ব্যর্থতা সাফল্যের শিখরে পৌছানোর একটি গুরুত্বপূর্ন পথ।
সিনিয়র টম ওয়াটসন বলেছিলেন, যদি সফল হতে চাও তাহলে ব্যর্থতার হারকে দ্বিগুণ করে দাও।
ইতিহাস পড়লে জানা যায় যে, সমস্ত সাফল্যের কাহিনীর সঙ্গে আছে ব্যর্থতার কাহিনী ও।
কিন্তু সফলতাই মানুষের নজরে পড়ে, ব্যর্থতা আর নজরে পড়ে না।
সবাই ছবির একদিক দেখে মনে করে লোকটি ভাগ্যবান ; ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় ছিলো বলেই সফল হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে একজনের জীবন কাহিনী বলি,
এক ব্যক্তি ২১বছর বয়সে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হন, ২২ বছর বয়সে আইন সভার নির্বাচনে পরাস্ত হন।
২৬ বছর বয়সে তার প্রিয়তমা মারা গেলেন।
কংগ্রেসের নির্বাচনে পরাস্ত হলেন ৩৪ বছর বয়সে।
সাধারণ নির্বাচনে হারলেন ৪৫ বছর বয়সে।
৪৭ বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় ব্যর্থ হন। সিনেটের নির্বাচনে হারলেন ৪৯ বছর বয়সে।
এবং অবশেষে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন ৫২ বছর বয়সে।
এই ব্যক্তির নাম আব্রাহাম লিংকন।

একে কি ব্যর্থ বলবেন?
তিনি তো রাজনীতি ছেড়ে দিতে পারতেন, কিন্তু আব্রামের নিকট পরাজয় মানেই সমাপ্তি নয় ; যাত্রা একটু দীর্ঘ হওয়া মাত্র।

কর্নেল স্টান্ডার্স নামক এক ব্যক্তি ৬৫ বছর বয়সে, সরকারের মাসজিক সুরক্ষা বিভাগ থেকে ১০০ ডলার নিয়ে, খাবার ফিরি করতে বের হলেন, একটি ঝরঝরে মোটরসাইকেল গাড়ি নিয়ে ; ব্যবসা করার উদ্দেশ্য।
কর্নেল স্টান্ডার্স কতোগুলি বাড়ি ঘোড়ার পর তিনি তার প্রথম খদ্দের পেয়েছিলেন।

গননা করে দেখা গেছে যে, প্রায় ১০০০ টি বাড়ি ঘোরার পরে ১টি খদ্দের পান।
আমাদের মধ্যে এরকম কতোজন অধ্যবসায় আছে?
অনেকে ৩টি বাড়ি, ১০ টি বাড়ি, ১০০ টি বাড়ি ঘোরার পরে হতাশ হয়ে বলবে যে, প্রচুর চেষ্টা করেছি ; এ ব্যবসা করা মোটেও সম্ভব নয়।

সফল মানুষেরা খুব বিরাট কোনো কাজ করেনি, তারা সামান্য কাজকেই তাদের সততা ও নিষ্ঠা দ্বারা বৃহৎ করে তুলেছেন।

একদিন ৪ বছরের একটি বাচ্চা স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরল মাস্টারমশাইয়ের একটি চিঠি নিয়ে।
মাস্টারমশাই ছেলেটির মাকে লিখছিলেন “আপনার টমি এতোই বোকা যে তার পক্ষে লেখাপড়া শেখা সম্ভব নয়, টমিকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিন”।

টমির মা তখন প্রতিজ্ঞা করলেন যে “আমার টমিকে আমিই পড়াবো, টমি মোটেই বোকা নয়। ”
এবং সেই ছোট্ট টমি পরবর্তীকালে বিখ্যাত টমাস এডিসন নামে পরিচিত হয়েছিলেন।

৬৭ বছর বয়সে টমাস এডিসনের কয়েক মিলিয়ন ডলারের কারখানা আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
কারখানাটি বিমা করা ছিলোনা।
বয়স্ক এডিসন দেখলেন যে, তার জীবনের সমস্ত প্রচেষ্টার ফলস্রুতি আগুনে পুড়ে ছাইয়ে পরিনত হলো।
এবং তখনও মনে মনে বললেন, বিপর্যয়ের মধ্যে একটা বড় শিক্ষা আছে, আমার সমস্ত ত্রুটি পুড়ে ছাই হয়ে গেলো ; আল্লাহ্কে ধন্যবাদ।
আবার নতুন করে শুরু করবো।

এই বিপর্যয়ের ৩ সপ্তাহ পরে এডিসন phonograph যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

সমস্ত সাফল্যের কাহিনীর পিছনেই আছে ব্যর্থতার কাহিনী। প্রতিটি ব্যর্থতা সাফল্য লাভের জন্য উজ্জীবিত করে। একেই বলে পরাস্ত হয়েও সামনে এগিয়ে যাওয়া, পরাস্ত হলেও পিছিয়ে পড়া নয়।
ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্রমাগত সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

পোস্টটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছে TrickPure24.Com

8 thoughts on "সব বড় সাফল্যের কাহিনীর পিছনে আছে বড় ব্যর্থতার কাহিনী (Every success story is a story of great failure)"

  1. Farhan Subscriber says:
    নতুন যারা EARNING POINT এ কাজ করতে চান ভিসিট করুনঃ- http://bit.do/epo
    minimum withdrew :-20 tk phone recharge করতে পারবেন । তাছারাউ BKash, Rocket,Nagad, iPay তেউ withdrew নিতে পারবেন ……
    1. VK.Hridoy Contributor says:
      kaj korbo vaiya 🙂
  2. Farhan Subscriber says:
    vai apni register koren , ar bistarito website e lekah ase , pore dekhen , payment dei , ami paisi
  3. M.d.Shahin Contributor says:
    Nice Post bro….!
    1. স্বপ্ন Author Post Creator says:
      Thanks vaiya
  4. Azim Author says:
    খুবই ভালো Post, ভাই। অনেক ভালো লাগলো। But লেখাতে একটা Mistake আছে। টমাস আলভা এডিসন অবশ্যই “আল্লাহ”-কে ডাকবে না। তাই না?
    1. স্বপ্ন Author Post Creator says:
      হ্যাঁ ভাই তা ঠিক বলেছেন, আম মুসলিমতো তাই গডকে আল্লাহ বলেই লিখেছি।

Leave a Reply