আসসালামু আলাইকুম।

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালোই আছেন। প্রতিদিনের মতো আজকেও শুধু আপনাদের জন্য নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাঁজির হয়েছি। তো বেশি কথা না বলে সরাসরি মূল পোস্টে চলে যায়।

আজকের পোস্টটি মূলত ওয়েবসাইট নিয়ে। ওয়েবসাইটের ধারণা, ওয়েবসাইটের ইতিহাস, ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব এবং বিভিন্ন প্রকারের ওয়েবসাইট সম্পর্কে আলোচনা করবো।

ওয়েব ডিজাইনের ধারণা (Concept of Web Design)

ওয়েব ডিজাইন হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়বস্তু ব্যবহারকারীদের কাছে উপস্থাপন করার একটি শিল্প। রং তুলির ছোয়ায় শিল্পী যেমন তার চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তোলেন ঠিক তেমনি ওয়েব ডিজাইনারগণ বিভিন্ন ডিলাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করেন বিচিত্র্য ও সুন্দর সব ওয়েবপেজ। ওয়েব ডিজাইন বলতে মূলত ওয়েবপেইজ তৈরিতে নিয়োজিত বিভিন্ন কার্যক্রমের সমষ্টিকেই বোঝায়। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়বস্তু ব্যবহারকারীদের কাছে সুন্দর ও শিল্পিতরূপ উপস্থাপন করার নান্দনিক কাজটিকেই ওয়েব ডিজাইন বলা হয়। আরো সুনির্দিষ্ট করে বলা যায়, ওয়েব ডিলাইন হচ্ছে ওয়েবপেইজের ফ্রন্টএড (Frontend) নির্মাণে নিবন্ধ কাজ। এক কথায় বলা যায়, একটি ওয়েবসাইটের বাহ্যিক সৌন্দর্য নির্মাণ কৌশলই হচ্ছে ওয়েব ডিজাইন। 

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (World Wide Web—WWW)

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হচ্ছে বিশ্বজাল WWW কে অধিকাংশ সময়ই ওয়ের নামে ডাকা হয়। ওয়েব হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সকল কম্পিউটারের একটি নেটওয়ার্ক। সুতরাং আমরা বলতে পারি, “ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েৰ” হচ্ছে বিশ্বব্যাপী বণ্টিত গতিশীল (Dynamic Interactive) গ্রাফিক্যাল হাইপার টেক্সট ইনফরমেশন সিস্টেম যা ইন্টারনেটে রান করে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে ইন্টারনেট কী? একটি কম্পিউটারের সাথে আরেকটি কম্পিউটারের যোগাযোগকে নেটওয়ার্ক বলে। আর একটি নেটওয়ার্কের সাথে এক বা একাধিক নেটওয়ার্কের যোগাযোগকে ইন্টারনেট বলে। এক কথায় বলা যায়, নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ককে ইন্টারনেট বলে। তিনটি নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে ওয়েব (Web) গড়ে উঠেছে।

  • প্রথমত, HTML (Hyper Text Markup Language) যার দ্বারা ওয়েবপেইজ লেখা হয়।
  • • দ্বিতীয়ত, HTTP (Hyper Text Transfer Protocol) যার দ্বারা Web Server Computer ওয়েব ট্রান্সমিট বা প্রেরণের কাজ সম্পন্ন করে।
  •  • তৃতীয়ত, Web browser: যে প্রোগ্রাম ডেটা রিসিভ ও অনুবাদ করে ক্লায়েন্টকে তার ফলাফল প্রদর্শন করে।

জেনে রাখা ভালো: ১৯৮৯ সালে ইন্টারনেটের http বা হাইপার টেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল আবিষ্কার হওয়ার পর কম্পিউটিং সুবিধাকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বণ্টনের जना ১৯৯২ সালে Tim Berners-Lee সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব তৈরি করেন।

ওয়েবপেইজ (Web Page): 

