সরকারিভাবে প্রদানকৃত বিভিন্ন বিষয়ের উপর ফ্রি কোর্স নিয়ে আমি এই পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি। তবে আজকরে পোস্টটি একটু ভিন্ন৷ যদিও এটি অন্যান্য সরকারিভাবে প্রদানকৃত ফ্রি প্রশিক্ষণের মতই একটি। এটি ভিন্ন বলার কারণ হচ্ছে আগেরগুলি সর্বজনীন থাকলেও এটি একটি নির্ধারিত ধর্ম ও নির্ধারিত শ্রেণির পেশার বা মানুষের জন্য। কারণ আজকের টপিকের বিষয়বস্তু হচ্ছে শুধুমাত্র যারা মুসলিম এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়ালেখা করেছেন তাদের জন্য। এইবার মূল কথায় আসি। আপনাদের মধ্যে যাদের আশা বা স্বপ্ন রয়েছে ইমাম হওয়ার বা ইমামতি করার। তারা চাইলে সরকারিভাবে বর্তমান সময়ের যুগোপযোগী ইমাম হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। এতে করে আপনি আপনার স্কিল ডেভেলপ করতে পারবেন।

ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্সঃ
বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে যুগোপযোগী ইমাম তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কোর্সের ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। যার মধ্যে একটি হলো আমাদের আজকের বিষয়ের ৪৫ দিনের এই কোর্স।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঃ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ৪৫ দিন ব্যাপি এই ফ্রি কোর্সটি অতি শীঘ্রই চালু হবে এই মর্মে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি এর পরিচালকের গত ২৬ তারিখের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। যাতে এই কোর্সটি গ্রহণ করার জন্য কিভাবে কি করতে হবে সকল কিছু উল্লেখ রয়েছে। এইবার চলুন নিচ থেকে এর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

ইমাম প্রশিক্ষণ গ্রহণের আবেদনের প্রক্রিয়াঃ
ইমাম প্রশিক্ষণের কোর্সটি গ্রহণ করতে আপনাকে সর্বপ্রথম স্ব হস্তে লিখে আবেদন করতে হবে এবং সেটি স্ব শরীরে গিয়ে জেলা অথবা বিভাগীয় অফিসে জমা দিয়ে আসতে হবে।

এখন কথা হচ্ছে কিভাবে বা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি নিজ হাতে আবেদনের দরখাস্তটি লিখবেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভর্তি ফরম আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে। এখন কোত্থেকে করতে হবে এই বিষয়ে কিছু বলা নাই। তবে হ্যাঁ আমি ধারনা করে নিতে পারি যে আপনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় অথবা জেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও আপনি চাইলে তাদের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া এই কোর্সের জন্য আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করে এতে তথ্য অনুযায়ী পূরণ করে দিতে পারেন। অথবা এইভাবে দেখে দেখে পুরো বিষয়টি অর্থাৎ আবেদনটি আপনি নিজ হাতে লিখতে পারেন। (যদি সম্ভব হয় দুটো পদ্ধতিই অনুসরণ কইরেন যেটা কাজে লাগে।)

আবদেনপত্র ডাউনলোডঃ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া এই কোর্সের জন্য আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনপত্র লেখার পর করণীয়ঃ
নিজ হাতে আবেদনপত্রটি লিখার পর আপনি নিজে স্ব শরীরে আপনার জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসে বা কার্যালয়ে গিয়ে জমা দিয়ে আসবেন। এছাড়াও সাথে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যাবেন। যেগুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

আবেদন করার ফিঃ
এই কোর্সের জন্য আবেদন করতে কোন প্রকার ফি বা টাকা পয়সার দরকার নেই। অর্থাৎ একদম ফ্রিতে আপনি এই কোর্সটির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন করার যোগ্যতাঃ

  • বর্তমানে যারা বিভিন্ন মসজিদে ইমাম, সহকারী ইমাম ও মুয়াজ্জিন হিসেবে কর্মরত আছেন।
  • আপনার বয়স ২০-৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং সুস্থ ও সবল দেহের অধিকারী হতে হবে।
  • মাদ্রাসা পড়ুয়া হতে হবে এবং নূন্যতম দাখিল পাশ হতে হবে।
  • হাফেজ ক্বারিদের ক্ষেত্রে ভালো বাংলা জানতে হবে। তাহলে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল বলে গণ্য হবে।
  • কোভিড-১৯ এর দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করতে হবে।

আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ

  • নিজ হাতে পূরণকৃত বা লিখিত আবেদন কপি।
  • এক কপি সত্যায়িত রঙ্গিণ ছবি।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সার্টিফিকেট বা সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র অথবা ওয়ার্ডের কমিশনার বা মেম্বারের কাছ থেকে ইমামতি করার স্বপক্ষে প্রত্যয়নপত্র বা প্রমাণপত্র নিতে হবে।

