আসসালামুয়ালাইকুম

এইবার আসেন জেনারেল প্রশ্ন উত্তর-পর্বে।
ভাই কি কি বিষয়ে ফ্রীল্যান্সিং করা যায় বা ভাই আমরা কি নিয়ে ফ্রীল্যান্সিং করবো?

এক কথায় উত্তর দুনিয়াতে এমন কোনো বিষয় নাই যেটা নিয়ে ফ্রীল্যান্সিং করা যায়না। আপনি যে বিষয়ে ইচ্ছা বা আগ্রহ আছে ওই বিষয়ে আপনি ফ্রীল্যান্সিং করবেন। শিক্ষা বা সফলতার পথে কখনোই সম্পূর্ণ রূপে কারো উপরে নির্ভরশীল হবেননা আর হলে কি হবে সেটা উপরেই একবার বলছি!!

ভাই A2Z একদম জিরো টু হিরো বানিয়ে দিবে এমন ট্রেইনার বা প্রতিষ্ঠানের কে কে বা কোনটা কোনটা?
সহজ বাংলা কথা হচ্ছে বাংলাদেশ দূরের কথা এই দুনিয়াতে একজন বা একটা প্রতিষ্ঠান নাই। কেউ আপনাকে জিরো টু হিরো বানাবেনা। সবাই আপনাকে হাটতে শিখাবে পরে কিভাবে দৌড়াবেন সেটা আপনার উপরেই নির্ভর করবে।

ভাই ইংরেজি পারিনা। ইংরেজি ছাড়া কি ফ্রীল্যান্সিং করা সম্ভব? আর ফ্রি/মাগনা ইংরেজি শেখার জন্য কি করবো?
ইংরেজি লাগেন সামান্য কমিউনিকেটিভ ইংরেজি জানলেই হবে। ফ্রীল্যান্সিংয়ে ক্লায়েন্ট আপনার চেহারা বা ইংরেজিতে লটর-পটর করার জন্য পেইমেন্ট দিবেনা দিবে বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা বা যোগ্যতার জন্য। ফ্রীল্যান্সিং পেশাটা গ্লোবাল সো প্রবল সম্ভাবনা আছে এমন যে আপনি ফ্রীল্যান্সিংয়ে ৫০% ক্ষেত্রেই এমন ক্লায়েন্ট পাবেন যে ইংরেজি ভাষার Yes/No/Very Good এইসবও জানেনা। হতেপারে সে চাইনিজ, জাপানিজ, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ এখন আপনার বা আমার পক্ষে কি এই সকল ভাষা শেখা সম্ভব? অবশ্যই নয় সো ইংরেজি ভাষা ফ্রীল্যান্সিংয়ের জন্য অন্তরায় নয়। ধরেন একজন ক্লায়েন্ট আপনাকে একটা ছবি দিলো যেখানে একটা পার্টে ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড আছে অন্য পার্টে নাই এবং পরে অন্য আরো কিছু ছবি দিলো যেখানে প্রতিটাতেই ব্যাকগ্রাউন্ড আছে এবং সে ইশারা-ইঙ্গিতে বা ছবিতেই বিভিন্ন চিহ্ন ব্যবহার করে আপনাকে বুঝিয়ে দিলো যে যেসব ছবিগুলাতে ব্যাকগ্রাউন্ড আছে ওই গুলার ব্যাকগ্রাউন্ড মুছে দিতে হবে অথবা যেগুলা নাই সেগুলাতে ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়ে দিতে হবে। এইখানে কি আপনার ইংরেজিতে রামায়ণ রচনা করতে হবে ভাই? আর প্রাইস নেগোশিয়েশনের জন্য –> আপনি বললেন 50-pis=50$ সে বললো no 40$ আপনি বললেন ok কাহিনী খতম। একজন ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজ দেয়ার আগে অবশ্যই আপনার প্রোফাইল ঘুরে দেখবে এবং আপনার বায়ো এবং বিশেষ ক্ষেত্রে আপনার দক্ষযতা বা যোগ্যতা অথবা আপনার পোর্টফোলিও খুব ভালো করে খুঁজে দেখবে আর তাই কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে সে সরাসরি ডাইরেক্ট টু দি পয়েন্টে চলে যাবে। ক্লায়েন্ট আপনার বন্ধু না সে আপনার সাথে আজাইরা আলাপ-আলোচনা করবে না। তবে অবশ্যই ইংরেজি জানলে আপনি লাইফের প্রতিটা ক্ষেত্রেই অকল্পনীয় অ্যাডভান্টেজ পাবেন।

আচ্ছা এইবার আসেন ধরেন আপনি ইংরেজি বা যে কোনো ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজে একদমই আবাল হন সেই ক্ষেত্রে কি করবেন। সহজ একটা সিস্টেম আছে। ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার সময় google transalate ওপেন রাখবেন এবার ক্লায়েন্ট যদি ইংলিশে কথা বলে তো আপনি সেটা কপি করেন এবং গুগল ট্রান্সলেটে পেস্ট করে বাংলায় রূপান্তরিত করে দেখেন সে কি বলছে এবার সেই অনুযায়ী আপনি যা বলতে চান সেটা গুগল ট্রান্সলেটে বাংলায় লিখে ইংরেজিতে রূপান্তরিত করে সেটা কপি করে ক্লায়েন্টকে রিপ্লাই দেন। এইভাবে আপনি পৃথিবীর প্রায় সকল ভাষায় কমিউনিকেশনের জন্য প্রয়োজনই কথাবার্তা চালিয়ে যেতে পারবেন।