ইন্টারনেট তথ্য ওয়েবে যে কেউ তথ্য রাখতে পারে এসব তথ্য হতে পারে লেখা, অডিও, ভিডিও স্থির চিত্র, এনিমেশন ইত্যাদি। ওয়েবে এসব তথ্য রাখার পেইজকে বলে ওয়েবপেইজ। সুতরাং আমরা বলতে পারি, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের দেখার উপযোগী ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন দেশের সার্ভারে রাখা ফাইলকে ওয়েবপেইজ বলে। ওয়েবপেইজকে আবার ওয়েব ডকুমেন্টও বলে। এক বা একাধিক ওয়েবপেইজের সমন্বয়ে ওয়েব প্রেজেন্টেশন বা ওয়েবসাইট তৈরি হয়। সুতরাং একই ডোমেইনের অধীনে পরস্পর সংযোগযোগ্য একাধিক ওয়েবপেজের সমষ্টিকে ওয়েবসাইট বলে। ওয়েবে প্রথম ঢুকলে যে পেইজটি প্রদর্শিত হয় তাকে হোমপেইজ বলে।

চিত্র: একটি শিক্ষা বোর্ডের হোম পেইজ

উপরে প্রদর্শিত চিত্রটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এর ওয়েবসাইটের হোম পেজ।

গঠন বৈচিত্র্যের ওপর নির্ভর করে ওয়েবসাইট সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে। যথাঃ

  •  ১। স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট: যে সকল ওয়েবসাইটের ডেটার মান ওয়েবপেইজ লোডিং বা চালু করার পর পরিবর্তন করা যায় না, তাকে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট বলে। স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট শুধু HTML ভাষা দিয়েই করা যায়। স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট-এর বৈশিষ্ট্য: 
  • কনটেন্ট নির্দিষ্ট থাকে।
  • ব্যবহারকারী তথ্য প্রদান বা আপডেট করতে পারে না।
  •  খুব দ্রুত লোড হয়।
  • কোনো রকম ডেটাবেজের সাথে সংযোগ থাকে না।
  • কেবলমাত্র সার্ভার থেকে ক্লায়েন্টে (একমুখী) কমিউনিকেশন হয়।
  • শুধু HTML & CSS ব্যবহার করেই এটি উন্নয়ন করা যায়।

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটের সুবিধা:

  • খরচ কম।
  • ওয়েবসাইট উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ খুব সহজ।
  • . অতি দ্রুত, দক্ষতা ও নিরাপত্তার সাথে কনটেন্ট সরবরাহ করা যায়। খুব সহজেই সার্চ ইঞ্জিন পরিচালনা করা যায়।
  • সহজেই ওয়েবপেইজের লে-আউট পরিবর্তন করা যায়। 
  • নেট স্পীড খুব কম হলেও দ্রুততার সাথে ডেটা ডাউনলোড করা যায়।

চিত্র : স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটের কর্ম প্রক্রিয়া

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটের অসুবিধা:

  • যেহেতু কনটেন্ট কোডিং করে দেওয়া হয় তাই কনটেন্ট আপলোড করতে প্রচুর সময় লাগে।
  • ওয়েবসাইটের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে কনটেন্টগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। মানসম্মত ওয়েবপেইজ ডিজাইনিং অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং সময় সাপেক্ষ।
  • ব্যবহারকারীর নিকট হতে ইনপুট নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে না। 

২। ডাইনামিক ওয়েবসাইট: 

যে সকল ওয়েবসাইটের ডেটার মান ওয়েবপেইজ লোডিং বা চালু করার পর পরিবর্তন করা যায় তাকে ডাইনামিক ওয়েবসাইট বলে। ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরির জন্যে HTML ভাষার সাথে স্ক্রিপ্টিং ভাষা যেমন- পিএইচপি (PHP) বা এএসপি (ASP) ভাষা এবং এর সাথে ডেটাবেজ Server প্রয়োজন।

Database চিত্র: ডাইনামিক ওয়েবসাইটের কর্ম প্রক্রিয়া www.ft.con

ডাইনামিক ওয়েবসাইট-এর বৈশিষ্ট্য;

  1. পরিবর্তনশীল তথ্য বা ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েবপেজ থাকে। রানটাইমের সময় পেইজের ডিজাইন বা কনটেন্ট পরিবর্তন হতে পারে.
  2. ডেটাবেল ব্যবহৃত হয় ফলে কুয়েরি করে তথ্য বের করার সুযোগ থাকে।
  3. সময় ব্যবহারকারী তথ্য প্রদান বা তথ্য আপডেট করতে পারে।

ডাইনামিক ওয়েবসাইটের সুবিধা:

