আসসালামু আলাইকুম ।আশাকরি সকলেই ভালো আছেন ।আজ আপনাদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম ।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

জাহান্নাম

চির দুঃখ-কষ্ট-পেরেশানী, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, অপমান, বিড়ম্বনা, দুর্ভাগ্য, লজ্জা-শরম, ক্ষুধা-পিপাসা, আগুন, অশান্তি, হতাশ-নিরাশা, চীৎকার-কান্নাকাটি, শাস্তি, অভিশাপ, আযাব-গযব ও অসন্তোষের স্থান হলো জাহান্নাম। শান্তির লেশমাত্রই সেখানে নেই। হাত-পা ও ঘাড়-গলা শিকলে বেঁধে বেড়ি পরিয়ে দলে দলে জাহান্নামের অতল গহবরে নিক্ষেপ করা হবে। যেখানে শুধু অতিবেশি তেজ ও দাহ্য শক্তিসম্পন্ন আগুন ছাড়া আর কিছু নেই। দোযখের অগ্নিশিখা তাদেরকে উপর, নীচ এবং ডান ও বাম থেকে স্পর্শ করবে, জ্বালাতে-পোড়াতে থাকবে। একবার চামড়া পুড়ে গেলে আবারো নুতন চামড়া গজাবে যেন বার বার আগুনের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে। পিপাসায় প্রাণ পেটের নাড়ি-ভূঁমি গলে যাবে। এ হচ্ছে, আজাবের উপর আযাব। তাতে পিপাসা না কমে আরো তীব্র হবে। অতি দুর্গন্ধময় যাক্কুম এবং কাঁটাযুক্ত ঘাস ও গিসলিন হবে তাদের খাদ্য। ক্ষুধার তাড়নায় জঠর জ্বালায় তা ভক্ষণ করতে গেলে পেটের ভেতরে আরো যন্ত্রণা বাড়াবে। খাদ্য এবং পানীয় হবে আযাবের অন্যতম উপকরণ।

অতিশয় ঠান্ডা ও হিম প্রবাহ দ্বারাও আরেক প্রকার শাস্তি দেয়া হবে। বরফের চাইতে শত গুণ ঠান্ডা যামহারীরে তাদেরকে রাখা হবে। সে আযাব হবে করুণ। তারা শাস্তির মধ্যে মৃত্যু কামনা করবে, কিন্তু তা কবুল হবে না। নিরুপায় হয়ে জাহান্নাম থেকে বাইরে যেতে চাইবে। কিন্তু আজ তাদের কোন সাহায্যকারী নেই, নেই কোন সুপারিশকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।

জাহান্নাম হচ্ছে বিচিত্র রকমের অসহনীয় যাতনার বিশাল কারাগার। জাহান্নাম আজাবের কারণে দৈনিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি দেহের মধ্যে অবস্থিত হৃৎপিন্ড, নাড়ী-ভূড়ি, শিরা-উপশিরা, অস্থিমজ্জা ইত্যাদি বিকৃতি ঘটবে কিন্তু সেই তীব্র যন্ত্রণা হতে মুক্তি পাবার অথবা পালিয়ে যাবার কোন রাস্তাও খোলা থাকবে না। মহান আল্লাহ বলেন:

﴿ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا سَقَرُ ٢٧ لَا تُبۡقِي وَلَا تَذَرُ ٢٨ لَوَّاحَةٞ لِّلۡبَشَرِ ٢٩ عَلَيۡهَا تِسۡعَةَ عَشَرَ ٣٠ ﴾ [المدثر: ٢٧، ٣٠]

“আর তুমি কি জানো, জাহান্নাম কি? তা শান্তিতে থাকতে দেয় না আবার ছেড়েও দেয় না। চামড়া ঝলসে দেয়। উনিশজন ফেরেশতা তার প্রহরী হবে।’’ (সূরা মুদ্দাসসির: ২৭-৩০)

অন্যত্র বলা হয়েছে:

﴿ ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحۡيَىٰ ١٣ ﴾ [الاعلى: ١٣]

‘‘হে (জাহান্নামে) মরবেও না আবার জীবিতও থাকবে না।’’ (সূরা আ’লা: ১৩)

আরো বলা হয়েছে:

﴿ إِذَآ أُلۡقُواْ فِيهَا سَمِعُواْ لَهَا شَهِيقٗا وَهِيَ تَفُورُ ٧ تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ ٱلۡغَيۡظِۖ ﴾ [الملك: ٧، ٨]

‘‘তারা (জাহান্নামীরা) যখন সেখানে নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার ক্ষিপ্রতার তর্জন-গর্জন শুনতে পাবে এবং তা উত্থাল-পাতাল করতে থাকবে, ক্রোধ আক্রোশে এমন অবস্থা ধারণ করবে, মনে হবে তা গোস্বায় ফেটে পড়বে।’’ (সূরা মুলক: ৭-৮)

﴿إِذَا رَأَتۡهُم مِّن مَّكَانِۢ بَعِيدٖ سَمِعُواْ لَهَا تَغَيُّظٗا وَزَفِيرٗا ١٢ وَإِذَآ أُلۡقُواْ مِنۡهَا مَكَانٗا ضَيِّقٗا مُّقَرَّنِينَ دَعَوۡاْ هُنَالِكَ ثُبُورٗا ١٣﴾ [الفرقان: ١٢، ١٣]

‘‘জাহান্নাম যখন দূর হতে তাদেরকে (জাহান্নামীদের)দেখতে পাবে তখন তারা তার ক্রোধ ও তেজস্বী আওয়াজ (অর্থাৎ তর্জন-গর্জন) শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে হাত-পা বাধা অবস্থায় জাহান্নামের কোন সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে তখন তারা সেখানে কেবল মৃত্যুকে ডাকতে থাকবে।’’ (সূরা ফুরকান: ১২-১৩)

সূরা নাবায়ে বলা হয়েছে:

﴿ إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتۡ مِرۡصَادٗا ٢١ لِّلطَّٰغِينَ مَ‍َٔابٗا ٢٢ لَّٰبِثِينَ فِيهَآ أَحۡقَابٗا ٢٣ ﴾ [النبا: ٢١، ٢٣]

‘‘নিশ্চয় জাহান্নাম একটি ঘাঁটি। আল্লাহদ্রোহীদের জন্য আশ্রয়স্থল। সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে।’’ (সূরা নাবা: ২১-২৩)

জাহান্নামের শ্রেণী বিন্যাস

মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ لَهَا سَبۡعَةُ أَبۡوَٰبٖ لِّكُلِّ بَابٖ مِّنۡهُمۡ جُزۡءٞ مَّقۡسُومٌ ٤٤ ﴾ [الحجر: ٤٤]

‘‘জাহান্নামের সাতটি দরজা (স্তর) আছে। প্রত্যেকটি দরজার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দল নির্ধারিত হয়েছে।’’ (সূরা আল-হিজর: ৪)

অর্থাৎ জাহান্নাম হচ্ছে পরলোকের এমন একটি বিশাল এলাকা যেখানে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির জন্য ভিন্ন ভিন্ন এলাকা নির্ধারিত আছে। সেগুলোকে প্রধানত: সাত ভাগে ভাগ করা হয়েছে: যথা:

১.হাবিয়া।
২.জাহীম।
৩.সাকার।
৪.লাযা।
৫.সাঈর।
৬.হুতামাহ্ ।
৭.জাহান্নাম।
বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা শাস্তি ভোগ করবে। যেমন: কাফের, মুশরিক, ব্যভিচারী, সুদখোর, ঘুষখোর ইত্যাদি, সবার জন্যই ভিন্ন ভিন্ন স্তরে শাস্তি নির্দিষ্ট আছে। আবার প্রত্যেকটি স্তরের অনেকগুলো ঘাঁটি আছে। যথা:

গাছ্ছাক: একটি হ্রদ। যা জাহান্নামীগণের রক্ত, ঘাম ও পুঁজ ইত্যাদি প্রবাহিত হয়ে সেখানে জমা হবে।

গিছলিন: এটা হচ্ছে জাহান্নামীদের মল-মুত্র জমা হওয়ার স্থান। জাহান্নামীরা যখন খুব ক্ষুধা-তৃষ্ণা অনুভব করবে তখন উপরোক্ত দু’জায়গা হতে পানাহার করতে দেয়া হবে। তাছাড়া ‘তীনাতুল খাবাল’’ নামক বিষ ও পুঁজে পরিপূর্ণ আরেকটি কুপের কথাও হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাউদ: এটা তীনাতুল খবলের পাড়ে অবস্থিত একটি বিশাল পাহাড়।

এক শ্রেণীর জাহান্নামীদেরকে ঐ পাহাড়ের উপর উঠায়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলা হবে, পূণরায় উঠানো হবে এবং ফেলা হবে এভাবে শাস্তি দেয়া হবে।

ইরশাদ হচ্ছে:﴿ سَأُرۡهِقُهُۥ صَعُودًا ١٧ ﴾ [المدثر: ١٧] ‘‘সহসা-ই আমি তাকে সাউদ নামক পর্বতে চড়াবো।’’ (সূরা মুদ্দাসসির: ১৭)

যুববুল হযন: এটা জাহান্নামীদের আরেকটি ঘাঁট। এখানে রিয়াকার ও অহংকারী লোকদেরকে শাস্তি দেয়া হবে।

গাই: এটা জাহান্নামের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা। কেননা ‘গাই’য়ের ভীতিজনক হুংকার শ্রবণে জাহান্নামের অন্যান্য স্থান প্রতিদিন ‘গাই’ হতে চারশত বার আশ্রয় প্রার্থনা করে।

আল্লাহ ও রাসূলের অস্বীকারকারীদের জন্য জাহান্নাম

ইরশাদ হচ্ছে:

﴿ وَلِلَّذِينَ كَفَرُواْ بِرَبِّهِمۡ عَذَابُ جَهَنَّمَۖ وَبِئۡسَ ٱلۡمَصِيرُ ٦ ﴾ [الملك: ٦]

‘‘যে সব লোক তাদের রবকে অস্বীকার ও অমান্য করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম। তা আবাসস্থল হিসেবে অত্যন্ত খারাপ জায়গা।’’ (সূরা মূলক: ৬)

