আপনি আপনার আর্টিকেল র্যাংক (rank) করানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু কাজ হচ্ছে না?তাই একজন বিগিনার হিসেবে সবচেয়ে বেশি করা SEO নিচের  Mistake গুলো এড়িয়ে যেতে হবে৷ এগুলো আপনার আর্টিকেল র্যাংক (rank) করাতে খুব খারাপভাবে প্রভাবিত করে থাকে৷

বিগিনাররা সবচেয়ে বেশি যে ১৫টি এসইও ভুল করে থাকে!

১. অকার্যকর কী-ওয়ার্ড রিসার্চ

এটি এসসিও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ,কারণ এটি আপনাকে টার্গেটকৃত ভিজিটর পেতে সাহায্য করবে যদি আপনি সঠিকভাবে টার্গেটেড কী ওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারেন৷ সঠিকভাবে কী ওয়ার্ড রিসার্চ না করা মানে আপনি একজন অন্ধ পথিক৷
তাই কোনো আর্টিকেল লেখার পূর্বে অবশ্যই সঠিকভাবে কী ওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে৷ Keyword Difficulty, Competition, CPC প্রভৃতি লক্ষ্য করে রিসার্চ করতে হবে৷ একজন বিগিনার হিসেবে কখনোই high Keyword Difficulty এবং Competition নিয়ে কাজ করলে র্যাংক করতে পারবেন না৷
তবে হ্যাঁ,  যখন আপনার ডোমেইনের বয়স বেশি হবে তখন ডোমেইন অথোরিটি (DA) বাড়বে এবং Seo জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দুটোই বাড়বে,তখন আপনি নিশ্চিতভাবে এই কী ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে পারবেন৷

২. কী ওয়ার্ড স্টাফিং

নতুন ব্লগারদের অন্যতম একটি বড় ভুল এটি৷ তারা একটা ছোট কনটেন্টে অনেক বেশি কী ওয়ার্ড ব্যবহার করে,ফলে কী ওয়ার্ড স্টাফিং হয়৷ কী ওয়ার্ড স্টাফিং সত্বেও আপনাকে ঐ শব্দগুলো দিয়ে কনটেন্টটি ভালোভাবে অপ্টিমাইজড করে নিতে হবে৷
উচিত হবে  আপনার কী ওয়ার্ড গুলো blog title, permalink এবং Search description এ ব্যবহার করা৷ অতিরিক্ত কী ওয়ার্ড ব্যবহার করা ফলে কখনো গুগলে র্যাংক করতে পারবেন না, বরং গুগল আপনাকে এরকম করার জন্য শাস্তি দিবে৷ এটি এড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি keyword density 1.5%  মধ্যে রাখা উচিত, কারণ Seo এর জন্য এটি আদর্শ৷

৩. ব্রোকেন লিংক ( Broken link)

মনে করেন, আপনি একটি আর্টিকেল লিখেছেন এবং আপনি একটি ঐ একই বিষয়ে তথ্যবহুল আর্টিকেল খুঁজে পেয়েছেন যেটির লিংক আপনার আর্টিকেলে দিলেন৷ কোনো কারণে ঐ আর্টিকেলের লেখক আর্টিকেলটি ডিলেট করে দিল,কিন্তু এখনো ঐ লিংকটি আপনার আর্টিকেলে থেকে গেল৷ এটিকেই ব্রোকেন লিংক বা ডেড লিংক বলে৷
ব্রোকেন লিংক SEOকে মারাত্মকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে৷ আপনি চাইলে Broken link checker ওয়েবসাইট বা প্লাগইন দিয়ে যাচাই করতে পারেন যে আপনার আর্টিকেলের লিংকগুলো ঠিক আছে কি না!