  1. ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী পেইজ এর কনটেন্ট পরিবর্তন হতে পারে। 
  2. তথা বা বিষয়বস্তু আপডেট খুব দ্রুত করা যায়। 
  3.  নির্ধারিত ব্যবহারকারিদের জন্য নির্ধারিত পেইজ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যায়।
  4. ব্যবহারকারীর নিকট হতে ইনপুট নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
  5. ওয়েবসাইটের থিম এবং ওয়েবপেইজের কন্টেন্ট
  6. অনেক বেশী তথ্য বহুল হতে পারে। আকর্ষণীয় ও ইন্টারেক্টিড লে-আউট তৈরি করা যায়।

ডাইনামিক ওয়েবসাইটের অসুবিধা:

  1. ডেটাবেজ ব্যবহৃত হয় ফলে ব্যবহারকারীর ব্রাউজারে লোড হতে বেশি সময় নেয়।
  2. উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক জটিল।
  3. খরচ বেশি।

স্ট্যাটিক ও ডাইনামিক ওয়েবসাইট এর মধ্যকার পার্থক্য: স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট

ডাইনামিক ওয়েবসাইট

১. ওয়েবসাইটের ডিজাইন এবং কন্টেন্ট রান টাইমে পরিবর্তিত হয়।

2.  ডাইনামিক কন্টেন্ট তৈরি হওয়ার জন্য লোড হতে দেরী হয়।

3.. ডেটাবেজ কানেক্টিভিটি ব্যবহার করে

৪. তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ

৫. যেখানে রান টাইমে কনটেন্ট পরিবর্তন হয় যেমন ই-কমার্স, অনলাইন এক্সাম ইত্যাদি ওয়েবসাইটের তথ্য প্রদর্শন করে।

৬. সার্ভারে এপ্লিকেশন রান করে এবং আউটপুট ওয়েবপেজে প্রদর্শন করে। তাই এতে সার্ভার এপ্লিকেশন ল্যাংগুয়েজ যেমন-PHP, ASP.NET, JSP ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। ৭. ডেভেলপ করা, টেস্ট করা, ব্যবস্থাপনা করার জন্য দক্ষ ডেভেলপার প্রয়োজন হয়। ৮. সার্ভার এপ্লিকেশন ব্যবহার করে কনটেন্ট পেজ পরিবর্তন করা যায় বিধায় সার্ভারে আপলোড করার প্রয়োজন হয় না।

স্ট্যাটিক ওয়রবসাইট

১. পরিবর্তন করলে পুনরায় সার্ভারে আপলোড করতে

২. ডেভেলপ করা সহজ।

৩. সরাসরি রান করে। অন্য সার্ভার ল্যাংগুয়েজের প্রয়োজন হয় না। সাধারণত HTML এবং CSS দিয়ে তৈরি করা সহজ।

৪. কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রদর্শন করে।

৫..) তুলনামূলকভাবে কম নিরাপদ 

৫. কখনো ডেটাবেজ কানেক্টিভিটি ব্যবহার করে না।

৭. কয়েকটি মাত্র মার্কআপ থাকায় দ্রুত লোভ হয়। 

কয়েকটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ 

CSS: সিএসএস মানে হলো ক্যাসকেডিং স্টাইল শিট (CSS-Cascading Style Sheets)। এলিমেন্টস গুলো কিভাবে প্রদর্শিত হবে তা স্টাইলসমূহ নির্ধারণ করে দেয়। এসব স্টাইলগুলো সাধারণত স্টাইল শিট সমূহে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এক্সটার্নাল স্টাইল শিটগুলো প্রচুর পরিমাণে কাজ করা থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। এগুলে CSS ফাইলে সংরক্ষণ করা থাকে।

Java Script: HTML পেইজগুলোতে ইন্টারঅ্যাকটিভিটি প্রদানের লক্ষ্যেই লাভাস্ক্রিন্টকে ডিজাইন করা হয়েছিল স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ হলো একটি হালকা ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ জাভাস্ক্রিপ্ট সাধারনত HTML পেইজগুলোতে সরাসরি এমবেড করে দেয়া হয়ে থাকে। এটি একটি ইন্টারপ্রিটেড ল্যাংগুয়েজ যার মানে হলো প্রাথমিক কম্পাইলেশন ছাড়াই স্ক্রিপ্টটি এক্সিকিউট হতে পারে। লাইসেন্স ছাড়াই এটি সকলে ব্যবহার করতে পারে।

php: php মানে হলো হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর (php Hypertext Preprocessor)। এটি একটি সার্ভার সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ। php স্ক্রিপ্টগুলো সার্ভারে কার্যকর হয়ে থাকে। এটি বিভিন্ন ধরনের ডেটাবেজ সমর্থন করে। ওপেন সোর্স সফটওয়্যার হওয়ায় এটি বিনামূল্যে ডাউনলোড ও ব্যবহার করা যায়। এর ফাইল এক্সটেনশন হলো “.php”. “php3” অথবা “phtml”

