আসসালামুয়ালাইকুম প্রিয় ট্রিকবিডি ভিজিটর এবং মুসলিম ভাই ও বোনেরা আশা করি আপনারা সকলে ভালো আছেন।

আজ আলোচনা করব।

করোনাভাইরাস এবং ইসলাম কি বলছে তা নিয়ে।পোস্টে মূলত তথ্যপূর্ণ আলোচনা এবং ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হবে।

এই কারণে মহামারীতে এই পোস্ট আপনার অত্যন্ত দরকারি হতে পারে যদি আপনি মুসলিম হয়ে থাকেন।

কথা না বাড়িয়ে চলে যাচ্ছি আমি আমার বিশ্লেষণে। প্রতিটি মুসলিম ভাই ও বোনদের অনুরোধ করব আপনারা মনোযোগ দিয়ে নিচে লেখা গুলো পড়বেন। বিবেক দিয়ে চিন্তা ভাবনা করবে। আর ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করবেন।

করোনাভাইরাস চীন দেশের দেশে উহানে সর্বপ্রথম ধরা পড়ে। এরপর ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশে ধরা পড়েছে এ করোনাভাইরাস। ভাইরাসটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে এই তথ্যগুলো আপনারা জানেন।

মদিনা, মক্কা, সহ পুরো সৌদি আরব জামাতে নামাজ নিষিদ্ধ করেছে। অথবা সীমিত করেছে। মুসলিম অধ্যুষিত আরো অনেক দেশ একাজগুলো করেছে। যেমন কুয়েত, দুবাই, কাতার, ইত্যাদি বহু মুসলিম দেশ।

আসলে সামনের বার হজ পালন করতে পারবে কিনা মুসলমানগণ তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

যাইহোক, মুসলিম বিশ্বের যার নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। সে সকল দেশ মসজিদ এবং মুসলিমদের ধর্মীয় স্থান যেগুলো কিনা বন্ধ করে দিয়েছে। ইসলাম এটা কে কি সমর্থন করে? সেই নিয়েই মূলত আলোচনা।

প্রথমেই বলে রাখি, পৃথিবী এখন উত্তপ্ত। এক দেশ কোন দেশের সাথে বড় রকমের ঝামেলা জড়াচ্ছে। পৃথিবী নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, এরা মানুষ সেবা বাদ দিয়ে, অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মুসলিম যারা তারা যে থেমে আছে তা কিন্তু নয়। সৌদি আরব পৃথিবীর সবথেকে বেশি অস্ত্র ক্রয় করছে। সাথে আরো অনেক রকমের ঝামেলায় জড়িয়ে আছে পুরো পৃথিবী। মুসলিমরা ও একেবারে থেমে নেই।

কুরআনে বর্ণিত আছে, যখন মুসলমানরা আল্লাহর কথা অমান্য করবে। আল্লাহর ইবাদত ভুলে যাবে। অর্থাৎ, খারাপ কাজে বেশি লিখতে হবে। তখন আল্লাহ পৃথিবীতে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটাবে। মানুষদের সাবধান করে দিবে। আল্লাহর পথে ফিরে আসার জন্য সুযোগ দিবে। যাতে প্রতিটি মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর পথে আবার ফিরে আসতে পারে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন-‘মানুষের কৃতকর্মের জন্যই স্থলে ও জলে বিশৃঙ্খলা ছেয়ে গেছে। এর পরিণামে তিনি তাদের কোন কোন কর্মের শাস্তির স্বাদ তাদের ভোগ করাবেন, যাতে তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।’ (সুরা রূম : আয়াত ৪১)

যখন মানুষের কৃতকর্মের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়। পুরো সমাজ যখন অন্ধকারে ছেয়ে যায়। মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলতে বসে,এবং আল্লাহর ধ্যান ধারণা ছাড়া অন্যের ধারণা করা শুরু করে।নানা রকম কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন আল্লাহ পৃথিবীতে খারাপ কিছু ঘটাবে। আর তার থেকে বাঁচার কোন রকমের রাস্তা থাকবে না।