৪. Duplicate বা Plagiarized কনটেন্ট ব্যবহার করা

সর্বদা ইউনিক আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করবেন৷ কারণ গুগল অরিজিনাল কনটেন্ট পছন্দ করে৷ কখনো অপরের কনটেন্ট ভুলেও কপি করা চেষ্টা করবেন না৷ এটিও বড় একটি Seo Mistake যেটি এড়িয়ে যেতে হবে৷ মানসম্মত কনটেন্ট তথ্যসমৃদ্ধ ও ইউনিক হয়৷ এজন্য আপনাকে পেশাদার আর্টিকেল লেখক হতে হবে না, শুধু যে বিষয়ে আপনি ভালো জানেন সেটির উপর নিজের ভাষায় লিখুন৷

৫. ইমেজ ব্যবহার না করা

সর্বদা আপনার আর্টিকেলে প্রাসঙ্গিক কিছু ইমেজ যুক্ত করা চেষ্টা করবেন৷ কারণ কথার চেয়ে ইমেজ বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে৷
অধিকন্তু,  ইমেজ যুক্ত করলে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বৃদ্ধি করে৷

৬. ইমেজ Alt ট্যাগ ব্যবহার না করা

আর্টিকেলে ইমেজ যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা৷ সাধারণত সার্চ রোবটগুলো দেখতে পারে না যে ইমেজট আসলে কোন বিষয়ে বা কীসের৷ তখন এটি আপনার ব্যবহার করা Alt ট্যাগ দেখতে আসে৷
সুতরাং প্রাসঙ্গিক কী ওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত Image Alt ট্যাগে৷ যার ফলে সার্চ ইঞ্জিন বোট সহজে বুঝতে পারে এটা কীসের ইমেজ৷ আর্টিকেলের প্রতিটি ইমেজে Alt ব্যবহার করবেন,কেননা এটি সার্চ ইঞ্জিনে ইমেজ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে৷

৭. দীর্ঘ প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করা

এমনটা নিশ্চয় আপনার সঙ্গে হয়েছে যে আর্টিকেলে ক্লিক করলেন, কিন্তু অনেক বড় বড় প্যারাগ্রাফসহ আসলো,তখন কি সত্যিই আপনি আর্টিকেলটি পড়েছিলেন নাকি বাদ দিয়ে ছিলেন?
বড় প্যারাগ্রাফ পড়া বিরক্তিকর৷ অবশ্যই লম্বা প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করা এড়িয়ে যেতে হবে৷ কারণ এগুলো কেউ পড়তে আরামবোধ করে না৷ দীর্ঘ প্যারাগ্রাফ না তৈরি করে সেটা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করুন৷

৮. ব্যাকরণগত ভুল করা

খুব বেশি ব্যাকরণগত ভুল করা আর্টিকেল পাঠক পড়তে চায় না৷ আপনাকে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার কনটেন্টে কোনো ব্যাকরণগত ভুল নেই৷  যদিও বা থাকে তবে সেটা খুব স্বল্প পরিমাণ হতে হবে৷
এজন্য আপনি ইংরেজি আর্টিকেলের জন্য Grammarly ব্যবহার করতে পারেন৷ এটি আপনার ব্যাকরণগত ভুল সংশোধনে ভালো কাজ করবে৷

৯. মোবাইল ফ্রেন্ডলি থিম ব্যবহার না করা

আপনি যদি Mobile Friendly Theme না ব্যবহার করেন, তবে এটি SEO এর জন্য সবচেয়ে বড় ভুল হবে৷ বর্তমানে মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহারকারী উভয় প্রায় সমান৷
এটি গুগলে র্যাংক ফ্যাকটর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ৷ আপনি বিনামূল্যে Google Mobile-Friendly Test দিয়ে থিম যাচাই করতে পারেন৷ সুতরাং,  সবাই মোবাইল ফ্রেন্ডলি থিম ব্যবহার করবেন৷

১০. Google Analytics  ব্যবহার না করা

আপনি যদি গুগলে ব্লগ তৈরি করেন তবে অবশ্যই Google Analytics ব্যবহার করা উচিত ৷ এটি আপনার ভিজিটরদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে৷ তারা আদৌও আপনার আর্টিকেল পছন্দ করছে কি না৷ আপনি যদি আপনার পাঠকদের জানতে পারেন,  তবে আপনি আরও ভালো কনটেন্ট অপ্টিমাইজড করতে পারবেন৷