ASP: ASP এর পূর্ণরূপ হলো Active Server Pages। এটি একটি সার্ভার সাইড স্ক্রিন্টিং প্রযুক্তি যা ইন্টারনেট সার্ভার থেকে স্ক্রিপ্ট চালনা করে। এটি মাইক্রোসফট প্রযুক্তি। এটি HTML ফাইলের মতোই একটি ফাইল। এ ফাইলে HTML, XML এবং Scripts থাকতে পারে।

আবার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ওয়েবপেজ দুই প্রকার

১। লোকাল ওয়েবপেজ ২। রিমোট ওয়েবপেজ

ওয়েবপেজ: স্থানীয়ভাবে ডিজাইন ও সংরক্ষণকৃত ওয়েবপেইজগুলোকে লোকাল ওয়েবপেজ বলা হয়। লোকাল

ওয়েবপেইজগুলো সাধারণত সোর্স ড্রাইভ ও ডিরেক্টরি থেকে সহজেই ব্যবহার করা যায়। এ ধরনের পেইজ ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয় না।

রিমোট ওয়েবপেল: দূরবর্তী কোন .

কম্পিউটারে সংরক্ষিত ওয়েবপেইজগুলোকে রিমোট ওয়েবপেজ বলা হয়। রিমোট ওয়েবপেইজ ডাউনলোড করার জন্য ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের ওয়েবপেইজ ব্রাউজিং এর জন্য ওয়েব অ্যাড্রেস জানার প্রয়োজন হয়। এরূপ আড্রেসকে Uniform Resource Locator (URL) বলা হয়।

. আর্কাইভ সাইট: এসব সাইটে পুরনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি সকলের ব্যবহারের জন্য জমা রাখা হয়। • বিজনেস সাইট: ব্যবসায় প্রসার, প্রচার এবং ব্যবসায়িক সেবাদানের উদ্দেশ্যে এসব সাইট তৈরি করা হয়।

. . কম্যুনিটি সাইট: বিভিন্ন ব্যক্তি একসাথে যোগাযোগের জন্য এসব সাইট তৈরি করেন। এতে মেসেজ বোর্ড সাইট থাকে। ডেটাবেস সাইট: এই ধারণার সাইট সাধারণত নির্দিষ্ট ডেটাবেজের কনটেন্ট খোজা ও প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হয়। • ডেভেলপমেন্ট সাইট: সফটওয়্যার উন্নয়ন, ওয়েব ডিজাইন প্রভৃতির জন্য বিভিন্ন রিসোর্স ও তথ্য এসব সাইটে থাকে। ডিরেক্টরি সাইট: এই ধরনের সাইটগুলো বিভিন্ন কনটেন্টকে ক্যাটাগরি ও সাবক্যাটাগরি আকারে প্রদর্শন করে। ডাউনলোড সাইট: সফটওয়্যার, ওয়ালপেপার ইত্যাদি জিনিসগুলো এসব সাইট হতে ডাউনলোড করা যায়। গেম সাইট: এরূপ সাইটগুলো একেকটি নিজেই কম্পিউটার গেমের বিচরণক্ষেত্র। এসব সাইটে সরাসরি গেম খেলা যায়। ইনফরমেশন সাইট: এসব সাইট থেকে প্রচুর তথ্য আহরণ করা যায়। সাইটগুলোতে বিনামূল্যে তথ্য পাওয়া যায়। নিউজ সাইট: এখানে কেবল চলমান বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের সংবাদ তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা হয়। . .