মাগনা ইংরেজি শিক্ষার জন্য সহজ মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুকে একটি ফিমেল ফেক আইডি খোলেন তারপরে বিভিন্ন ইংলিশ অ্যাড মি বা ইংলিশ স্পিকিং গ্রুপে জয়েন করেন। আপনার মাইয়া আইডি দেইখা দেশি বা বিদেশী রোমিওরা মৌমাছির মতো আপনার আইডিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে ভাই যেহেতু আপনারা কেউ কাউকে চিনেন না বা সরাসরি কথা বলছেন না সেহেতু আপনার লজ্জা লজ্জা ভাব থাকবেনা মাত্র ২/৩-মাসে আপনি নিজেই মানুষকে ইংরেজি শিখাতে পারবেন।

ভাই ইচ্ছা আছে তবে ভাই শুধুমাত্র টাকার অভাবে শিখতে পারছিনা।
এইটা আপনার স্বভাবের দোষ ভাই এই স্বভাব যতো দ্রুত পারেন দূর করেন। আপনার ফিনান্সিয়াল প্রব্লেম আছে এইটা পাবলিকলী প্রকাশ করার মতো বিষয়না এবং খুব অল্প কিছু বিষয় যেগুলা কখনোই তৃতীয় পক্ষকে জানানো উচিৎ তার মধ্যে এই ফিন্যান্সিয়াল প্রব্লেম একটি।
ফ্রীল্যান্সিং শিখতে বা করতে লক্ষ্য-কোটি টাকা লাগেনা ভাই এই ২০/৩০/৫০-হাজার যথেষ্ট। এখন যাদের এই পরিমান টাকাও সমস্যা তাদের জন্য সমাধান হচ্ছে আপনি যেভাবেই পারেন এই পরিমান টাকা জোগাড় করেন এবং তার জন্য কাজ/পরিশ্রম করেন। হয়তো কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়।
আমার বিগত পোস্টে আমি আমার একজন স্যার এর কথা বলেছি —> যে কিনা গাবতলী থেকে নীলক্ষেতে হেটে যেতো বাস ভাড়া বাঁচানো এবং এবং টাকা সঞ্চয় করার জন্য। দিনের বেলায় তিনি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতো রাত জেগে সেই দোকানেই ফ্রীল্যান্সিংয়ের কাজ শিখতো। আর বর্তমানে তার অবস্থা হচ্ছে নিজের প্রাইভেট গাড়িতে করে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আশা করে।

ভাই সোজা কথা অপরিশ্রম ছাড়া পৃথিবীতে কোনো কিছুই পাওয়া সম্ভব নয় পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রায় সবকিছু অর্জন করা সম্ভব। আর মাগনা পৃথিবীতে মাত্র দুইটা জিনিস আছে ১) উপদেশ আর ২) গোয়া-মারা।

আমার নিজের জীবনের মূলমন্ত্র হচ্ছে –> End justify the means <– বাংলা মানে হচ্ছে উদেশ্য দিয়ে উপায়ের বিচার করা। আমি ভাই এই নীতিতে বিশ্বাস করি। আমি একবার যেটা টার্গেট করি সেটা আমার পেতেই হবে তা সেটা যেকোনো উপায়েই হোক না কেন। আমার ফিনান্সিয়াল প্রব্লেম আছে তো কি বাল হইছে আমি ভাই কামলা দিমু, মানুষের মাথায় ডান্ডা মারমু তার পরেও আমি কারো কাছে মাথা নতো করবোনা এবং বৃহত্তর স্বার্থে আমি ক্ষুদ্রতর স্বার্থ ত্যাগ করে দিবো। আমি নিজেই একসময় ফেসবুকে সারাদিন ফেক মাইয়া আইডি খুলতাম এবং প্রতিটা আইডি ৫-টাকা করে USATODAY নামক একটি মার্কিন নিউজ চ্যানেলের ভেরিফাইড পেজের কাছে বিক্রি করতাম।

ভাই আপনি নিজেই ফরেন ট্রেইনার বা ট্রেইনিংয়ের কথা বলেন কিন্তু আমাদের তাদের নাম বা সোর্স দেননা কেন?
আপনি বাংলাদেশী আপনার ভাষা বা স্ট্রং পয়েন্ট হচ্ছে বাংলা। সো আগে আপনাকে আগে নিজের ভাষায় কাজ শিখতে হবে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে পরে আর আমার কাছে থেকে জানতে হবেনা নিজেই খুঁজে বের করতে পারবেন।

2 thoughts on "[ফ্রীল্যান্সিং কি, কেন,কাদের জন্য, সফলতা, বিফলতা, কেন কাজ পাননা , ফ্রি সোর্স এবং জেনারেল প্রশ্ন উত্তর পর্ব ইত্যাদি ইত্যাদি পর্ব-০৩]"

  1. Nazmul Huda Author says:
    ভালো পোস্ট । 20/30/50 হাজার দিয়ে কি কি কিনতে হবে ?
    1. MD Nayem Bokhtiar Author Post Creator says:
      ধন্যবাদ

Leave a Reply