মহান আল্লাহ বলেন,

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَمَاتُواْ وَهُمۡ كُفَّارٌ أُوْلَٰٓئِكَ عَلَيۡهِمۡ لَعۡنَةُ ٱللَّهِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلنَّاسِ أَجۡمَعِينَ ١٦١ خَٰلِدِينَ فِيهَا لَا يُخَفَّفُ عَنۡهُمُ ٱلۡعَذَابُ وَلَا هُمۡ يُنظَرُونَ ١٦٢ ﴾ [البقرة: ١٦١، ١٦٢]

‘‘যারা কুফুরী করেছে এবং কাফের অবস্থাই মৃত্যুবরণ করেছে তাদের উপর আল্লাহর, ফেরেশতাদের ও সমস্ত মানুষের লা‘নত। এ অবস্থায় তারা (জাহান্নামে) অনন্তকাল অবস্থান করবে। তাদের শাস্তি কমানো হবে না অথবা অন্য কোন অবকাশ দেয়া হবে না।’’ (সূরা আল-বাকারা: ১৬১-১৬২)

﴿ إِنَّآ أَعۡتَدۡنَا لِلۡكَٰفِرِينَ سَلَٰسِلَاْ وَأَغۡلَٰلٗا وَسَعِيرًا ٤ ﴾ [الانسان: ٤]

‘‘আমরা কাফেরদের(আল্লাহ ও রাসূলের অস্বীকারকারী) জন্য শিকল, কণ্ঠকড়া ও দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি।’’ (সূরা দাহর: ৪)

অন্যত্র বলা হয়েছে, যারা কুফুরী করবে তাদের জান্নাতে যাওয়া ততোখানি অসম্ভব যতোখানি অসম্ভব সূচের ছিদ্রের ভেতর দিয়ে উষ্ট্র প্রবেশ করা।

আল-কুরআনে বলা হয়েছে:

﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِ‍َٔايَٰتِنَا وَٱسۡتَكۡبَرُواْ عَنۡهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمۡ أَبۡوَٰبُ ٱلسَّمَآءِ وَلَا يَدۡخُلُونَ ٱلۡجَنَّةَ حَتَّىٰ يَلِجَ ٱلۡجَمَلُ فِي سَمِّ ٱلۡخِيَاطِۚ وَكَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُجۡرِمِينَ ٤٠ لَهُم مِّن جَهَنَّمَ مِهَادٞ وَمِن فَوۡقِهِمۡ غَوَاشٖۚ وَكَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلظَّٰلِمِينَ ٤١ ﴾ [الاعراف: ٤٠، ٤١]

‘‘যারা আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যা মনে করে অস্বীকার করেছে এবং বিদ্রোহীর ভূমিকা অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য আসমানের দরজা কখনো খোলা হবে না। তাদের জান্নাতে প্রবেশ করা ততোখানি অসম্ভব যতোখানি অসম্ভব সূচের ছিদ্রের ভেতন দিয়ে উষ্ট্র প্রবেশ। অপরাধীদের জন্য প্রতিফলন এমন হওয়াই উচিত। তাদের জন্য আগুনের শয্যা ও চাদর নির্দিষ্ট আছে। আমরা জালেমদেরকে এরকম প্রতিফলনই দিয়ে থাকি।’’ (সূরা আ‘রাফ: ৪০-৪১)

জ্বিন, মানুষ ও পাথর জাহান্নামের ইন্ধন হবে

মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ وَلَقَدۡ ذَرَأۡنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلۡجِنِّ وَٱلۡإِنسِۖ لَهُمۡ قُلُوبٞ لَّا يَفۡقَهُونَ بِهَا وَلَهُمۡ أَعۡيُنٞ لَّا يُبۡصِرُونَ بِهَا وَلَهُمۡ ءَاذَانٞ لَّا يَسۡمَعُونَ بِهَآۚ أُوْلَٰٓئِكَ كَٱلۡأَنۡعَٰمِ بَلۡ هُمۡ أَضَلُّۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡغَٰفِلُونَ ١٧٩ ﴾ [الاعراف: ١٧٩]

‘‘আমরা জাহান্নামের জন্য বহু জ্বীন ও মানুষ পয়দা করেছি। তাদের কাছে দিল রয়েছে কিন্তু তারা তা দিয়ে চিন্তা ভাবনা করে না। তাদের চোখ আছে তবুও তারা দেখেনা, তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শুনেনা, তারা জন্তু জানোয়ারের মতো বরং তার চেয়েও নিকৃষ্ট। এরাই গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত।

সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:

﴿ فَٱتَّقُواْ ٱلنَّارَ ٱلَّتِي وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلۡحِجَارَةُۖ أُعِدَّتۡ لِلۡكَٰفِرِينَ ٢٤ ﴾ [البقرة: ٢٤]

‘‘তোমরা জাহান্নামের ঐ আগুনকে ভয় কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। যা কাফেরদের জন্য তৈরী করা হয়েছে।’’ (সূরা আল-বাকারা:২৪)

সূরা তাহরীমে শুধু ভয় করার কথাই বলা হয়নি বরং বাঁচার কার্যকরী পথ অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে:

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَأَهۡلِيكُمۡ نَارٗا وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلۡحِجَارَةُ عَلَيۡهَا مَلَٰٓئِكَةٌ غِلَاظٞ شِدَادٞ لَّا يَعۡصُونَ ٱللَّهَ مَآ أَمَرَهُمۡ وَيَفۡعَلُونَ مَا يُؤۡمَرُونَ ٦ ﴾ [التحريم: ٦]

‘‘হে ঈমানদারগণ! নিজেকে এবং স্বীয় পরিবারবর্গকে সে আগুন হতে রক্ষা করো যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। সেখানে অত্যন্ত কর্কশ, রূঢ় ও নির্মম স্বভাবের ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবে। যারা কখনো আল্লাহর আদেশ অমান্য করে না। যে হুকুমই তাদেরকে দেয়া হোক না কেনো তা ঠিক ঠিক ভাবে পালন করে।’’ (সূরা আত-তাহরীম:৬)

এখন প্রশ্ন হতে পারে মানুষ ও জ্বীনকে আগুনে জ্বালানো হবে এটা যুক্তিসংগত। কারণ তাদেরকে জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন এবং তার প্রয়োগের স্বাধীনতাও দিয়েছেন কিন্তু পাথরতো জড়ো পদার্থ, তাদেরকে কেন পূড়ানো হবে?

এর উত্তর হচ্ছে, দু’টি কারণে পাথরকে পোড়ানো হবে।

এক: যেহেতু মুশরিকগণ পাথরের মুর্তি তৈরি করে তার পূজা-আর্চনা করে এবং বলে যে, এরা আমাদেরকে সেদিন সুপারিশ করে বাঁচিয়ে দেবে। তাই তাদেরকে দেখিয়ে দেখিয়ে তাদের সাথেই সে সব পাথরের মূর্তিগুলোকে পুড়ানো হবে। যেনো মুশরিকগণ বুঝতে পারে ঐ সব পাথর নিজেকে রক্ষা করার সামর্থ পর্যন্ত রাখে না কাজেই কি করে তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করতে পারে।

দুই: আগুনে পাথর পুড়ালে আগুনের তাপমাত্রা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই যেহেতু কাফেরদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়াই আল্লাহর ফায়সালা তাই আগুনের তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্যই পাথর পুড়ানো হবে। (এ ব্যাপারে আল্লাহই ভালো জানেন)।

জাহান্নাম কাকে আহবান করবে?

এরশাদ হচ্ছে:

﴿تَدۡعُواْ مَنۡ أَدۡبَرَ وَتَوَلَّىٰ ١٧ وَجَمَعَ فَأَوۡعَىٰٓ ١٨ ﴾ [المعارج: ١٧، ١٨]

জাহান্নাম সেই ব্যক্তিকে আহবান করবে, যে সত্য ও সুন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো এবং তা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলো। আর যে ধন-সম্পদ (আল্লাহর পথে ব্যয় না করে) জমা করতো এবং তা আকঁড়ে ধরে থাকতো।’’ (সূরা মা‘আরিজ: ১৭-১৮)।

তাফসীরে ইবনে কাসীরে এ আয়াতের ব্যাখায় বলা হয়েছে: বন্য প্রাণী যেমনিভাবে তার খাদ্য অনুসন্ধান করে নেয় ঠিক তেমনিভাবে জাহান্নাম হাশরের ময়দান থেকে দুষ্ট লোকদেরকে এক এক করে খুঁজে নেবে।

অবশ্য অন্য হাদীসে আছে- সেদিন জাহান্নামের সত্তর হাজার লাগাম থাকবে এবং প্রতিটি লাগাম ৭০ হাজার করে ফেরেশতা ধরে রাখবে। (মুসলিম, ২৮৪২)

জাহান্নামীদেরকে গ্রাস করে জাহান্নাম তৃপ্ত হবে না

ইরশাদ হচ্ছে:

﴿ يَوۡمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ ٱمۡتَلَأۡتِ وَتَقُولُ هَلۡ مِن مَّزِيدٖ ٣٠ ﴾ [ق: ٣٠]

‘‘আমি সেদিন (জাহান্নামীদেরকে ভর্তি করার পর) জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করবো: তুমি কি পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছো? জাহান্নাম বলবে: আরো আছে কি?’’ (সূরা ক্বাফ: ৩০)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহওিয়া সাল্লাম বলেছেন:

‘‘জাহান্নামে জাহান্নামীদেরকে অনবরত ফেলা হবে। আর জাহান্নাম বলতে থাকবে, আরো আছে কি? সমস্ত জাহান্নামীদেরকে নিক্ষেপ করার পরও জাহান্নাম পরিতৃপ্ত হবে না। তখন আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামের মধ্যে তাঁর কুদরতী কদম রাখবেন। ফলে জাহান্নাম সংকোচিত হয়ে যাবে। আর বলতে থাকবে: ব্যস, ব্যস। আপনার ইয্যত ও অনুগ্রহের শপথ করে বলছি। আমার আর প্রয়োজন নেই। (বুখারী, ৪৮৪৮)

জাহান্নামীরা ভয়াবহ আজাবের সম্মুখীন হবে

মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ خُذُوهُ فَغُلُّوهُ ٣٠ ثُمَّ ٱلۡجَحِيمَ صَلُّوهُ ٣١ ثُمَّ فِي سِلۡسِلَةٖ ذَرۡعُهَا سَبۡعُونَ ذِرَاعٗا فَٱسۡلُكُوهُ ٣٢ ﴾ [الحاقة: ٣٠، ٣٢]

