আসসালামু আলাইকুম। 

কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালোই আছে। প্রতিদিনের মতো করে আজকেও আপনাদের জন্য নতুন আরেক টি পোস্ট নিয়ে হাঁজির হয়েছি। আশা করি পোস্ট টি সম্পর্ন্ন পড়লে আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। তো বেশী কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।
আজকের পোস্টটি একটু ব্যতিক্রম ধর্মী। আজকের পোস্টে আমরা ফ্রিল্যান্সিং প্রোফাইল প্রদর্শন কৌশলের মৌলিক ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করবো। আলোচনা টি প্রথা ভেঙ্গে একটু অন্য রকম ভাবে করার চেষ্টা করছি। তো চলুন মূল পোস্টে চলে যাওয়া যাক।
বিস্তারিত পোস্টঃ

ফ্রিল্যান্সিং প্রোফাইল প্রদর্শন কৌশল (Techniques to showcase freelancing profiles)

কোথাও চাকরির আবেদন করতে হলে যেমন প্রতিষ্ঠানের
 নিকট আপনার বায়োডাটা জমা দিতে হয় ঠিক তেমনি ফ্রিল্যান্সিং করতে হলেও একটি “ভার্চুয়াল” বায়োডাটার প্রয়োজন হয়। এখানে সুবিধা হচ্ছে আপনাকে বার বার বায়োডাটা জমা দিতে হবে না। শুধু নির্ধারিত মার্কেটপ্লেসে একটি প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। ক্লায়েন্ট/বায়ার নিজ উদ্যোগে আপনার প্রোফাইল দেখে নিবে। বলে রাখা ভালো যে, ফ্রিল্যান্সিং কখনোই কোনো চাকরি নয় বরং তার চাইতেও ভালো কিছু। তবে নিজেকে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রমাণ করার পূর্বশর্ত হচ্ছে মার্কেটপ্লেসে একটি সাজানো-গোছানো প্রোফাইল প্রস্তুত করা। অগোছালো বা অপূর্ণ প্রোফাইল দিয়ে হয়ত টুকটাক কিছু কাজ পাওয়া যাবে কিন্তু চূড়ান্ত সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। কীভাবে একটি সুন্দর প্রোফাইল তৈরি করা যায়। সে সম্পর্কে নিম্নে বর্ণনা করা হলোঃ

প্রোফাইল পিকচার বা ছবিঃ

আপনার ফ্রিল্যান্সার প্রোফাইলে ঢুকেই সর্বপ্রথম যা চোখে পড়ে তা হচ্ছে আপনার ছবি। প্রোফাইল পিকচার হিসাবে কোনো ছবি বাছাই করার ক্ষেত্রে সতর্ক হোন। মনগড়াভাবে যেনতেন ছবি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা অত্যাবশ্যকীয়। এমন কোনো ছবি ব্যবহার করবেন না, যেখানে আপনার ব্যক্তিত্বে আঘাত হানে। আপাদমস্তক কোনো ছবি দিবেন না কারণ প্রোফাইল পিকচারের জায়গাটি অনেক ছোট হয়ে থাকে। এ রকম ছবিতে আপনার চেহারা সম্পূর্ণরূপে বুঝা যাবে না। প্রথমত, প্রোফাইল পিকচারে আপনার চেহারা স্পষ্ট বুঝা যেতে হবে। সিম্পল হাস্যোজ্জ্বল হবে আপনার চেহারা। চেহারাকে মাধুর্য প্রদান করবে এমন পোশাক পরিহিত ছবিই বাছাই করা উত্তম। খুবই সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড রাখুন ছবিটির যেন কোনোক্রমেই পর্যবেক্ষক আপনার চেহারার চাইতে বেশি দৃষ্টি সেখানে না দেয়। অমলিন এক চিলতে হাসি দেওয়া পোট্রেইট সাইজের ছবি রাখুন প্রোফাইল পিকচার হিসাবে।