উপরোল্লিখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপনাকে আবেদন করার পর যখন আপনার জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে আবেদন কপি জমা দিতে যাবেন তখন সাথে করে এগুলো নিয়ে যাবেন। অর্থাৎ উক্ত কাগজগুলিও আপনার জমা দিতে হবে।

চুড়ান্ত বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পদক্ষেপঃ
আবেদন কপি জমা দিয়ে আসার পর এখান থেকে বাছাই করা হবে। তো এই চুড়ান্ত বাছাইয়ের মধ্যে যদি আপনি নির্বাচিত হয়ে যান তাহলে আরো কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আপনাকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সার্টিফিকেট বা সনদপত্রের মূল কপি।
  • আর যদি শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট বা সনদপত্রের মূল কপি না থাকে তাহলে আপনার শিক্ষা
  • প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে প্রশংসাপত্রের মূল কপি।
  • চূড়ান্তভাবে বাছাইতে নির্বাচিত হওয়ার পর কার্যালয় থেকে একটি ছুটির ফরম দেওয়া হবে। উক্ত ফরমে
  • আপনার মসজিদের সভাপতি বা সেক্রেটারির কাছ থেকে ৪৫ দিনের ছুটির অনুমোদন নিতে হবে।
  • কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরত থাকলে সেখানের কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র।
  • দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত রঙ্গিন ছবি।
  • প্রশিক্ষণ চলাকালীন হোস্টেলে অবস্থান করতে হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে ভাতা প্রদানঃ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে ইমাম প্রশিক্ষণের কোর্সটি সম্পন্ন করার পর আপনাকে দৈনিক ভাতা প্রদান হিসেবে ৩০০ টাকা করে ৪৫ দিন অনুযায়ী মোট ১৩৫০০ টাকা প্রদান করা হবে। যদিও এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই তবে এই কোর্সের নিয়মানুযায়ী এবং তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী আপনি কোর্স সম্পন্ন করার পর ১৩৫০০ টাকা ভাতা বা বকশিস পাবেন। তবে প্রাথমিক নির্বাচনের পর সেখান থেকে এই ব্যাপারে জেনে নিতে পারবেন।

আবেদনের সময়সীমাঃ
আগামী ০৪/০৭/২০২২ পর্যন্ত আপনি উক্ত আবেদনটি করতে পারবেন।

প্রাথমিক বাছাইয়ের তারিখঃ
০৪/০৭/২০২২ তারিখে আবেদন কপি জমা দেওয়ার পর এর পরেরদিন ০৫/০৭/২০২২ তারিখে সকাল ১০টা থেকে প্রাথমিক বাছাই শুরু হবে।

প্রশিক্ষণ শুরুর তারিখঃ
বিজ্ঞপ্তিতে প্রশিক্ষণ শুরুর তারিখ নিয়ে কোন আলোচনা করা হয়নি। তবে প্রাথমিক নির্বাচনের দিন আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

গুরুত্বপূর্ণ কথাঃ
এই কোর্স সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য প্রাথমিক নির্বাচনের তালিকায় যদি আপনার নাম নির্বাচিত হয়। তাহলে আপনাকে কিছু ফরম দেওয়া হবে সে ফরম গুলোর মধ্যে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় বা জেলা কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেখতে পারবেন।

আপনাদের সুবিধার্থে আমি আমার টিপস এন্ড ট্রিকসগুলি ভিডিও আকারে শেয়ার করার জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করেছি। আশা করি চ্যানেলটি Subscribe করবেন।

সৌজন্যে : বাংলাদেশের জনপ্রিয় এবং বর্তমান সময়ের বাংলা ভাষায় সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক টিউটোরিয়াল সাইট – www.TutorialBD71.blogspot.com নিত্যনতুন বিভিন্ন বিষয়ে টিউটোরিয়াল পেতে সাইটটিতে সবসময় ভিজিট করুন।

2 thoughts on "সরকারিভাবে ফ্রি ১৩৫০০ টাকা সহ ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্স গ্রহণ করুন।"

  1. H4CK Contributor says:
    মডেল মসজিদের জন্য কিছু দরবারি আলেম প্রস্তুত করা হবে যারা সরকারের কথায় হারামকে হালাল আর হালাল কে হারাম বলে প্রতি জুমায় খুতবা দিবে।
    আমাদের জন্য আগামীতে অনেক বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করতেছে।😶
    1. Mahbub Pathan Author Post Creator says:
      হা…..হা…..হা আপনার কথায় যুক্তি আছে। তবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি অনেক আগেই থেকে চলে আসতেছে।

Leave a Reply