিম তোলার সাথে সাথে ট্রাকিং সিঙ্গল্যান পাবে ৷
  7. mdmamunrahman md mamun rahman sikder Contributor says:
    Ei babe jodi pauya jeto tobe sylhet er mp elias shab k kno pauwa jay na
    1. sopon sopon Author Post Creator says:
      Elias shab hoyto phoner sim khule rekhese . Tai powa jai na..
      Bujjsen
  8. invisible invisible Contributor says:
    Vai apnar information a onk vul royechay
  9. tanvirtheboss Contributor says:
    যখন লোকেশন বের করার চেষ্টা করা হয় তখন ফোনে বারবার ফাঁকা এসএমএস দিয়ে লোকেশন একুরেট করার চেষ্টা করা হয় । তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাকে ধরতে পারে পুলিশ । তাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের মত উপায় হবে সিম পুরো ফেলে দিয়ে ঐ সেট পুরো বন্ধ রেখে কিছুদিনের জন্য কোন সিম ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া ।

Leave a Reply