(নিদের্শ দেয়া হবে) ধরো এবং গলায় ফাঁস লাগিয়ে দাও। অতঃপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করো। আর সত্তর হাত দীর্ঘ শিকল দিয়ে ভালোভাবে বেধে দাও।’’ (সূরা আল হাক্কাহ: ৩১-৩৫)

সূরা মুরসালাতে বলা হয়েছে:

﴿ ٱنطَلِقُوٓاْ إِلَىٰ ظِلّٖ ذِي ثَلَٰثِ شُعَبٖ ٣٠ لَّا ظَلِيلٖ وَلَا يُغۡنِي مِنَ ٱللَّهَبِ ٣١ إِنَّهَا تَرۡمِي بِشَرَرٖ كَٱلۡقَصۡرِ ٣٢ ﴾ [المرسلات: ٣٠، ٣٢]

‘‘(জাহান্নামীদের বলা হবে) চলো, সে ছায়ার দিকে যা তিনটি শাখা বিশিষ্ট। যেখানে না (শীতল) ছায়া আছে আর না আগুনের লেলিহান শিখা হতে রক্ষাকারী কোন বস্তু। সে আগুন প্রাসাদের ন্যায় বিরাট স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করবে। তা এমনভাবে লাফাতে থাকবে, দেখলে মনে হবে যেন হলুদ বর্ণের উট।’’ (সূরা মুরসালাত: ৩০-৩৩)

অন্যত্র বলা হয়েছে:

﴿ إِذِ ٱلۡأَغۡلَٰلُ فِيٓ أَعۡنَٰقِهِمۡ وَٱلسَّلَٰسِلُ يُسۡحَبُونَ ٧١ فِي ٱلۡحَمِيمِ ثُمَّ فِي ٱلنَّارِ يُسۡجَرُونَ ٧٢ ﴾ [غافر: ٧١، ٧٢]

‘‘যখন তাদের গলায় শিকল ও জিঞ্জির লাগানো হবে, তখন তা ধরে টগবগ করে ফুটন্ত পানি দিয়ে টানা হবে এবং পরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।’’ (সূরা আল-মুমিন: ৭১-৭২)

﴿وَإِنَّ لِلطَّٰغِينَ لَشَرَّ مَ‍َٔابٖ جَهَنَّمَ يَصۡلَوۡنَهَا فَبِئۡسَ ٱلۡمِهَادُ ٥٦ هَٰذَا فَلۡيَذُوقُوهُ حَمِيمٞ وَغَسَّاقٞ ٥٧ وَءَاخَرُ مِن شَكۡلِهِۦٓ أَزۡوَٰجٌ﴾ [ص: ٥٥، ٥٨]

‘‘আর খোদাদ্রোহী লোকদের নিকৃষ্ট পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম। সেখানে তারা (অনন্তকাল) জ্বলবে। এটা অত্যন্ত খারাপ স্থান। প্রকৃতপক্ষে এ তাদের জন্যেই। অতএব সেখানে তারা স্বাধ গ্রহণ করবে টগবগ করা ফুটন্ত পানি, ফুঁজ, রক্ত এবং এ ধরনের আরো অনেক কষ্টের। ’’ (সূরা সাদ: ৫৫-৫৮)

﴿ يُصَبُّ مِن فَوۡقِ رُءُوسِهِمُ ٱلۡحَمِيمُ ١٩ يُصۡهَرُ بِهِۦ مَا فِي بُطُونِهِمۡ وَٱلۡجُلُودُ ٢٠ وَلَهُم مَّقَٰمِعُ مِنۡ حَدِيدٖ ٢١ كُلَّمَآ أَرَادُوٓاْ أَن يَخۡرُجُواْ مِنۡهَا مِنۡ غَمٍّ أُعِيدُواْ فِيهَا وَذُوقُواْ عَذَابَ ٱلۡحَرِيقِ ٢٢ ﴾ [الحج: ١٩، ٢٢]

‘‘তাদের (জাহান্নামীদের)মাথার উপরে তীব্র গরম পানি ঢেলে দেয়া হবে, ফলে তাদের পেটের মধ্যে অবস্থিত সকল বস্তু ও চামড়া (সাথে সাথে) গলে যাবে এবং তাদের জন্য লোহার ডান্ডা থাকবে। যখনই তারা স্বাসবোধন অবস্থান জাহান্নাম হতে বের হবার চেষ্টা করবে তখনই তাদেরকে প্রতিহত করা হবে এবং বলা হবে দহনের শাস্তি ভোগ করতে থাক।’’ (সূরা হজ্জ: ১৯-২২)

পুজ পান করানো হবে

প্রচন্ড শাস্তির কারণে জাহান্নামীদের ক্ষুধা-পিপাসা মারাত্মক হবে। তারা কেবল খাইতে চাইবে। যা দেয়া হবে তাই খাবে ও পান করবে। তাদেরকে পুজ ও রক্ত মিশ্রিত পানি পান করতে দেয়া হবে। আল্লাহ বলেন:

﴿مِّن وَرَآئِهِۦ جَهَنَّمُ وَيُسۡقَىٰ مِن مَّآءٖ صَدِيدٖ ١٦ يَتَجَرَّعُهُۥ وَلَا يَكَادُ يُسِيغُهُۥ﴾ [ابراهيم: ١٦، ١٧]

“তার সামনে দোযখ রয়েছে। তাতে পুজ ও রক্ত মিশ্রিত পানি পান করানো হবে। ঢোক গিলে তা পান করবে এবং গলার ভেতরে প্রবেশ করাতে কমই পারবে।” (সূরা ইব্রাহীম: ১৬-১৭)

আগুনের পোশাক, গরম পানি ও লোহার হাতুড়ি দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে

দোযখীদের শাস্তি বহুমুখী। আল্লাহ বলেন:

﴿فَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ قُطِّعَتۡ لَهُمۡ ثِيَابٞ مِّن نَّارٖ يُصَبُّ مِن فَوۡقِ رُءُوسِهِمُ ٱلۡحَمِيمُ ١٩ يُصۡهَرُ بِهِۦ مَا فِي بُطُونِهِمۡ وَٱلۡجُلُودُ ٢٠ وَلَهُم مَّقَٰمِعُ مِنۡ حَدِيدٖ ٢١ كُلَّمَآ أَرَادُوٓاْ أَن يَخۡرُجُواْ مِنۡهَا مِنۡ غَمٍّ أُعِيدُواْ فِيهَا وَذُوقُواْ عَذَابَ ٱلۡحَرِيقِ ٢٢ ﴾ [الحج: ١٩، ٢٢]

‘যারা কাফের, তাদের জন্য আগুনের পোষাক তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাথার উপা ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে। ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চামড়া গলে বের হয়ে যাবে। তাদের জন্য আছে লোহার হাতুড়ি। তারা যখনই যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বলা হবে: দহন শাস্তি ভোগ কর।’

কুরআনে বর্ণিত ‘দোযখের ৭টি দরজার’ তাফসীর প্রসঙ্গে ‘আতা বলেন, এ দরজাগুলো ভীষণ দুঃখ-কষ্ট ও কঠিন বিপদ-মুসীবতে ভরা। যারা জানা সত্ত্বেও যেনা করেছে, তাদের নিকৃষ্টতম পচা দুর্গন্ধে এগুলো দুর্গন্ধময় হয়ে থাকবে।

দোযখীদেরকে যেনাকারীদের যৌনাঙ্গ থেকে নি:সৃত পচা-দুর্গন্ধযুক্ত পানীয় পান করানো হবে

মাকহুল দামেশকী বলেন, দোযখীরা খুব পচা দুর্গন্ধ পেয়ে বলবে, এর চাইতে বেশি দুর্গন্ধ আমরা আর কখনও পাইনি। তাদেরকে বলা হবে, এটা যেনাকারীদের লজ্জাস্থানের পচা দুর্গন্ধ।

জাহান্নামে জুববুল হোযন নামক এক উপত্যকায় খচ্চরের মতো বিরাট বিচ্ছু যেনাকারীকে দংশন করতে থাকবে। প্রতি দংশনে এক হাজার বছর পর্যন্ত বিষের যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকবে। তারপর গোশত খসে পড়বে এবং জননেন্দ্রিয় থেকে পুজ বের হবে।

বেনামাযীকে জাহান্নামের মালহাম নামক অঞ্চলের উটের ঘাড়ের মতো মোটা এবং প্রায় এক মাসের পথের সমান লম্বা বিষধর সাপ দংশন করতে থাকবে। প্রতি দংশনের বিষ ৭০ বছর পর্যন্ত যন্ত্রণা দেবে, এবপর গোশত খসে পড়বে।

যারা সোনা-রূপার যাকাত দেয় না, সেগুলোকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে তাদের কপালে, পিঠ ও পার্শ্বে শেক দিয়ে বলা হবে, এখন তোমরা তোমাদের জমাকৃত সম্পদের মজা ভোগ করো।

এছাড়াও সুদখোর, মিথ্যুক, নিন্দুক, চোর-ডাকাত, জালেম-অত্যাচারী, অন্যের অধিকার নষ্টকারী, মা-বাপের অবাধ্য ও তাদেরকে কষ্টদানকারী সন্তানের জন্যও বহু আযাব রয়েছে। এখানে শুধু দু’একটা দলের আযাবের সামান্য ইঙ্গিত দেয়া হলো।

জাহান্নামের গভীরতা অনেক

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذْ سَمِعَ وَجْبَةً، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَدْرُونَ مَا هَذَا؟» قَالَ: قُلْنَا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «هَذَا حَجَرٌ رُمِيَ بِهِ فِي النَّارِ مُنْذُ سَبْعِينَ خَرِيفًا، فَهُوَ يَهْوِي فِي النَّارِ الْآنَ، حَتَّى انْتَهَى إِلَى قَعْرِهَا»

আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাছে বসা। তিনি একটি শব্দ শুনলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি জান এটা কিসের শব্দ? আমরা জবাবে বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক ভাল জানেন। তিনি বলেন, ৭০ বছর আগে, জাহান্নামে একটি পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এখন তা এর তলদেশে গিয়ে পড়েছে। (মুসলিম, ২৮৪৪)।

উপরে ও নীচে আগুনের ছাতা

জাহান্নামীদের নীচে ও উপরে এবং ডানে ও বামে আগুন ছাড়া আর কিছু নেই। তারা এ আগুনে দগ্ধ হতে থাকবে। আল্লাহ বলেন:

﴿لَهُم مِّن فَوۡقِهِمۡ ظُلَلٞ مِّنَ ٱلنَّارِ وَمِن تَحۡتِهِمۡ ظُلَلٞۚ ﴾[الزمر: ١٦]