টাইটেল-ট্যাগ, ডিস্ক্রিপশনঃ

আপনার ছিল অনুযায়ী টাইটেল-ট্যাগ-ডিস্ক্রিপশন লিখুন। একই ধাচের কালের নাম দিয়ে টাইটেল ও ট্যাগ লাইন বসান। ধরুন। আপনি HTML, CSS, HTMLS, CSS3, PSD to HTML, PHP, JavaScript, WordPress এসব কাজ ভালো জানেন। তাহলে ক্রমানুসারে এগুলো বসান টাইটেল ট্যাগ হিসাবে। কিন্তু একই সাথে ওয়েব ডিজাইন, ইন্টারনেট মার্কেটিং, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপনেন্ট, সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, কাস্টমার সার্ভিস এবং কন্সাল্টেন্সি জাতীয় কাজ আপনার প্রোফাইলে রাখবেন না। এতে আপনার প্রোফাইলের সক্ষমতা নষ্ট হয়। সার্চ ইঞ্জিনে আপনাকে খুঁজে পেতে টাইটেল অংশটি বিরাট ভূমিকা রাখে। ডিস্ক্রিপশন/ওভারভিউ লিখার ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভিটি প্রদর্শন করুন। প্রথম লাইনে এমন কিছু বলার চেষ্টা করুন যেন ক্লায়েন্ট দেখা মাত্র সম্পূর্ণটি পাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আপনি কোন কাজে এক্সপার্ট বেশি, কোনটিতে কম এখানে এসব বলার প্রয়োজন নেই। কারণ আপনার টাইটেল আর ট্যাপ লাইন বলে দিবে আপনার দক্ষতা। ডিক্রিপশনে আপনার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। এ ছাড়া আপনার কাজ করার স্ট্র্যাটেজি অল্প কথায় লিখুন। ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ এবং কাজের ব্যাপারে আপনি যথেষ্ট বন্ধুভাবাপন্ন সেটি উল্লেখ করুন। বুঝানোর চেষ্টা করুন আপনি কাজকে ভালোবাসেন বলেই এ ধরনের কাজ করেন। ডিক্রিপশনে কোথাও গ্রামাটিক্যাল ভুল বা ভাবের আতিশয্য যেম প্রকাশ না পায় সেটি লক্ষণীয়। কারণ আপনার নিজের প্রোফাইল ডিক্রিপশনেই যদি টুকটাক ভুল রেখে দেন তাহলে ক্লায়েন্টের কাছে যে ভুল রাখবেন না সেটি কীভাবে আশা করা যায়। তাই ইংরেজির প্রতি যত্নবান হোন। ইন্টারনেটে অনেক গ্রামার চেকার টুল রয়েছে। চাইলে অবশ্যই আপনার ডিক্রিপশনটি সেখানে চেক করিয়ে নিতে পারেন। ভিডিও ডিক্রিপশন
ফ্রিল্যান্সার পেশা মানেই নতুন কিছু করতে চাওয়ার আগ্রহ। তাই নতুনত্বের মর্যাদা এখানেই সবচেয়ে বেশি। প্রায় সব ফ্রিল্যান্স/আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেস তাদের কন্ট্রাক্টরদের জন্য সম্প্রতি নতুন এই ফিচারটি যোগ করেছে। আপনি চাইলে এখনই আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলে ভিডিও রেকর্ড করে আপলোড করে দিতে পারেন আপনার প্রোফাইলে। সর্বোচ্চ ১ মিনিটের একটি ভিডিওতে আপনি কী ধরনের কাজ করেন, কাজের প্রতি আপনার আগ্রহ, কোন মডেলের ভিত্তি করে কাজ করেন এবং সর্বশেষে ক্লায়েন্ট কীভাবে কোথায় আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে হাসিমুখে বলুন। ভিডিও ডিস্ক্রিপশন মূলত কন্ট্রাক্টর এবং ক্লায়েন্ট-এর সম্পর্ককে আরও এক ধাপ সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। ভিডিও রেকর্ডের সময় লক্ষ রাখুন যেন ব্যাথাউন্ডে কোনো নয়েজ না থাকে এবং সর্বোচ্চ রেজোলুশন রাখার চেষ্টা করুন।

