টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের বোর্ডে আসতে চেয়েছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। কিন্তু সে বিবেচনা থেকে সরে এসে ৪ হাজার ১০০ কোটি (৪১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে টুইটারকে কেনারই প্রস্তাব দিয়ে দিলেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মাস্ক টুইটারের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫৪ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার দিতে চেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক নথিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ইলন মাস্ক টুইটার কেনার প্রস্তাব দেওয়ার পর এটির শেয়ারের দাম ১২ শতাংশ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি টুইটারের ৯ শতাংশ শেয়ার কেনার কথা জানান মাস্ক।

টুইটার চেয়ারম্যান ব্রেট টেলরকে লেখা এক চিঠিতে মাস্ক বলেছেন, ‘টুইটারে বিনিয়োগ করার পর থেকে বুঝতে পারছি বর্তমান অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি উন্নতি করবে না বা সামাজিক প্রয়োজন মেটাবে না। টুইটারকে একটি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে রূপান্তরিত করতে হবে।’

মাস্ক বলেন, ‘আমার প্রস্তাবটি সেরা ও চূড়ান্ত। এ প্রস্তাব যদি গৃহীত না হয়, তবে শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আমার অবস্থান বিবেচনা করতে হবে।’

এ সপ্তাহের শুরুতে মাস্ক বলেন, টুইটারের পরিচালনা বোর্ডে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাতিল করেছেন তিনি। কারণ, টুইটার বোর্ডে বসলে কোম্পানি কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হবে তাঁকে।

টুইটারে পরিচালনা বোর্ড বলছে, মাস্কের প্রস্তাব পেয়েছে তারা। প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।

 

মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম টুইটারের বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। বৈদ্যুতিক গাড়ির কোম্পানি টেসলার সিইও মাস্ক গত ১৪ মার্চ টুইটারের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার কিনেছেন। ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দায়ের করা নথি অনুসারে, ইলন মাস্ক প্রায় টুইটারের প্রায় সাড়ে সাত কোটি শেয়ার কিনেছেন।

 

২৮৯ কোটি ডলারে তিনি টুইটারের শেয়ার কিনেছেন।
টুইটারের বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর টেসলা ইনকরপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক সোমবার (৪ এপ্রিল, ২০২২) একটি পোস্ট করেছেন। ব্যবহারকারীদের জিজ্ঞাসা করেছেন যে তাঁরা মাইক্রো-ব্লগিং সাইটে একটি এডিট বোতাম চান কি না।

ইলন মাস্কের এই টুইটের পর টুইটারের সিইও পরাগ আগারওয়াল ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সতর্কতার সঙ্গে ভোট দিন।’ বহুল প্রতীক্ষিত এই ফিচারের জন্য ইতিমধ্যে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। ভোটে অংশ নিয়েছেন ১৭ লাখের বেশি টুইটার ব্যবহারকারী।

গত সপ্তাহে আরও একটি ভোটে ইলন মাস্ক জানতে চান, টুইটারের অ্যালগরিদম ওপেন সোর্স রাখা উচিত কি না। সে ভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ৮২ শতাংশ ভোট পড়ে।
ইলন মাস্ক টুইটারের একজন নিয়মিত ব্যবহারকারী। এ প্ল্যাটফর্মে ৮ কোটির বেশি ফলোয়ার আছে তাঁর। তিনি এই সাইটে ২০০৯ সালে যোগ দেন এবং বিভিন্ন ধরনের ঘোষণা দেওয়ার জন্য একে ব্যবহার করে থাকেন। এক টুইট বার্তার মাধ্যমে টেসলাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করার সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিলেন ইলন মাস্ক।

গত ২৬ মার্চ ইলন মাস্ক টুইট বার্তায় জানান, তিনি নতুন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরির বিষয়টি ‘গুরুত্বসহকারে ভাবছেন’। ইলন মাস্ক টুইটারের সমালোচনা করে বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।

গণতন্ত্র নিয়েও টুইট করেন ইলন মাস্ক। গত মাসেই আরেক টুইটে ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি মুক্ত বাকের সহায়ক। তাঁর মত, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য মুক্ত বাক্ জরুরি। এরপর তাঁর জিজ্ঞাসা, ‘আপনারা কি মনে করেন, টুইটার কি এই নীতি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন?’তাঁর আরও জিজ্ঞাসা, ‘নতুন প্ল্যাটফর্ম কি প্রয়োজন?’
স্বাভাবিকভাবেই ইলন মাস্কের শেয়ার কেনার ঘোষণায় টুইটারের শেয়ারের দাম বেড়েছে।

এদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএফআরএ রিসার্চের বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো জাইনো বলেন, টুইটারে ইলন মাস্কের বিনিয়োগ তাঁর মোট সম্পদের খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ। তিনি চাইলে টুইটার কিনেও নিতে পারেন।

 

Leave a Reply