‘তাদের জন্য উপর দিক এবং নীচের দিক থেকে আগুনের ছাতা থাকবে। ( সূরা যুমার: ১৬)

জাহান্নামীদের আকার আকৃতির বিস্তৃতি ঘটিয়ে আজাব দেয়া হবে

পৃথিবীর মতো এতো সুন্দর চেহারা বা আকার আকৃতি জাহান্নামীদের থাকবে না। সেদিন তাদের চেহারাকে বিকৃতি ও কুৎসিত করে দেয়া হবে।

ইরশাদ হচ্ছে:

﴿ وَٱلَّذِينَ كَسَبُواْ ٱلسَّيِّ‍َٔاتِ جَزَآءُ سَيِّئَةِۢ بِمِثۡلِهَا وَتَرۡهَقُهُمۡ ذِلَّةٞۖ مَّا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِنۡ عَاصِمٖۖ كَأَنَّمَآ أُغۡشِيَتۡ وُجُوهُهُمۡ قِطَعٗا مِّنَ ٱلَّيۡلِ مُظۡلِمًاۚ ﴾ [يونس: ٢٧]

‘‘যারা খারাপ কাজ করবে তাদের পরিণতিও অনুরূপ খারাপ হবে। অপমান লাঞ্চনা তাদেরকে আবন্ধ করে রাখবে। আর আল্লাহর আজাব থেকে কেউ তাদেরকে রক্ষা করবে না। তাদের মুখমন্ডল যেন তমসাচ্ছন্ন রাতের তিমিরে আচ্ছাদিত।’’ (সূরা ইউনুস: ২৭)

অন্যত্র বলা হয়েছে:

﴿ تَلۡفَحُ وُجُوهَهُمُ ٱلنَّارُ وَهُمۡ فِيهَا كَٰلِحُونَ ١٠٤ ﴾ [المؤمنون: ١٠٤]

‘‘আগুন তাদের মুখ মন্ডলকে চেটেচেটে খাবে এবং তাদের চেহারাগুলো হবে বীভৎস।’’ (সূরা মুমিনুন: ১০৪)

জাহান্নামের শাস্তির যে ধরন, তা পুরোপুরি অনুভব করতে হলে দৈহিক আকার আকৃতির পরিবর্তনের প্রয়োজন, এটা স্বাভাবিক জ্ঞান ও বুদ্ধির দাবী। আকার আকৃতি যতো বড়ো হয় শাস্তির তীব্রতাও ততো বেশি অনুভূত হয়। যেমন একটি মশাকে কোনো কঠিন শাস্তি দেয়া যায় না, কিন্তু একটি বিড়াল, ছাগল অথবা তার চেয়ে বড়ো কোন প্রাণীকে ইচ্ছেমতো যে কোন শাস্তি দেয়া যায়। ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহও পাপীদেররকে আকার আকৃতি বৃদ্ধি করে দেবেন, যেনো আল্লাহর শাস্তি পুরোপুরি ভোগ করতে পারে।

গায়ের চামড়া পরিবর্তন করে জ্বালানো হবে

আল্লাহ বলেন:

﴿ كَلَّآۖ إِنَّهَا لَظَىٰ ١٥ نَزَّاعَةٗ لِّلشَّوَىٰ ١٦ ﴾ [المعارج: ١٥، ١٦]

‘কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি। যা চামড়া তুলে নেবে। (সূরা মা’আরেজ: ১৫-১৬)

﴿ كُلَّمَا نَضِجَتۡ جُلُودُهُم بَدَّلۡنَٰهُمۡ جُلُودًا غَيۡرَهَا لِيَذُوقُواْ ٱلۡعَذَابَۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَزِيزًا حَكِيمٗا ٥٦ ﴾ [النساء: ٥٦]

‘‘যখন তাদের দেহের চামড়া আগুনে পুড়ে পুড়ে গলে যাবে, তখন (সাথে সাথে) সেখানে অন্য চামড়া সৃষ্টি করে দেবো; যেনো তারা আজাবের স্বাদ পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে। বস্তুত আল্লাহ বড়োই শক্তিশালী এবং নিজের ফায়সালা সমূহ কার্যকরী করার কৌশল খুব ভালো করেই জানেন।’’ (সূরা নিসা: ৫৬)

চামড়া পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং পুড়ে যাচ্ছে, পুনরায় আবার তা তৈরী হচ্ছে এ অনুভুতি কখনো জাহান্নামীদের থাকবে না। কেননা (পৃথিবীতে) যদি কোন বস্তু প্রতি সেকেন্ডে দশবার পর্যন্ত পরিবর্তন হয় তবে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। কিন্তু কোন বস্তু যদি প্রতি সেকেন্ডে দশবারের বেশী পরিবর্তন হয়, তবে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। বরং ঐ বস্তুকে স্থির দেখি। যেমন বিদ্যুৎ এর বাতি। বিদ্যুৎ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশ বার দিক পরিবর্তন করে অর্থাৎ একটি বাতি জ্বলা অবস্থায় দেখি, কারণ যেহেতু সেকেন্ডে দশবারের বেশি দিক পরিবর্তন হচ্ছে তাই আমরা বাতিকে স্থির দেখি। তদ্রুপ জাহান্নামীদেরকে প্রতি সেকেন্ডে কয়েকশবার চামড়া পরিবর্তন করা হবে, কিন্তু জাহান্নামীগণ মনে করবে, সেই পুরানো চামড়াই শরীরে আছে এবং তা অবিরাম পুড়ে চলছে।

জাহান্নামীরা ছায়ার মধ্যে থাকবে

﴿ فِي سَمُومٖ وَحَمِيمٖ ٤٢ وَظِلّٖ مِّن يَحۡمُومٖ ٤٣ لَّا بَارِدٖ وَلَا كَرِيمٍ ٤٤ ﴾ [الواقعة: ٤٢، ٤٤]

‘‘তারা গরম বাষ্প, টগবগ করা ফুটন্ত পানি এবং কালো ধুঁয়ার ছায়ার মধ্যে থাকবে। তা (কখনো না ঠান্ডা হবে, না শান্তি দায়ক)’’। (সূরা ওয়াকি‘আহ্‌: ৪২-৪৫)

পূর্বেই বলা হয়েছে যে, কালো বর্ণের আগুনে জাহান্নামীদেরকে নিক্ষেপ করা হবে। তাই যখন তারা সেখানে প্রবেশ করবে তখন চারদিকে অসহ্য তাপ ও ধুয়ার মতো ঘোলাটে অন্ধকার দেখবে। এ অবস্থার কথাই উপরোক্ত আয়াতে বলা হয়েছে।

জাহান্নামীদের খাদ্য ও পানীয়

যাক্কুম বৃক্ষ হবে খাদ্য এবং ফুটন্ত পানি শরীরের উপর ঢেলে দেয়া হবে

ক্ষুধার জ্বালায় জান বেরিয়ে যাবে। তখন তারা খাদ্য চাইবে। কিন্তু খাদ্য তো দেয়া হবে না, দেয়া হবে অখাদ্য। যেটা পাবে সেটাই চাইবে। এ মর্মে আল্লাহ বলেন:

﴿ إِنَّ شَجَرَتَ ٱلزَّقُّومِ ٤٣ طَعَامُ ٱلۡأَثِيمِ ٤٤ كَٱلۡمُهۡلِ يَغۡلِي فِي ٱلۡبُطُونِ ٤٥ كَغَلۡيِ ٱلۡحَمِيمِ ٤٦ خُذُوهُ فَٱعۡتِلُوهُ إِلَىٰ سَوَآءِ ٱلۡجَحِيمِ ٤٧ ثُمَّ صُبُّواْ فَوۡقَ رَأۡسِهِۦ مِنۡ عَذَابِ ٱلۡحَمِيمِ ٤٨ ﴾ [الدخان: ٤٣، ٤٨]

‘নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ পাপীর খাদ্য হবে। গলিত তামার মতো পেটে ফুটতে থাকবে। যেমন পাটি ফুটে। একে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে। তারপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানির আযাব ঢেলে দাও। (সূরা দোখান: ৪৩-৪৮)

আরও বলেন,

﴿ ثُمَّ إِنَّ لَهُمۡ عَلَيۡهَا لَشَوۡبٗا مِّنۡ حَمِيمٖ ٦٧ ﴾ [الصافات: ٦٧]

‘‘অতঃপর পান করার জন্য তাদের ফুটন্ত পানি দেয়া হবে।’’ (সূরা ছাফ্ফাত: ৬৭)

অন্যত্র বলা হয়েছে:

﴿لَأٓكِلُونَ مِن شَجَرٖ مِّن زَقُّومٖ ٥٢ فَمَالِ‍ُٔونَ مِنۡهَا ٱلۡبُطُونَ ٥٣ فَشَٰرِبُونَ عَلَيۡهِ مِنَ ٱلۡحَمِيمِ ٥٤ فَشَٰرِبُونَ شُرۡبَ ٱلۡهِيمِ ﴾ [الواقعة: ٥٢، ٥٥]

‘‘অবশ্যই তারা যাক্কুম গাছের খাদ্য খাবে। ওগুলোর দ্বারাই পেট ভর্তি করবে। আর উপর হতে টগবগ করে ফুটন্ত পানি পিপাসা কাতর উটের ন্যায় পান করবে।’’ (সূরা ওয়াকি‘আহ্‌: ৫২-৫৩)

যাক্কুম, Cactus জাতীয় গাছ। আরবের তিহামা অঞ্চলে এ গাছ জন্মে। এর স্বাধ তিক্ত এবং গন্ধ অসহ্য। ঐ গাছ ভাঙ্গলে দুধের মতো সাদা কস বের হয়, যা গায়ে লাগলে সাথে সাথে ফোস্কা পড়ে ঘা হয় এবং গা ফুলে উঠে। আগেই বলা হয়েছে পৃথিবীর সাথে আখিরাতের কোন বস্তুর নামের মিল থাকলেও মুলত ঐ দুই বস্তু এক নয়। পৃথিবীর যাক্কুম গাছের তুলনায় আখিরাতের যাক্কুম আরও নিকৃষ্ট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন:

«لَوْ أَنَّ قَطْرَةً مِنَ الزَّقُّومِ قُطِرَتْ فِي دَارِ الدُّنْيَا لَأَفْسَدَتْ عَلَى أَهْلِ الدُّنْيَا مَعَايِشَهُمْ، فَكَيْفَ بِمَنْ يَكُونُ طَعَامَهُ؟»

“যদি যাক্কুমের এক বিন্দু পৃথিবীতে পড়ে তবে তা সারা বিশ্বের প্রাণীকুলের আহার্য বস্তুকে বিকৃত করে ফেলবে।’’ (মুসনাদে আহমাদ: ১/৩০০)

সুতরাং এক ফোটা যাক্কুম যদি পৃথিবীর নদ-নদীতে ফেলা হয়, তবে তা পৃথিবী বাসীর সমস্ত খাদ্য দ্রব্যকে পয়মাল করে দেবে।

যাক্কুম গাছের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন:

﴿ إِنَّهَا شَجَرَةٞ تَخۡرُجُ فِيٓ أَصۡلِ ٱلۡجَحِيمِ ٦٤ طَلۡعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّيَٰطِينِ ٦٥ ﴾ [الصافات: ٦٤، ٦٥]

‘তা এমন একটি গাছ যা জাহান্নামের তলদেশ হতে বের হয়। তার ছড়াগুলি এমন, যেনো শয়তানগুলোর মাথা?’’

