রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি বই রিভিউঃ

হাইওয়ের পাশে ছোট্ট একটি মফস্বল শহর সুন্দরপুর, নামের মতই সুন্দর এই শহর। আসলে শহর বলা হলেও এটা একটা গ্রাম ছাড়া কিছুই নয়। এই শহরেই হাইওয়ের পাশে সুন্দর ছোট্ট একটি রেষ্টুরেন্ট, রেষ্টুরেন্টটির নাম রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেনি। যদিও এই রেষ্টুরেন্টের মালিক মুশকান জুবেরি এটাকে রেষ্টুরেন্ট বলতে নারাজ। এই রেষ্টুরেন্টের বৈশিষ্ট্য হলো এর খাবার এত সুস্বাদু যে একবার কেউ এখানে খেলে সে বার বার ফিরে আসে খেতে। কেমন যেন একটা নেশার মত কাজ করে এখানকার খাবার।

রবিন্দ্রনাথা এখানে কখনও খেতে আসেন নি এই রেস্টুরেন্টে একদিন খেতে আসেন ঢাকা থেকে আগত ভদ্রলোক নুরে ছপা। এই রেস্টুরেন্টের খাবার সার্ভ করা থেকে ওয়েটার সকলেই অদ্ভুত রকমের। কিন্তু খাবার এত উচু মানের যেটি নুরে ছপা নামক মানুষটিকে আঙ্গুল চেটে খেতে বাধ্য করেছিলো, যদিও তিনি এভাবে খান না। নুরে ছপার ভাষায় মানুষ সম্মোহিত হয়ে যায় এই খাবারে, তাহলে কি আছে এই খাবারের পেছনের গোপন রহস্য?

রেস্টুরেন্টের অপর পাশে রহমান মিয়ার গুড়ের চায়ের দোকান। ছপা সেই দোকানে যায় সিগারেট খেতে, তার কাছ থেকেই জানতে পারে এই রেস্টুরেন্টের মালিক যাকে গ্রামের সকলে ডাইনি বলে। যার সাথে লোকাল থানার ওসি, এসপি ও এই এলাকার এম পি এর উঠা বসা। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ ই এই মহিলার আসল পরিচয় কেন? কি জন্য? কোথা থেকে এসেছেন? কেউ জানেনা। শুধু এতটুকু তারা জানে যে মুশকান জুবেরি এখানকার জমিদারের নাতবউ, এখানে জোড়পুকুর জমিদার বাডিতেই সে থাকে।

সেই দোকানেই ছপার সাথে পরিচয় পুলিশের ইনফরমার আতর আলির সাথে, যাকে সকলে বিবিছি (বিবিসি) বলে ডাকে। কারন এই গ্রামের সকল খবর তার নখদর্পণে, এক পর্যায়ে ছপার সাথে কাজ করতে রাজি হয় আতর, ছপা তার পরিচয় দেয় মহাকাল পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে।

আতর ছপাকে নিয়ে যায় এই গ্রামের বুড়ো এক মাষ্টারের কাছে, কারন তিনি এখানের পুরনো সব জানেন। তার কাছ থেকে আবারো জানতে পারেন এই মহিলা এক জমিদারের নাত বউ। জমিদারের সেই নাতি কিছুকাল আগে ঢাকায় ক্যানসার রোগে মারা পড়ে, প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে সে বিয়ে করলো কবে? আর এই ক্যানসার রোগিকে কেনই বা বিয়ে করলেন এই মহিলা? থাকেন এখন জমিদার বাড়িতে, যেই বাড়িটি যুদ্ধের সময় মিলিটারি ক্যাম্প ছিল।

জমিদার পরিবারের সকলেই মারা পড়ে যুদ্ধের সময়, সব সম্পত্তি হাত ছাড়া হয়ে যায়, শেষে এই মহিলা এসে কিভাবে যেন সব উদ্ধার করে। আতরের ভাষ্যমতে মহিলা একটা ডাইনি, অলৌকিক ক্ষমতা আছে। একদিন দেয়াল টপকে মহিলাকে রক্ত খেতে দেখেছে আর চোখ দুটি জ্বলজ্বল করছিলো, মহিলা দেখেও আতরকে কিছু বলেনি।