১১. অনিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করা

আপনি যদি নিয়মিত আর্টিকেল লেখেন তবে আরও বেশি ভিজিটর পাবেন৷ কারণ যখন আপনি নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করবেন, তখন ভিজিটরসহ গুগলও আপনার দিকে দৃষ্টিপাত করবে৷ আপনাকে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে৷ হয় আপনি প্রতিদিন একটি বা সপ্তাহে ১/২ টি আর্টিকেল পাবলিশ করবেন৷

১২. কনটেন্ট আপডেট না করা

সার্চ ইঞ্জিন সতেজ ও আপডেট কনটেন্ট খুব পছন্দ করে৷ আর্টিকেলটিকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ করে নিয়মিত কনটেন্ট আপডেট করা উচিত৷
আপনি যদি নিয়মিত লেটেস্ট কনটেন্ট লেখেন, তবে আপনার কম্পিটিটর আপনার সাথে পেরে উঠতে পারবে না৷ এটি আপনার র্যাংকিং বাড়াতে সাহায্য করবে৷

১৩. অতিরিক্ত Ads এবং Pop up ব্যবহার করা

অতিরিক্ত Ads এবং Pop up ব্যবহার করলে ভিজিটর বিরক্ত হয়ে থাকে৷ এখনকার সময়ে অতিরিক্ত Ads এবং Pop up ব্যবহার করা ওয়েবসাইটগুলো মানুষ এড়িয়ে যায়৷
যে সাইটগুলোতে অতিরিক্ত Ads এবং Pop up এর চেয়ে তথ্য বেশি তারা সাধারণত সেই সাইটে ভিজিট করবে৷ সুতরাং, এমতাবস্থায় আপনার উচিৎ হবে সীমিত অতিরিক্ত Ads এবং Pop up ব্যবহার করা৷

১৪. স্লো পেজস্পিড

গুগল পেজস্পিডকে র্যাংকিং ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করে থাকে৷ খুব স্লো পেজস্পিড র্যাংকিং এ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে৷ আপনি Google Pagespeed Insight, Pingdom বা  Gtmetrix ব্যবহার করে ব্লগের Pagespeed পরীক্ষা করতে পারেন৷
এটা আপনার নিম্ন মানের হোস্টিং প্রোভাইডারের কারণেও হতে পারে৷ এজন্য ভালো মানের হোস্টিং প্রোভাইডারের সার্ভিস ব্যবহার করবেন। আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস সাইট ব্যবহার করে থাকেন তবে Cache Plugin ব্যবহার করতে পারেন যেটি আপনার ওয়েবসাইটের পেজস্পিডের উন্নতি করবে৷

১৫. ধৈর্যের অভাব

এসইও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার!  আপনি কখনো এরকম ভাববেন না যে আজকে আর্টিকেল পাবলিশ করবে আর আগামীকাল সেটি গুগলে র্যাংক করবে৷এটি সময় নিবে, প্রচেষ্টা ও ভালো আর্টিকেলই সফলতার মুখ দেখাবে৷
সুতরাং,  যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন ততক্ষণ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে কঠোর পরিশ্রম করে যাবেন৷

শেষ কথা :

বেশ, এইগুলো হলো “বিগিনাররা সবচেয়ে বেশি যে ১৫টি এসইও ভুল করে থাকে!”সমাধান করার চেষ্টা করতে থাকেন,যা আপনাকে SEO র্যাংকিং এ সাহায্য করবে৷ এমন আরো আরটিকেল পেতে ভিজিট করুন ShopTips24.CoM ওয়েবসাইটে। ধন্যবাদ

One thought on "বিগিনারদের সবচেয়ে বেশি যে ১৫টি এসইও ভুল করে থাকে!"

  1. 𝙽𝙸𝙲𝙺 ✅ Contributor says:
    এখানে তো ভালোই জ্ঞান দিলেন। কিন্তু নিজের ওয়েবসাইটেও দেখি হুবহু কপি কনটেন্ট চালাচ্ছেন, সেটার কি হবে?

Leave a Reply