‘‘শয়তানগুলোর মাথা’’ এ কথাটি একটি দৃষ্টান্ত। যেমন আমরা কারো চেহারা বিবর্ণ দেখলে বলি একেবারে পেত্মীর মতো দেখতে। ঠিক এমনি একটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে শয়তানের মাথার দৃষ্টান্ত। এ যে অত্যন্ত অরুচিকর, অখাদ্য, কুখাদ্য তা বুঝানোই হচ্ছে উক্ত আয়াতের অভিপ্রায়।

সূরা গাশিয়ায় বলা হয়েছে:

﴿تُسۡقَىٰ مِنۡ عَيۡنٍ ءَانِيَةٖ ٥ لَّيۡسَ لَهُمۡ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٖ ٦ لَّا يُسۡمِنُ وَلَا يُغۡنِي مِن جُوعٖ ٧ ﴾ [الغاشية: ٥، ٧]

‘‘তাদেরকে ফুটন্ত কুপের পানি পান করানো হবে। কাটা যুক্ত শুস্ক ঘাস ছাড়া আর কোন খাদ্য তাদের জন্য থাকবে না। তার দেহের পুষ্টি সাধন করবে না এবং তাতে ক্ষুধারও উপশম হবে না।’’ (সুরা গাশিয়া: ৫-৭)

সে পানি শুধুমাত্র গরম ও ফুটন্তই হবে না বরং তা তামা বা কঠিন কোন ধাতুকে তাপ প্রয়োগে তরল করা হলে, সেই উত্তপ্ত তরলের মতো হবে।

ইরশাদ হচ্ছে:

﴿وَإِن يَسۡتَغِيثُواْ يُغَاثُواْ بِمَآءٖ كَٱلۡمُهۡلِ يَشۡوِي ٱلۡوُجُوهَۚ بِئۡسَ ٱلشَّرَابُ وَسَآءَتۡ مُرۡتَفَقًا ٢٩ ﴾ [الكهف: ٢٩]

‘‘তারা পানির আকাংখা করলে গলিত ধাতুর ন্যায় পানি সরবরাহ করা হবে। যা তাদের মুখমন্ডলকে ঝলসে দেবে। এটা কতো নিকৃষ্ট পানীয় এবং জাহান্নাম কতোই না নিকৃষ্ট স্থান।’’ (সূরা কাহারু: ১৯)

আরো বলা হয়েছে,

﴿ فَقَطَّعَ أَمۡعَآءَهُمۡ ١٥ ﴾ [محمد: ١٥]

‘‘সে পানি পান করা মাত্র) তা তাদের নাড়ি ভূড়িকে ছিন্ন ভিন্ন করে দেবে।’’ (সূরা মুহাম্মদ: ১৫)

﴿ لَّا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرۡدٗا وَلَا شَرَابًا ٢٤ إِلَّا حَمِيمٗا وَغَسَّاقٗا ٢٥ ﴾ [النبا: ٢٤، ٢٥]

‘‘ সেখানে ঠান্ডা ও পানোপযোগী কোন বস্তুর স্থান তারা পাবে না। যদিও বা কিছু পায় তা হচ্ছে উত্তপ্ত গরম পানি ও দুর্গন্ধযুক্ত মিশ্রিত রক্ত। (সূরা নাবা: ২৪-২৫)

সূরা ইব্রাহীমে বলা হয়েছে:

﴿وَيُسۡقَىٰ مِن مَّآءٖ صَدِيدٖ ١٦ يَتَجَرَّعُهُۥ وَلَا يَكَادُ يُسِيغُهُۥ وَيَأۡتِيهِ ٱلۡمَوۡتُ مِن كُلِّ مَكَانٖ وَمَا هُوَ بِمَيِّتٖۖ ١٧ ﴾ [ابراهيم: ١٦، ١٧]

“আর গলিত পুঁজ পান করানো হবে যা সে অতিকষ্টে গলধ:করণ করবে এবং তা গলধ:করণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। চতুর্দিক থেকে মৃত্যু যন্ত্রণা তাকে গ্রাস করে নেবে কিন্তু তবুও তার মৃত্যু হবে না।’’ (সূরা ইব্রাহীম: ১৬-১৭)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘‘যদি সেই দুর্গন্ধময় পুজ এক বালতি পৃথিবীতে ফেলে দেয়া হতো তবে তা গোটা পৃথিবীকে দুর্গন্ধ অতিষ্ঠ করে তুলতো।’’ (তিরমিযি, ২৫৮৪; মুসনাদে আহমাদ, ৩/২৮)

জাহান্নামীরা জান্নাতীদের নিকট খাদ্য ও পানীয় চাবে

﴿ وَنَادَىٰٓ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِ أَصۡحَٰبَ ٱلۡجَنَّةِ أَنۡ أَفِيضُواْ عَلَيۡنَا مِنَ ٱلۡمَآءِ أَوۡ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُۚ قَالُوٓاْ إِنَّ ٱللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ ٥٠ ﴾ [الاعراف: ٥٠]

‘‘জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদেরকে সামান্য পানি দাও কিংবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছেন তা হতে কিছু আমাদের দিকে নিক্ষেপ করে দাও। জবাবে জান্নাতীগণ বলবে: আল্লাহ তা’আলা এ দুটো বস্তুই কাফেরদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।’’ (সূরা আ’রাফ: ৫০)

উল্লেখিত আয়াত হতে প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবী যেমন স্থান কাল ও পাত্রের দ্বারা সীমাবদ্ধ কিন্তু আখিরাত স্থান-কালের সীমাবদ্ধতার উর্দ্বে। কেননা জান্নাতের পরিধি যেমন বিশাল ঠিক তেমনিভাবে জাহান্নামের পরিধিও বিশাল। তবুও এ দুপ্রান্ত থেকে একজন অপরজনের অবস্থা অবলোকন করতে পারবে এবং পরস্পর কথাও বলবে, তাতে তাদের দৃষ্টিপাত বা কণ্ঠস্বরে কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে না।

জাহান্নামীরা আফসোস করবে

তারা জাহান্নামের কঠোর আযাব দেখে আফসোস করে বলবে:

﴿ ٱلۡمُلۡكُ يَوۡمَئِذٍ ٱلۡحَقُّ لِلرَّحۡمَٰنِۚ وَكَانَ يَوۡمًا عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ عَسِيرٗا ٢٦ وَيَوۡمَ يَعَضُّ ٱلظَّالِمُ عَلَىٰ يَدَيۡهِ يَقُولُ يَٰلَيۡتَنِي ٱتَّخَذۡتُ مَعَ ٱلرَّسُولِ سَبِيلٗا ٢٧ يَٰوَيۡلَتَىٰ لَيۡتَنِي لَمۡ أَتَّخِذۡ فُلَانًا خَلِيلٗا ٢٨ لَّقَدۡ أَضَلَّنِي عَنِ ٱلذِّكۡرِ بَعۡدَ إِذۡ جَآءَنِيۗ وَكَانَ ٱلشَّيۡطَٰنُ لِلۡإِنسَٰنِ خَذُولٗا ٢٩ ﴾ [الفرقان: ٢٥، ٢٨]

সেদিন সত্যিকার রাজত্ব হবে দয়াময় আল্লাহর এবং কাফেরদের পক্ষে দিনটি হবে কঠিন। জালেম সেদিন আপন হাত দুটো দংশন করতে করতে বলবে, হায়! আফসুস, আমি যদি রাসূলের পথ অনুসরণ করতাম। হায়! আমি যদি অমুককে বন্ধু না বানাতাম। সে আমার কাছে উপদেশ আসার পরই আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছে। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোঁকা দেয়। (সূরা ফোরকান:২৬-২৯)

জাহান্নামের আযাব স্থায়ী

আল্লাহ বলেন,

﴿إِنَّ ٱلۡمُجۡرِمِينَ فِي عَذَابِ جَهَنَّمَ خَٰلِدُونَ ٧٤ ﴾ [الزخرف: ٧٤]

‘অপরাধীরা জাহান্নামের আযাবে চিরস্থায়ী অবস্থান করবে।’ (সূরা যুখরুফ: ৭৪)

আবু মুসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«إِنَّ أَهْلَ النَّارِ لَيَبْكُونَ حَتَّى لَوْ أُجْرِيَتِ السُّفُنُ فِي دُمُوعِهِمْ لَجَرَتْ، وَإِنَّهُمْ لَيَبْكُونَ الدَّمَ يَعْنِي مَكَانَ الدَّمْعِ»

জাহান্নামবাসীরা কাঁদতে থাকবে। তাদের চোখের পানিতে জাহাজ ভাসাতে চাইলে ভাসানো যাবে। তাদের চোখ থেকে অশ্রুর বদলে রক্ত বেরুবে। [হাকেম (৪/৬৪৮), হাদীসের সনদ সহীহ, আল্লামা যাহাবী ও আলবানী একে সহীহ হাদীস বলেছেন]

শিকলে বেঁধে দাহ্য আলকাতরার জামা পরানো হবে

অপরাধীদের শাস্তি কঠিন। আল্লাহ বলেন,

﴿وَتَرَى ٱلۡمُجۡرِمِينَ يَوۡمَئِذٖ مُّقَرَّنِينَ فِي ٱلۡأَصۡفَادِ ٤٩ سَرَابِيلُهُم مِّن قَطِرَانٖ وَتَغۡشَىٰ وُجُوهَهُمُ ٱلنَّارُ ﴾ [ابراهيم: ٤٩، ٥٠]