. ই-কমার্স সাইট: পণ্য বিক্রির জন্য এসব সাইট তৈরি করা হয়। এতে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে পণ্য কেনা যায়।

ব্যবহারের ভিত্তিতে ওয়েবসাইটের শ্রেণিবিভাগ:

এইচটিটিপি (HTTP-Hyper Text Transfer Protocol): HTTP অর্থ হলো Hyper Text Transfer Protocol ইন্টারনেটে টিসিপি / আইপি প্রটোকলের মাধ্যমে যে প্রটোকল ওয়েব সার্ভার ও ওয়েব ক্লায়েন্ট-এর মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করে তাকে এইচটিটিপি (HTTP) বলে। ক্লায়েন্ট বিভিন্ন ব্রাউজারের মাধ্যমে ওয়েবপেইজের জন্য সার্ভারকে অনুরোধ পাঠাতে থাকে। সাভার ক্লায়েন্টের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ওয়েবপেইজকে ক্লায়েন্টের কাছে পাঠিয়ে দেয়। ক্লায়েন্ট বিভিন্ন ব্রাউজারের মাধ্যমে তা দেখতে পায়। আর যার মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান হয় তা হলো এইচটিটিপি (HTTP)। সুতরাং এইচটিটিপি (HTTP) এর কাজ হচ্ছে সার্ভারের সাথে ব্রাউজারের সংযোগ তৈরি করা, ব্রাউজারের যেকোনো অনুরোধ সার্ভারে পৌঁছে দেওয়া, ব্রাউজারের অনুরোধে সার্ভারের সাড়া মোতাবেক ওয়েবপেইজকে ব্রাউজারে নিয়ে আসা, ব্রাউজার এবং সার্ভারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।

ওয়েব কীভাবে কাজ করে?

|ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ক্লায়েন্ট / সার্ভার আর্কিটেকচার অনুযায়ী গড়ে উঠেছে। এর অর্থ হচ্ছে ক্লায়েন্ট কম্পিউটারে client programme অর্থাৎ ওয়েব ব্রাউজার প্রোগ্রামটি রান (run) করবে যার সাহায্যে ইন্টারনেটের কোথাও সার্ভার programme run করছে এমন একটি কম্পিউটার থেকে তথ্যের জন্য ক্লায়েন্ট অনুরোধ (request) করবে। ক্লায়েন্ট কম্পিউটারের অনুরোধকৃত তথ্যটি সার্ভার ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্লায়েন্ট কম্পিউটারের ব্রাউজারের কাছে পাঠিয়ে দেবে এবং ব্রাউজার তা অনুবাদ (Interpret) করে স্ক্রিনে প্রদর্শন করবে।

চিত্র: ওয়েব যেভাবে কাজ করে

এফটিপি (FTP): 

File Transfer Protocol এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো এফটিপি (FTP)। এটি ইন্টারনেট মাধ্যম ব্যবহার করে ফাইল আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত প্রটোকল (Protocol) FTP-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী অন্যের কম্পিউটার হতে ফাইল প্রয়োজনানুযায়ী নিজের কম্পিউটারে নিতে পারে যাকে ডাউন-লোড বলে। আবার নিজের কম্পিউটার হতে সার্ভারে কোন ফাইল প্রয়োজন হলে পাঠানো যায় একে আপ-লোড বলে। আপ-লোড বা ডাউন লোডের জন্য সাভারে উপযুক্ত পাসওয়ার্ড দিয়ে Login (লগইন) করতে হয়। ইন্টারনেটের বুলেটিন বোর্ডে কোন ওয়েবপেজ স্থাপন করার জন্যও এই প্রটোকল ব্যবহৃত হয়। সাধারণত দ্রুত গতিতে ফাইল বা সফটওয়্যার ডাউনলোড বা আপলোড করার ক্ষেত্রে FTP ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য FTP সফটওয়্যার হলো WS-FTP, Fetch ইত্যাদি। সাভারের যেসব ফাইল ব্যবহারকারীর Access করার ক্ষমতা থাকে শুধুমাত্র সেসব ফাইল ব্যবহারকারী Access করতে পারবে। সাভারে Access সাধারণত দু’ভাবে দেওয়া হয়।

  • 1. প্রাইভেট এক্সেস (Private access)
  • 2. পাবলিক এক্সেস (Public access)

ক্লায়েন্ট কম্পিউটার (Client Computer): 

যে কম্পিউটার থেকে আমরা ওয়েবপেইজ ব্রাউজ করি তাই ক্লায়েন্ট কম্পিউটার ক্লায়েন্ট কম্পিটারের দুটি মূল রিকয়ারমেন্ট (Requirement) রয়েছে। Clients প্রথমত, এই মেশিনের সাথে অবশ্যই ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই মেশিনকে ওয়েব ব্রাউজার প্রোগ্রাম রান করার ক্ষমতা থাকতে হবে। ইন্টারনেটের সাথে এই সংযোগ হয় ডায়াল আপ ফোনের সাহায্যে। মডেমের মাধ্যমেও হতে পারে।