ফালু নামে এক গোর খোদক আছে এই গ্রামে। সে নাকি আগেই টের পায় কেও মারা যাবে, তাই আগেই কবর খুঁড়ে রাখে। গ্রামে তাকে সকলেই কামেল লোক ভাবে, তবে এই গোর খোদকের সাথে ওই মহিলার কি সম্পর্ক? কেন রাতের বেলা ওই বাড়ি যায়? ছপা একদিন রাতের বেলা সেই জমিদার বাড়ি চুপি চুপি ঢুকে পড়ে। সেই বাড়িতে একজন বোবা দারোয়ান আর একজন রাত কানা কাজের মেয়ে, আর ওই ডাইনি মহিলা থাকেন।

ফালু কে নিয়ে বাড়ির পেছনে এই রাতের বেলা কিছু একটা পুতে রাখছেন সে মহিলা। দেখে ফেলে ছপা, ছপাকেও তারা দেখে ফেলে; কি পুতে রেখেছে? ছপাকে দেখেও কেন কিছু করলো না? ছপাকে থানায় ডেকে আনা হয়, বের হয় তার আসল পরিচয়, সে আসলে সাংবাদিক নয় তাহলে কে সে?

এইদিকে ঢাকা থেকে খবর আসে এই মহিলা আগে ডাক্তার ছিল, থাকতো আমেরিকা। আরও কিছু ভয়ঙ্কর তথ্য, এইদিকে ঢাকা থেকে মোট ৫ জন ৩০ বছরের যুবক নিখোঁজ, তদন্তে জানা গেছে তারা সকলেই এই রেস্টুরেন্টে খেতে এসে হারিয়েছে। তার মধ্যে সর্বশেষ ভিক্টিম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার ভাগ্নে, শুরু হয় তদন্ত।

কে এই মুশকান জুবেরি? কেনইবা এই গ্রামে এসেছেন? তার এত রেসিপির রহস্য কি? আমারিকায় প্লেন দুর্ঘটনায় কি তাহলে এই মুশকান জুবেরি আড়াই মাস বেচে ছিল বরফের দেশে? কেনইবা দেশে ফেরত আসলো? কেনইবা ছপা তার পেছনে লাগলো? কেনইবা এক সন্ধ্যায় মুশকান ছপাকে ডেকে নিয়ে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলো? কেনইবা পুলিশ মুশকানের ছদ্মবেশ ধরতে পারলো না?

সব রহস্য জানতে হলে পড়তে হবে রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি বইটি। ঘোর লেগে আছে আমার মাথায়, বিদেশি থ্রিলার গুলো সাধারনত সেই দেশের রাস্তাঘাট বাড়ি নিয়ে লেখা হয়, কিন্তু একদম নিজের পাড়া গায়ে এমন থ্রিলার কল্পনা করা যায়? প্রতিটা মুহূর্ত আপনার স্নায়ুর পরীক্ষা নিবে লেখক, এক কথায় অসাধারন বই। তবে প্রথম দিকে কিছুটা এলোমেলো মনে হবে বইটা, তবে যতই পড়বেন ততই আপনার স্নায়ুগুলো উত্তেজিত হতে থাকবে।

বইয়ের নামঃ রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি
বইয়ের লেখকঃ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৭১ টি।
বইয়ের ধরনঃ থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চার বই
পিডিএফ সাইজঃ ১৫ মেগাবাইট প্রায়।
ডাউনলোডঃ Read Online / Download

আরো পড়ুনঃ 👇

১। রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও আসেননি – ২ PDF | by মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

২। চিলেকোঠার সেপাই PDF | by আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

৩। নির্বাসন PDF Download by সাদাত হোসাইন (চমৎকার একটি উপন্যাস)

ধন্যবাদ পোস্ট টি পড়ার জন্য।

One thought on "রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি pdf download by মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন"

  1. Loading Loading Contributor says:
    apner drive er access pabo…?

Leave a Reply