তারুণ্যের প্রতীক তো তিনি বটেই! সম্প্রতি বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের অধিনায়কমাশরাফি বিন মুর্তজা হয়েছেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির শুভেচ্ছাদূত। শুধু নিজ দলের ১১ জনই নয়, সারা দেশের তরুণদের নিয়েই আত্মবিশ্বাসী আমাদের অধিনায়ক। তাঁদের নিয়ে কাজ করার অপেক্ষায় আছেন তিনি।

তিনি অদম্য, দুর্বার। শত হোঁচটেও থামেন না, নতুন শক্তিতে এগিয়ে চলেন সামনে। তাঁকে দেখে হৃদয়ে স্বপ্ন আঁকে অযুত-নিযুত তরুণ। তাঁর দুর্দান্ত নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। মাশরাফি বিন মুর্তজা যেন সহস্র তরুণের স্বপ্নের বাতিঘর!

স্বপ্ন দেখেন মাশরাফিও। সেই স্বপ্নটা কাদের নিয়ে, জানেন? দেশের তরুণদের নিয়ে। তারুণ্যের শক্তিতে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এই বিশ্বাস ভীষণ পোক্ত অধিনায়কের মনে। তরুণদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে তাঁর দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের সেই ইচ্ছে পূরণে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। কদিন আগে মাশরাফি হয়েছেন ইউএনডিপির শুভেচ্ছাদূত।
তরুণদের জন্য কাজ করার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছেন, তা পূরণের সুযোগ পেয়ে অধিনায়কের মুখে খুশির ঝিলিক। মাঠে যেমন দলের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেন, এ ক্ষেত্রেও শতভাগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি—‘আমার কাছে এটি স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতোই। চেষ্টা করব সেরাটা দেওয়ার। আমাদের তরুণদের প্রতি আমার প্রবল বিশ্বাস আছে। এই তরুণেরাই উন্নয়নশীল দেশ থেকে বাংলাদেশকে একদিন উন্নত দেশে পরিণত করবে।’
মাশরাফি বিন মুর্তজা। , ছবি: শামসুল হকশুভেচ্ছাদূত হিসেবে মাশরাফিকে কেন বেছে নেওয়া? ইউএনডিপি জানিয়েছে, তারা প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে চায়। এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, অনলাইন চাকরির মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের সারা বিশ্বের সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরি করা। বাংলাদেশে এখন আড়াই লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সার আছেন, যাঁরা অনলাইনে অসংখ্য কাজ পাচ্ছেন। কিন্তু এর জন্য তো যথাযথ প্রশিক্ষণ দরকার। ইউএনডিপি এ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ দেবে। আর বার্তাটা গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করবেন মাশরাফি।
বাংলাদেশ অধিনায়কের সহায়তায় উদ্যোগটি সফল হবে বলেই বিশ্বাস ইউএনডিপির আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনসের—‘আমরা বিশ্বাস করি, মাশরাফির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সন্ধানে সহায়তা করতে পারব। তাঁর (মাশরাফি) সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এই কাজ আরও গতি পাবে বলেই বিশ্বাস করি। মাশরাফি মূলত তরুণদের জানাবেন, কীভাবে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এটা করতে চাই। তথ্যপ্রযুক্তি এমন এক খাত, সেখানে তরুণদের আধিপত্য।’

যেহেতু উদ্যোগটা অনেক বড়, রাজ্যের ব্যস্ততার মধ্যে মাশরাফি ঠিকঠাক সময় দিতে পারবেন তো? অধিনায়ক বরাবরই ইতিবাচক। এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নন। তিনি আশ্বস্তই করলেন, ‘ক্রিকেট খেলার পরও অনেক সময় থাকে। তখন আশা করি এটা করতে পারব। মনে হয় না খুব কঠিন হবে।’
মাশরাফি মাঠে নামলে অযুত প্রাণে সঞ্চার হয় আশা—বাংলাদেশকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়বেন অধিনায়ক। সে আশা পূরণ হয়নি, গত দেড় বছরে এমনটা কমই দেখা গেছে। এ উদ্যোগেও প্রত্যয়ী মাশরাফিকেই দেখা গেল। মাঠের মতো তিনি সফল হতো চান এখানেও, ‘দেশের তরুণেরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ উদ্যোগটা যদি তরুণদের কাজে লাগে, দেশটা অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
মাশরাফির দুরবিনে চোখ রেখে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা যেতেই পারে। কিন্তু সেখান থেকে চোখ সরালেই ভেসে উঠবে আরেকটি স্বপ্ন, যেটি উঁকি দিচ্ছে একদম কাছে—এশিয়া কাপ ফাইনাল। আজ সন্ধ্যায় ভারতের বিপক্ষে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণী মঞ্চে মাশরাফির আরও একটি অসাধারণ নেতৃত্বের ঝলক দেখার অপেক্ষায় গোটা দেশ।

Leave a Reply