কুরআনে উল্লেখ আছে তুমি বল, আল্লাহর হাত থেকে কে তোমাদের রক্ষা করতে পারে, যদি তিনি তোমাদের কোনো শাস্তি দিতে চান? অথবা, তিনি যদি তোমাদের প্রতি কৃপা করতে চান তবে কে এ থেকে তোমাদের বঞ্চিত করতে পারে? আর তারা নিজেদের জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন অভিভাবক বা কোন সাহায্যকারীও খুঁজে পাবে না’ (সুরা আহজাব : আয়াত ১৭)

কুরআনের এই দুটি আয়াত বিশ্লেষণ করলে,আপনারা ঠিক বুঝতে পারবেন আল্লাহ আমাদের কি বোঝাতে চাচ্ছে? আমরা কি আল্লাহর কথা ঠিকঠাক মতো বুঝছি? আল্লাহ তা’আলা মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছে তার এবাদত করার জন্য। আল্লাহর এবাদত এর মধ্যে পড়ে, আল্লাহর কথা মত জীবন ধারণ করা। যাকে বলা হয় ইসলামী জীবন ধারণ। কোন রকমের খারাপ কাজ না করা, কোন ব্যক্তির সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত না হওয়া, চুরি, জোচ্চুরি,ঘোস, আরো অনেক রকমের খারাপ কাজ আছে যেগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখা। সর্বোপরি আল্লাহর ইবাদত করা। বর্তমান পৃথিবী, তার কোনোটিই মানছে না। বেশিরভাগ ব্যক্তি আল্লাহকে ডাকা ভুলে যাচ্ছে। যারা বা ডাকছে তারা আল্লাহকে ভুলভাবে ডাকছে। যাতে করে পৃথিবীতে অন্যরকম একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে।উপরে যে দুটি আয়াত আমি তুলে ধরেছি এবং উপস্থাপন করেছি তার থেকে আপনারা আশা করি বেশ কিছু জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছেন।

সর্বশেষ মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু কথা যা হাদীসে বর্ণিত আছে আমি তা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

আমরা বাঙালি। বিবেকের থেকে আবেগ আমাদের বেশি। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আবেগে আপ্লুত হয়েই অনেক রকমের ভুল কাজ করে থাকি। যা ইসলাম সমর্থন করে না। ভুল কাজ কে আমরা ঠিক বলে মেনে থাকি। যাকে বলা হয় বিদআত। ইসলামে বিদআত সমর্থন করে না। যেমন আমাদের দেশে, মাঝে মাঝেই বড় রকমের গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। ইসলামে নিষিদ্ধ তা হয়তো আপনারা সকলেই জানেন। কিন্তু আমরা গুজবে বিশ্বাস করছি এবং তা প্রাণভরে মেনে চলছি।

কোনো এলাকায় বা দেশে যদি কোনো মহামারি ছড়িয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ হল যে, সেখানকার অধিবাসী সে যেন অন্যত্র না যায়, এর ফলে অন্যত্রেও তা ছড়িয়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে। যেমন হাদিসে এসেছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-‘যখন কোনো এলাকায় মহামারি ছড়িয়ে পড়ে তখন যদি তোমরা সেখানে থাকো তাহলে সেখান থেকে বের হবে না। আর যদি তোমরা বাইরে থাকো তাহলে তোমরা সেই আক্রান্ত এলাকায় যাবে না।’ (বুখারি, মুসলিম)তাই আমাদেরকে এ বিষয়ে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