কেমন হবে কাজের রেটঃ

আপনি কী রকম ঘণ্টা প্রতি রেটে কাজ করতে আগ্রহী তার একটি সাধারণ ধারণা ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইলে দেয়া ঘণ্টাপ্রতি রেট থেকে পায়। কাজেই এটি নির্বাচনের সময় একটু ভেবেচিন্তে লিখুন। সবচেয়ে ভালো হয় আপনার ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য দক্ষ ব্যক্তিরা কী রেটে কাজ করে তা জানুন। তাদের কাজের সাথে আপনার নিজের কাজের তুলনা করুন তারপর ঠিক করুন আপনার ঘণ্টাপ্রতি কাজের দাম কত হওয়া উচিত। তবে কখনই কম দামে কাজ করবেন না। আপনার কাজের মূল্য কী সেটা আগে জানুন পরে দাম ঠিক করুন। “

পোর্টফোলিওঃ

আপনি এ পর্যন্ত যত ফ্রিল্যান্স কাজ করেছেন তার স্ক্রিনশট নিয়ে উক্ত কাজের বিবরণ এবং লাইভ লিঙ্কসহ আপনার প্রোফাইলে যোগ। করতে পারেন। এখানে উল্লেখ্য, আজেবাজে কোনো কিছু পোর্টফোলিও আইটেম হিসাবে অ্যাড না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনার ইম্প্রেশন নষ্ট হওয়া থেকে বেঁচে যাবে। তাই আপনার প্রোফাইলটা যে ধরনের কাজ করার জন্য তৈরি করতে চাচ্ছেন সেই সম্পর্কিত অতীতের অনুশীলন এবং অন্য ক্লায়েন্ট-এর জন্য করা কাজের স্ক্রিনশট দিতে পারেন। তবে অবশ্যই তাদের অনুমতি সাপেক্ষে।

টেস্টসঃ

ফ্রিল্যান্স প্রোফাইল তৈরির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে টেস্টস। একজন ফ্রিল্যান্সার কোন ক্যাটাগরিতে কাজ করে এবং সেখানে তার দক্ষতা কতটুকু তা বুঝার জন্য কোনো ক্ল্যায়েন্ট টেস্ট অংশটুকুতে চোখ বুলাতে ভুল করে না। তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ টেস্ট অংশটি আমাদের সাজানো উচিত। প্রোফাইলের শুরুর দিকে যেই টাইটেল-ট্যাগ এবং ডিক্রিপশন অংশটি শেষ করেছি। এখানে তারই প্রতিফলন পড়বে। তাই আপনি যে ক্যাটাগরির-ই কাজ করুন না কেন সকল মার্কেটপ্লেসেই সেগুলোর কিছু না কিছু টেস্ট রয়েছে। একটু সময় নিয়ে হলেও টেস্টগুলো দিন। ভালো ফলাফল করা টেস্টগুলোর রেজাল্ট পাবলিক ভিসিবল করে রাখুন আর খারাপ করা টেস্টগুলো হাইড করে রাখতে পারেন ইচ্ছে করলে।

এপ্লয়মেন্ট হিস্ট্রি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য অভিজ্ঞতাঃ 

যদিও এ অংশগুলোর একটাও ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয় তথাপি নিজের প্রোফাইলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নিশ্চয়ই এ বিষয়গুলো । হালনাগাদ করে নিতে কেও আপত্তি করবেন না। শুধু তাই নয় যখন একজন ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইলে এসে দেখতে পাবে প্রত্যেকটা অংশে আপনার সুচারু হাতের স্পর্শ রয়েছে নিঃসন্দেহে এ রকম একটি প্রোফাইলের প্রতি ক্লায়েন্ট দুর্বল হয়ে পড়বে। সে বুঝবে আপনি আপনার ফ্রিল্যান্স প্রোফাইল নিয়ে কতটা সিরিয়াস এবং ভবিষ্যতে যদি সে আপনাকে হায়ার করে তাহলে তার কাজেও আপনি এ রকমই সিরিয়াসনেস প্রদর্শন করবেন—এ রকমই ধারণা জন্মাবে তার মনে।
তো আজ এই পর্যন্তই।  সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ্য থাকবেন।

ধন্যবাদ।

Leave a Reply