“তুমি ঐ দিন পাপীদেরকে পরস্পরে শৃঙ্খলাবদ্ধ দেখবে। তাদের জামা হবে দাহ্য আলকাতরার এবং তাদের মুখমন্ডলকে আগুন আচ্ছন্ন করে ফেলবে।” (সূরা ইব্রাহীম: ৪৯-৫০)

জাহান্নামীদেরকে যখন ফেরেশতারা এক হাতে চুলের মুঠি এবং অন্য হাতে পা ধরে চ্যাংদোলা করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে নিয়ে যাবে, তখন জাহান্নামের পাহারাদারগণ জিজ্ঞেস করবে: তোমাদের কাছে কি কোন সুসংবাদ দাতা এবং ভীতি প্রদর্শনকারী পৌছেনি? তখন কাফেরগণ বলবে: হ্যাঁ, পৌঁছেছিল কিন্তু আমরা তাদেরকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতাম এবং মিথ্যা মনে করতাম। তখন আফসোস করবে এবং বলবে:

﴿ وَقَالُواْ لَوۡ كُنَّا نَسۡمَعُ أَوۡ نَعۡقِلُ مَا كُنَّا فِيٓ أَصۡحَٰبِ ٱلسَّعِيرِ ١٠ ﴾ [الملك: ١٠]

‘‘হায়! আমরা যদি শুনতাম এবং অনুধান (জ্ঞান দিয়ে চিন্তা ভাবনা) করতাম, তবে আমরা আজ দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে নিক্ষিপ্ত লোকদের মধ্যে শামিল হতাম না।’’ সূরা মূলক: ১০)

সূরা আনআমে বলা হয়েছে:

﴿وَلَوۡ تَرَىٰٓ إِذۡ وُقِفُواْ عَلَى ٱلنَّارِ فَقَالُواْ يَٰلَيۡتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِ‍َٔايَٰتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢٧ ﴾ [الانعام: ٢٧]

‘‘হায়! সে সময়ের অবস্থা যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করানো হবে; তখন তারা বলবে: হায়! আমরা যদি দুনিয়ায় আবার ফিরে যেতে পারতাম এবং সেখানে আল্লাহর আয়াততে মিথ্যা মনে না করতাম, আর ঈমানদার লোকদের মধ্যে শামিল হতে পারতাম!’’ (সূরা আনআম: ২৭)

তাদের এ আবেদন নিবেদন ব্যর্থ হয়ে যাবে। আল্লাহ সরাসরি তাদের কথাকে প্রত্যাখান করবেন। ইরশাদ হচ্ছে:

﴿وَلَوۡ رُدُّواْ لَعَادُواْ لِمَا نُهُواْ عَنۡهُ وَإِنَّهُمۡ لَكَٰذِبُونَ ٢٨ ﴾ [الانعام: ٢٨]

‘‘তাদেরকে যদি পূর্ববর্তী জীবনের দিকে ফিরিয়েও দেয়া হয়,তবুও তারা সে সব কাজই করবে যা হতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। তারা তো সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাবাদী।’’ (সূরা আনআম: ২৮)

সূরা যুমারে বলা হয়েছে,

﴿وَسِيقَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِلَىٰ جَهَنَّمَ زُمَرًاۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُوهَا فُتِحَتۡ أَبۡوَٰبُهَا وَقَالَ لَهُمۡ خَزَنَتُهَآ أَلَمۡ يَأۡتِكُمۡ رُسُلٞ مِّنكُمۡ يَتۡلُونَ عَلَيۡكُمۡ ءَايَٰتِ رَبِّكُمۡ وَيُنذِرُونَكُمۡ لِقَآءَ يَوۡمِكُمۡ هَٰذَاۚ قَالُواْ بَلَىٰ وَلَٰكِنۡ حَقَّتۡ كَلِمَةُ ٱلۡعَذَابِ عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ ٧١ ﴾ [الزمر: ٧١]

‘‘যে সব লোক কুফরী করেছিলো তাদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌঁছাবে তখন তার (অর্থাৎ জাহান্নামের) দরজাগুলো খুলা হবে এবং তার কর্মচারীরা তাদেরকে বলবে: তোমাদের নিকট তোমাদের নিজেদের মধ্যে এমন কোন রাসূল কি আসেনি, যে তোমাদেরকে তোমাদের রবের আয়াতসমূহ শুনিয়েছে এবং তোমাদেরকে এ বলে ভয় প্রদর্শন করেছেন যে, এ দিনটি অবশ্যই একদিন তোমাদেরকে দেখতে হবে?’’ তারা বলবে: ‘‘হ্যাঁ এসেছিলো! কিন্তু আজাব হওয়ার ফায়সালা কাফেরদের ভাগ্যলিপি হয়ে গিয়েছে।’’ (সূরা যুমার: ৭১)

মানুষ যখন হতাশ ও পেরেশান হয়ে যায় তখনই তার মুখ দিয়ে হতবাক কথা বের হয়। উপরোক্ত দৃষ্টান্তটি তার নমুনা।

দুনিয়ার আগুন থেকে জাহান্নামের আগুনের তেজ ৭০ গুন বেশি

আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«نَارُكُمْ جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ»، قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كَانَتْ لَكَافِيَةً قَالَ: «فُضِّلَتْ عَلَيْهِنَّ بِتِسْعَةٍ وَسِتِّينَ جُزْءًا كُلُّهُنَّ مِثْلُ حَرِّهَا»

“তোমাদের দুনিয়ার আগুন, জাহান্নামের আগুনের ৭০ ভাগের ১ ভাগ। তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, এটা কি যথেষ্ট নয়? তিনি উত্তরে বলেন: এর সাথে আরো ৬৯ গুন যোগ করা হবে এবং প্রত্যেকটির গুণ এ আগুনের মতো।” (বুখারী, ৩২৬৫ ও মুসলিম, ২৮৪৩)

নিম্নতম শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তি

নোমান ইবন বাশীর থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«إِنَّ أَهْوَنَ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ القِيَامَةِ لَرَجُلٌ، تُوضَعُ فِي أَخْمَصِ قَدَمَيْهِ جَمْرَةٌ، يَغْلِي مِنْهَا دِمَاغُهُ»

“সবচাইতে কম সাজাপ্রাপ্ত জাহান্নামী ব্যক্তি হলো যার দুটো জুতার মধ্যে আগুনের দুটো ফিতা থাকবে। তা মাথার মগজকে এমনভাবে টগবগিয়ে সিদ্ধ করতে থাকবে যেন পাতিলে সিদ্ধ করা হয়। সে মনে করবে, তার চাইতে এত কঠিন আযাব আর কেউ ভোগ করছে না। অথচ, সেটা হলো সবচেয়ে কম আযাব।” [বুখারী, ৬৫৬১; মুসলিম, ২১৩]

সামুরা ইবন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«إِنَّ مِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ النَّارُ إِلَى كَعْبَيْهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى حُجْزَتِهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى عُنُقِهِ»

“আগুন কাউকে ছোট গিরা পর্যন্ত, কাউকে হাঁটু পর্যন্ত, কাউকে কোমর পর্যন্ত এবং কাউকে কাঁধ পর্যন্ত ঢেকে নেবে।” (মুসলিম, ২৮৪৫)

জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী

উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,

«اطَّلَعْتُ فِي الجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الفُقَرَاءَ، وَاطَّلَعْتُ فِي النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ»

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘‘আমি জান্নাতের গেটে দাঁড়িয়ে দেখলাম, এর অধিকাংশ অধিবাসী গরীব-মিসকীন। ধনীরা আটকা পড়েছে। জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানোর পর আমি জাহান্নামের গেটে দাঁড়িয়ে দেখলাম, তাদের অধিকাংশই নারী।’ (বুখারী, ৩২৪১ ও মুসলিম, ২৭৩৭)

জাহান্নামীদের দাঁত ওহোদ পাহাড়সম চামড়ার ঘনত্ব এবং দুই ঘাড়ের ব্যবধান তিন দিনের পথের দূরত্বের সমান

আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«ضِرْسُ الْكَافِرِ، أَوْ نَابُ الْكَافِرِ، مِثْلُ أُحُدٍ وَغِلَظُ جِلْدِهِ مَسِيرَةُ ثَلَاثٍ»

“(জাহান্নামে) কাফেরের দাঁত হবে ওহোদ পাহাড় সমান এবং চামড়ার ঘনত্ব হবে তিন দিনের পথের দূরত্বের সমান।” (মুসলিম, ২৮৫১)

অপরাধীরা পৃথিবীতে ফিরে আসতে চাইবে

কুরআনে এসেছে,

﴿ قَالُواْ رَبَّنَآ أَمَتَّنَا ٱثۡنَتَيۡنِ وَأَحۡيَيۡتَنَا ٱثۡنَتَيۡنِ فَٱعۡتَرَفۡنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلۡ إِلَىٰ خُرُوجٖ مِّن سَبِيلٖ ١١ ﴾ [غافر: ١١]

‘‘তারা বলবে হে আমাদের রব! তুমি নিশ্চয়ই আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু ও তার জীবন দান করেছো। এখন আমরা আমাদের অপরাধসমূহ স্বীকার করি। এখন (জাহান্নাম) থেকে বের হবার কোন পথ আছে কি?’’ (সূরা আল মু’মিন: ১১)

দু’বার মৃত্যু এবং দু’বার জীবন দান অর্থ-মানুষ অস্তিত্বহীন ছিলো অর্থাৎ মৃত্যু ছিলো, আল্লাহ জীবন দান করেছেন। আবার মৃত্যু দেবেন এবং পুণরায় কিয়ামতের দিন জীবিত করে উঠাবেন। এ কথা কয়টি স্বয়ং আল্লাহ রাববুল আলামীন সূরা বাকারায় স্পষ্ট করে বলেছেন:

﴿ كَيۡفَ تَكۡفُرُونَ بِٱللَّهِ وَكُنتُمۡ أَمۡوَٰتٗا فَأَحۡيَٰكُمۡۖ ثُمَّ يُمِيتُكُمۡ ثُمَّ يُحۡيِيكُمۡ ثُمَّ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ ٢٨ ﴾ [البقرة: ٢٨]