ওপরে হাদিসটির বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যাচ্ছে, মহামারী থেকে রক্ষা পেতে এবং অন্যকে আক্রান্ত না করতে আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে হাদিসে নির্দেশ দিয়েছে আমাদের মহামারী সময় কি করা উচিত।মহামারী আক্রান্ত স্থানে যাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং সেখানে যদি কেউ থেকে থাকে তবে যে স্থানে আক্রান্ত হয়নি সেই স্থানে না আসা। তবে,বর্তমান সময়ের বাঙালিরা বেশি আবেগ আপ্লুত হয়ে। আমরা মুসলিম,আমাদের করণে আক্রান্ত করবেনা চিন্তা ধারা থেকে আমরা বের হচ্ছি এবং অন্যকে আক্রান্ত করার একটা সম্ভাবনা তৈরি করছি। ইসলাম কিন্তু মোটেও সমর্থন করেনা এমন কাজ কর্ম। এমনকি, হাদিস বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়। আপনি যদি,মসজিদে জামাতে সালাত আদায় করতে গিয়ে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা অনুভব করেন আপনি চাইলে মসজিদে জামাত এড়িয়ে চলতে পারেন। অর্থাৎ, হাদিস দ্বারা বোঝা যাচ্ছে, যে আপনি সেখানে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। সেখানে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় তবে তাকে মসজিদে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। কারণ তার মাধ্যমে অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারে।

আপনারা সবাই জানেন। ইসলাম হচ্ছে একটি সাইন্টিফিক ধর্ম। যাকে বিশ্লেষণ করলে পুরো পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কোন সময় কি ঘটতে পারে তা অনুমান করা যায়। বিজ্ঞানীরা কোরআনকে নিয়ে রিচার্জ করে।কেউ কখনো কোনদিন কুরআনকে মিথ্যে প্রমাণিত করতে পারেনি আর এটা পারবেও না আল্লাহতালা নিজের রক্ষক।

আমাদের প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তির উচিত কুরআন এবং হাদিসের নিয়ম অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। ইসলাম থেকে সরে যে, ইসলামের নামে অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকা। এটি আল্লাহ আমাদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দিতে পারে।

শেষ হাদিস দ্বারা বোঝা যাচ্ছে। আপনি চাইলে বাসা থেকে সালাত আদায় করতে পারেন। যদি আপনার জামাতে সালাত আদায় করতে ভয় থাকে। আল্লাহ এতে আপনার প্রতি নারাজ হবে না। বরং খুশি হবে। কোন ব্যক্তি সংক্রামিত। হয়তো সে ব্যক্তি নিজেও জানেনা। হয়তো সে সংক্রমিত হয়েছে কিন্তু সে তা সংক্রমণ এখনো বুঝতে পারেনি। যাকে বলা হয় তার সংক্রমণ সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সে ব্যক্তি তো জানেনা যে তার মধ্যে যাওয়া উচিত কিনা। তবে সেই ব্যক্তির জন্য তো মসজিদে সালাত আদায় করতে যাওয়া হারাম। কারণ তার মাধ্যমে আরও দ্রুত ছড়াতে পারে সংক্রামক ব্যাধি।

আমি আমার পোস্টে, কাউকে মসজিদ বন্ধ করে বাসায় সালাত আদায় করতে বলবো না। ইসলাম কি বলতে চেয়েছে, তা যদি আপনার বিবেকের কাছে প্রশ্ন করেন আপনি পেয়ে যাবেন। ইসলাম আবেগপ্রবণ কোন ধর্ম নয়। পুরো বিশ্ববাসীর কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ একটি ধর্ম।

যদি কোন রকমের ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে, ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।কুসংস্কার এবং ধর্মীয় ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সঠিকভাবে ইসলাম ধর্ম পালন করা উচিত। আল্লাহ যেন আমাদের সেই তৌফিক দান করে।

সবাই ভাল থাকবেন। অন্যকে ভালো রাখার চেষ্টা করবেন।ইসলামের পথে ফিরে আসুন এবং ইসলামি শরীয়া অনুযায়ী জীবনে চেষ্টা করুন।

আল হাফেজ

2 thoughts on "করনা মহামারী এবং ইসলাম। সংক্রামক রোগ ইসলাম কি বলে?"

  1. Raku Contributor says:
    অাচ্ছা ভাই iloveyoubd.com কি সত্যি পেমেন্ট করে,,pls help me

Leave a Reply