‘‘তোমরা আল্লাহর সাথে কেমন করে কুফুরী করতে পারো। অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন-মৃত্যু, তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। আবার মৃত্যু দেবেন এবং পুণরায় জীবন দান করে উঠাবেন। তারপর তার দিকেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।’’ (সূরা বাকারা: ২৮)

অপরাধীরা প্রথম তিনটি অবস্থা অবিশ্বাস করতো না, কেননা এ তিনটি অবস্থা তাদের চোখের সামনেই ঘটতো। কিন্তু শেষাবস্থা তারা প্রত্যক্ষ করতে পারে নি বলে উপহাস করে উড়িয়ে দিতো। কেননা শেষ অবস্থার খবর একমাত্র নবী রাসূলগণই দিয়েছেন। কিয়ামতের দিন কার্যত যখন এ অবস্থা ঘটে যাবে তখন তারা স্বীকার করবে এবং কাকুতি মিনতি করবে পৃথিবীতে পুণরায় ফিরে আসার জন্য।

সূরা ফাতির এ বলা হয়েছে:

﴿ وَهُمۡ يَصۡطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَآ أَخۡرِجۡنَا نَعۡمَلۡ صَٰلِحًا غَيۡرَ ٱلَّذِي كُنَّا نَعۡمَلُۚ﴾ [فاطر: ٣٧]

‘‘সেখানে (জাহান্নামে) তারা চিৎকার করে বলবে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান হতে বের করে নাও, যেনো আমরা নেক আমল করতে পারি। সে আমল থেকে ভিন্নতর যা আমরা পূর্বে করছিলাম।’’ (সূরা ফাতির: ৩৭)

অতঃপর তাদেরকে প্রতি উত্তরে বলা হবে:

﴿ أَوَ لَمۡ نُعَمِّرۡكُم مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تَذَكَّرَ وَجَآءَكُمُ ٱلنَّذِيرُۖ فَذُوقُواْ فَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِن نَّصِيرٍ ٣٧ ﴾ [فاطر: ٣٧]

‘‘আমরা কি তোমাদেরকে এমন বয়স দান করিনি যে,শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতে? আর তোমাদের নিকট সতর্ককারীও এসেছিলো। এখন (আজাবের) স্বাদ গ্রহণ করো। এখানে জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।’’ (সূরা ফাতির: ৩৭)

আত্মীয় স্বজন ও দুনিয়ার সব মানুষকে বিনিময় দিয়ে হলেও জাহান্নামীরা বাঁচতে চাবে

﴿ يَوَدُّ ٱلۡمُجۡرِمُ لَوۡ يَفۡتَدِي مِنۡ عَذَابِ يَوۡمِئِذِۢ بِبَنِيهِ ١١ وَصَٰحِبَتِهِۦ وَأَخِيهِ ١٢ وَفَصِيلَتِهِ ٱلَّتِي تُ‍ٔۡوِيهِ ١٣ وَمَن فِي ٱلۡأَرۡضِ جَمِيعٗا ثُمَّ يُنجِيهِ ﴾ [المعارج: ١١، ١٤]

‘‘সেদিন অপরাধীরা চাবে তার সন্তান, স্ত্রী, ভাই এবং সাহায্যকারী নিকটবর্তী পরিবার এমনকি দুনিয়ার সব মানুষকে বিনিময় দিয়ে হলেও নিজেকে আজাব থেকে বাঁচিয়ে দিতে।’’ (সূরা আল মা‘আরিজ: ১১-১৪)

সূরা আল-মু’মিনে বলা হয়েছে:

﴿فَلَآ أَنسَابَ بَيۡنَهُمۡ يَوۡمَئِذٖ وَلَا يَتَسَآءَلُونَ ١٠١ ﴾ [المؤمنون: ١٠١]

‘‘তখন তাদের মধ্যে আর কোন আত্মীয়তা থাকবে না, এমনকি পরস্পর দেখা হলেও (কেউ কাউকে) জিজ্ঞেস করবে না।’’ (সূরা আল মু’মিনুন: ১০১)

অন্যত্র বলা হয়েছে:

﴿ وَلَا يَسۡ‍َٔلُ حَمِيمٌ حَمِيمٗا ١٠ ﴾ [المعارج: ١٠]

‘‘সেদিন কোন প্রাণের বন্ধু অপর প্রাণের বন্ধুকে জিজ্ঞেসও করবে না।’’ (সূরা আল মা‘আরিজ: ১০)

প্রত্যেক জাহান্নামী দল পূর্ববর্তী দলকে দোষ দেবে

﴿كُلَّمَا دَخَلَتۡ أُمَّةٞ لَّعَنَتۡ أُخۡتَهَاۖ حَتَّىٰٓ إِذَا ٱدَّارَكُواْ فِيهَا جَمِيعٗا قَالَتۡ أُخۡرَىٰهُمۡ لِأُولَىٰهُمۡ رَبَّنَا هَٰٓؤُلَآءِ أَضَلُّونَا فَ‍َٔاتِهِمۡ عَذَابٗا ضِعۡفٗا مِّنَ ٱلنَّارِۖ قَالَ لِكُلّٖ ضِعۡفٞ وَلَٰكِن لَّا تَعۡلَمُونَ ٣٨ ﴾ [الاعراف: ٣٨]

‘‘প্রত্যেকটি দল যখনই জাহান্নামে প্রবেশ করবে, নিজের সঙ্গের দলটির উপর অভিশাপ দিতে দিতে অগ্রসর হবে। শেষ পর্যন্ত সকলেই যখন সেখানে সমবেত হবে, তখন (প্রত্যেক) পরবর্তী লোক পূর্ববর্তী লোকদের সম্পর্কে বলবে: হে আমাদের রব! এ লোকরাই আমাদের বিভ্রান্ত করেছে। এখন তাদেরকে আগুনে (আমাদের চেয়ে) দ্বিগুন শাস্তি দাও।

আল্লাহ বলবেন: ‘‘সকলের জন্যই দ্বিগুণ আজাব কিন্তু তোমরা তা বুঝবে না।’’ (সূরা আ’রাফ: ৩৮)

সকলের জন্য দ্বিগুণ আজাব এ কথার তাৎপর্য হচ্ছে: অপরাধীরা সর্বদাই নিজে অপকর্ম করে এবং আমাদের করতে উৎসাহ দেয়। যেহেতু প্রতিটি অপকর্মই বাহ্যিক চাকচিক্যেময়ই তাই তাদের উৎসাহে বিপুল সংখ্যক লোক সাড়া দেয়। আবার তাদের দেখাদেখি পরবর্তীতে আরেক দল অপরাধপ্রবণ হয়ে যায়। এমনি করে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক অপরাধীদের দল কিয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকে। সত্যি কথা বলতে কি,প্রত্যেকটি দলই পূর্ববর্তী দলকে অনুসরণ করেই অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ে এবং অপরাধী হিসেবে চি‎হ্নিত হয়। তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রত্যেক দলকেই দ্বিগুণ শাস্তি দেবেন। কারণ একদিকে যেমন তারা পূর্ববর্তী দলের অনুসারী অপরদিকে তারা তাদের পরবর্তী দলের পথ প্রদর্শক।

এ কথাগুলোই আল্লাহ পবিত্র কালামে অন্যভাবে বলেছেন:

﴿ٱللَّهُ وَلِيُّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ يُخۡرِجُهُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ أَوۡلِيَآؤُهُمُ ٱلطَّٰغُوتُ يُخۡرِجُونَهُم مِّنَ ٱلنُّورِ إِلَى ٱلظُّلُمَٰتِۗ ٢٥٧ ﴾ [البقرة: ٢٥٧]

‘‘আল্লাহ ঈমানদারদের বন্ধু! তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে পথ দেখান এবং কাফেরদের বন্ধু তাগুত (অর্থাৎ আল্লাহদ্রোহী শক্তি) তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে পথ দেখায়।’’ (সূরা বাকারা: ২৫৭)

অনুসারীগণ নেতাদের শাস্তি দাবী করবে:

﴿وَقَالُواْ رَبَّنَآ إِنَّآ أَطَعۡنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَآءَنَا فَأَضَلُّونَا ٱلسَّبِيلَا۠ ٦٧ رَبَّنَآ ءَاتِهِمۡ ضِعۡفَيۡنِ مِنَ ٱلۡعَذَابِ وَٱلۡعَنۡهُمۡ لَعۡنٗا كَبِيرٗا ٦٨ ﴾ [الاحزاب: ٦٧، ٦٨]

‘‘(যখন জাহান্নামীদেরকে আগুণে পুড়ানো হবে) তখন তারা বলবে: হে আমাদের রব! আমরা আমাদের সরদার ও নেতাদের আনুগত্য করেছি, তারা আমাদেরকে সঠিক সরল পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। হে রব! এ লোকদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দাও এবং তাদের উপর কঠিন অভিশাপ বর্ষণ করো।’’ (সূরা আহযাব: ৬৭-৬৮)

জাহান্নামীরা জাহান্নামে জ্বলতে জ্বলতে অসহ্য হয়ে যাবে। তখন চিৎকার করে বলতে থাকবে:

﴿ وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ رَبَّنَآ أَرِنَا ٱلَّذَيۡنِ أَضَلَّانَا مِنَ ٱلۡجِنِّ وَٱلۡإِنسِ نَجۡعَلۡهُمَا تَحۡتَ أَقۡدَامِنَا لِيَكُونَا مِنَ ٱلۡأَسۡفَلِينَ ٢٩ ﴾ [فصلت: ٢٩]

‘‘হে পরোয়ারদেগার! সেই জ্বিন ও মানুষদেরকে আমাদের সামনে এনে দাও, যারা আমাদেরকে গোমরাহ করছিলো। আমরা তাদেরকে আমাদের পায়ের তলায় রেখে দলিত মথিত করবো, যেনো তারা লাঞ্চিত ও অপমানিত হয়।’’ (সূরা হা-মীম-আস সিজদাহ: ২৯)

জাহান্নামীদের অনুভুতি তীব্র হবে। তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং সেদিন বুঝবে অন্ধভাবে নেতাদের অনুসরণ করা কতো বড় ভ্রান্তনীতি ছিলো। আল্লাহ বলেন

﴿تَٱللَّهِ إِن كُنَّا لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٍ ٩٧ إِذۡ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٩٨ ﴾ [الشعراء: ٩٧، ٩٨]

‘‘(আর এই বিভ্রান্ত লোকেরা নিজেদের নেতাদেরকে লক্ষ্য করে বলবে) আল্লাহর কসম! আমরা তো সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলাম, যখন তোমাদেরকে রাববুল আলামীনের মর্যাদা দিচ্ছিলেন।’’ (সূরা শু‘আরা: ৯৭-৯৮)

সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:

﴿ إِذۡ تَبَرَّأَ ٱلَّذِينَ ٱتُّبِعُواْ مِنَ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُواْ وَرَأَوُاْ ٱلۡعَذَابَ وَتَقَطَّعَتۡ بِهِمُ ٱلۡأَسۡبَابُ ١٦٦ وَقَالَ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُواْ لَوۡ أَنَّ لَنَا كَرَّةٗ فَنَتَبَرَّأَ مِنۡهُمۡ كَمَا تَبَرَّءُواْ مِنَّاۗ كَذَٰلِكَ يُرِيهِمُ ٱللَّهُ أَعۡمَٰلَهُمۡ حَسَرَٰتٍ عَلَيۡهِمۡۖ وَمَا هُم بِخَٰرِجِينَ مِنَ ٱلنَّارِ ١٦٧ ﴾ [البقرة: ١٦٦، ١٦٧]

যখন জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে তখন এসব নেতা ও প্রধান ব্যক্তিরা দুনিয়ায় যাদের অনুসরণ করা হতো, (তারা) তাদের অনুসারীদের সাথে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করতে থাকবে কিন্তু তবুও শাস্তি তারা পাবেই। এবং তাদের সমস্ত উপায় উপকরণের ধারা ছিন্ন হয়ে যাবে। আর যেসব লোক দুনিয়ায় তাদের অনুসারী ছিলো, তারা বলতে থাকবে: ‘‘হায়! যদি আমাদেরকে আরেকবার সুযোগ দেয়া হতো, তবে এরা আজ যেভাবে আমাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে, তেমনি আমরাও এদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে দেখিয়ে দিতাম। এভাবেই দুনিয়ায় এরা যে সমস্ত কাজ করেছে সেগুলো আল্লাহ তাদের সামনে এমনভাবে উপস্থিত করবেন যাতে তারা কেবল দুঃখ ও আক্ষেপই করতে থাকবে। কিন্তু জাহান্নামের আগুন থেকে বের হবার কোন পথই তারা খুঁজে পাবে না।’’ (সূরা বাকারা: ১৬৬-১৬৭)

সেখানে সবর করা না করা সমান হবে

﴿ يَوۡمَ يُدَعُّونَ إِلَىٰ نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا ١٣ هَٰذِهِ ٱلنَّارُ ٱلَّتِي كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ ١٤ أَفَسِحۡرٌ هَٰذَآ أَمۡ أَنتُمۡ لَا تُبۡصِرُونَ ١٥ ٱصۡلَوۡهَا فَٱصۡبِرُوٓاْ أَوۡ لَا تَصۡبِرُواْ سَوَآءٌ عَلَيۡكُمۡۖ إِنَّمَا تُجۡزَوۡنَ مَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ ١٦ ﴾ [الطور: ١٣، ١٦]

‘যেদিন তাদেরকে ধাক্কা মেরে মেরে জাহান্নামের দিতে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন তাদেরকে বলা হবে এই সে আগুন যাকে তোমরা ভিত্তিহীন গুজব মনে করেছিলে। এবার বলো, এটা কি যাদু? না তোমরা কিছুই দেখানো? এবার যাও এর মধ্যে ভষ্ম হতে থাকো। এখন তোমরা ধৈর্য ধারণ করো যা না করো, সবই তোমাদের জন্য সমান। তোমাদেরকে সে রকম প্রতিফলই দেয়া হচ্ছে যা তোমরা আমল করেছে।’’ (সূরা তুর: ১৩-১৬)

সূরা হাদীদে বলা হয়েছে:

যখন ফেরেশতাগণ জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে, তখন বলবে:

﴿فَٱلۡيَوۡمَ لَا يُؤۡخَذُ مِنكُمۡ فِدۡيَةٞ وَلَا مِنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْۚ مَأۡوَىٰكُمُ ٱلنَّارُۖ هِيَ مَوۡلَىٰكُمۡۖ وَبِئۡسَ ٱلۡمَصِيرُ ١٥ ﴾ [الحديد: ١٥]

‘‘আজ তোমাদের নিকট হতে কোন বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং যারা পৃথিবীতে (প্রকাশ্য দাম্ভিকতার সাথে আল্লাহর আয়াতগুলো) অস্বীকার করেছিলে (তাদেরকেও বিনিময় নিয়ে মুক্তি দেয়া হবে না। উপরন্ত বলা হবে) তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম। সে জাহান্নামই তোমাদের খোঁজখবর গ্রহণকারী অভিভাবক। কতো নিকৃষ্ট পরিণতি।’’ (সূরা আল হাদীদ: ১৫)

সত্যি কথা বলতে কি, সেখান হতে বের হওয়া তো দূরের কথা একমাত্র জাহান্নাম ছাড়া অন্য কোনো বন্ধু অভিভাবক কিংবা সহায্যকারীও পাবে না।

কাজেই সেখানে ইচ্ছায় হোক অথবা অনিচ্ছায় হোক, শাস্তি গ্রহণ করতেই হবে। এমন শাস্তি দেয়া হবে যে, ধৈর্য্য ধারনের প্রশ্নই উঠে না। তাই বলে ধৈর্য্য না ধরে জাহান্নামীদের কোন উপায় ও অবশিষ্ট থাকবে না।

শয়তান নিজেকে দায়িত্বমুক্ত ঘোষণা করবে

মানুষ যে শয়তানের প্ররোচনা ও ওয়াসওয়াসার কারণে গুণাহ করেছে এবং খারাপ পথে চলেছে সে শয়তান হাশরের দিন দোযখীদেরকে দেখে বলবে, তোমাদের শাস্তির জন্য আমি দায়ি নই, তোমরাই দায়ী। কোরআন এ মর্মে আমাদেরকে বলে:

﴿وَقَالَ ٱلشَّيۡطَٰنُ لَمَّا قُضِيَ ٱلۡأَمۡرُ إِنَّ ٱللَّهَ وَعَدَكُمۡ وَعۡدَ ٱلۡحَقِّ وَوَعَدتُّكُمۡ فَأَخۡلَفۡتُكُمۡۖ وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيۡكُم مِّن سُلۡطَٰنٍ إِلَّآ أَن دَعَوۡتُكُمۡ فَٱسۡتَجَبۡتُمۡ لِيۖ فَلَا تَلُومُونِي وَلُومُوٓاْ أَنفُسَكُمۖ مَّآ أَنَا۠ بِمُصۡرِخِكُمۡ وَمَآ أَنتُم بِمُصۡرِخِيَّ إِنِّي كَفَرۡتُ بِمَآ أَشۡرَكۡتُمُونِ مِن قَبۡلُۗ إِنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ لَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ ٢٢ ﴾ [ابراهيم: ٢٢]

“যখন সব কাজের ফয়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছেন এবং আমি তোমাদের সাথে ওয়াদা করে ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর তো আমার কোন ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু এতটুকু যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছি, তারপর তোমরা আমার কথা মেনে নিয়েছো। সুতরাং তোমরা আমাকে র্ভৎসনা করো না, বরং নিজেদেরকেই ভৎর্সনা করো। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্যকারী নই এবং তোমারাও আমার উদ্ধারে সাহায্যকারী নও। ইতিপূর্বে তোমরা আমাকে যে আল্লাহর শরীক করেছিলে, আমি তা অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই যারা যালেম তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদয়ক শাস্তি। (সূরা ইব্রাহীম: ২২)

জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক মালিকের নিকট অনুনয় বিনয়

জাহান্নামীরা যখন শাস্তি ভোগ করতে করতে অতিষ্ট হয়ে যাবে
তখন জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক মালিক ফেরেশতাকে অনুনয় বিনয় করে বলবে:

﴿ وَقَالَ ٱلَّذِينَ فِي ٱلنَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ٱدۡعُواْ رَبَّكُمۡ يُخَفِّفۡ عَنَّا يَوۡمٗا مِّنَ ٱلۡعَذَابِ ٤٩ قَالُوٓاْ أَوَ لَمۡ تَكُ تَأۡتِيكُمۡ رُسُلُكُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِۖ قَالُواْ بَلَىٰۚ قَالُواْ فَٱدۡعُواْۗ وَمَا دُعَٰٓؤُاْ ٱلۡكَٰفِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَٰلٍ ٥٠ ﴾ [غافر: ٤٩، ٥٠]

“আর যারা আগুনের অধিবাসী হবে তারা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে, ‘তোমাদের রবকে ডাক, তিনি যেন আমাদের থেকে শাস্তি লাঘব করেন এক দিনের জন্য।’

তারা বলবে, ‘তোমাদের কাছে কি স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূলগণ আসেননি?’ জাহান্নামীরা বলবে, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’ প্রহরীরা বলবে, ‘সুতরাং তোমরাই ডাক; আর কাফিরদের ডাক শুধু ব্যর্থই হয়।” [সূরা গাফির: ৪৯, ৫০]

আল্লাহর কাছে তাঁর সুন্দর নাম ও গুণাবলীর অসীলায় আমরা তাঁর জান্নাত চাই, আর জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের দো‘আ কবুল করুন। আমীন।।

সূত্র :ইমাম বাতায়ন
কোন ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন ।আল্লাহ্ হাফেজ ।

12 thoughts on "জাহান্নাম কি?এর স্তর কয়টি?জাহান্নামে কারা প্রবেশ করবে?"

  1. Shadin Subscriber says:
    আলহামদুলিল্লাহ।
    1. Mohammad Ismail MD Esmail Author Post Creator says:
      আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ
    1. Mohammad Ismail MD Esmail Author Post Creator says:
      আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
  2. rafiahmed Contributor says:
    vai a rokom aro post cai.
    1. Mohammad Ismail MD Esmail Author Post Creator says:
      আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ
  3. Rafsun Jani Md Rafsun Contributor says:
    chalia gan…..nice✌✌✌✌✌✌✌
    1. Mohammad Ismail MD Esmail Author Post Creator says:
      আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ
  4. Md Ubaidullah Md Ubaidullah Contributor says:
    সুন্দর এবং শিক্ষনীয় পোস্ট,,,
    1. Mohammad Ismail MD Esmail Author Post Creator says:
      আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
    1. Mohammad Ismail Mohammad Ismail Author Post Creator says:
      tnx your comment

Leave a Reply