ওয়েব সার্ভার (Web Server): 

ওয়েবপেইজ বা ওয়েবসাইট যে সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে তাকে বলা হয় ওয়েব সার্ভার। আমরা ব্রাউজারের সাহায্যে এসব পেইজ বা সাইট ওয়েব সার্ভার থেকে পর্দায় নিয়ে আসি। ওয়েব সার্ভার HTTP (Hyper Text Transfer Protocol) প্রটোকল ব্যবহার করে গ্রাহকের ওয়েবপেইজ সংক্রান্ত অনুরোধে সাড়া দিয়ে থাকে অর্থাৎ ওয়েবপেইজ সরবরাহ করে।

আইপি এড্রেস (IP Address)

আইপি নেটওয়ার্ক তথা ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত প্রতিটি কম্পিউটারের একটি পৃথক নিজস্ব ঠিকানা থাকে, তাকে আইপি এড্রেস বলে। তথ্য আদান প্রদানে সাধারণত আইপি এড্রেস ব্যবহৃত হয়ে থাকে সাধারণ ব্যবহারকারীগণ আইপি এড্রেসের মাধ্যমে তথ্যাবলি গ্রহণ ও প্রেরণ করে থাকেন। আইপি এড্রেসকে বিভিন্ন ক্যারেক্টারের সাহায্যে চিহ্নিত না করে নম্বরের সাহায্যে চিহ্নিত করা হয়। যেমন- ১৯২.১৬৮.০:১২৫ একটি আইপি এড্রেস। তবে এভাবে নম্বর মনে রাখা সহঙ্গ না তাই ডোমেইন নাম ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি আইপি এড্রেসে নেটওয়ার্ক আইডি এবং হোস্ট আইডি নির্দেশ করে। যেমন- ১৯২.১৬৮,০ পর্যন্ত নেটওয়ার্ক আইডি এবং ১২৫ হলো হোস্ট আইডি। এটি ৪টি অংশে বিভক্ত মোট ৩২ বিটের একটি নম্বর।

ইউআরএল (URL): প্রতিটি ওয়েবসাইটের একটি সুনির্দিষ্ট ও অদ্বিতীয় ওয়েব অ্যাড্রেস রয়েছে যার সাহায্যে কোন ওয়েবসাইটের পেজগুলোকে ওয়েব ব্রাউজারে দেখা বা খুঁজে বের করা যায়। প্রতিটি ওয়েব অ্যাড্রেসের পেছনে একটি আইপি অ্যাড্রেস কাজ করে। ইন্টারনেটে যখন কোন ওয়েব অ্যাড্রেস লিখে এন্টার (Enter) চাপা হয় তখন ডিএনএস (DNS) এর মাধ্যমে তা আইপি অ্যাড্রেসে রূপান্তরিত হয়ে যায় এবং নির্দিষ্ট কম্পিউটার খুঁজে পায়। আমরা বলতে পারি, আইপি অ্যাড্রেসের আলফানিউমেরিক (ক্যারেক্টার ও নাম্বার সম্বলিত) রূপই হচ্ছে ওয়েব অ্যাড্রেস। মূলত ওয়েব অ্যাড্রেস ডোমেইনে অন্তর্ভূক্ত একটি কম্পিউটারের পরিচয় বহন করে যা ওয়েব সার্ভিস প্রদান করে। ওয়েব এড্রেস URL নামে পরিচিত। URL এর অর্থ Universal / Uniform Resource Locator URL দুটি পৃথক অংশ দ্বারা তৈরি করা হয়, একটি হলো protocol আর অপরটি হলো domain name। প্রটোকল URL এর প্রথম অংশ, যা নির্দেশ করে সাইটটি কি ধরনের ওয়েবসাইট, কোন ফাইল ট্রান্সফার সাইট নাকি কোন secure সাইট। এক্ষেত্রে প্রটোকলটি হলো http, যেটার অর্থ হচ্ছে Hypertext Transfer Protocal এবং এটি হচ্ছে ওয়েবপেজ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানোর প্রটোকল। আর দ্বিতীয় অংশটা হচ্ছে domain name যেটা অনেকটা আমাদের বাড়ির ঠিকানার মতো। এটা ওয়েব ব্রাউলারকে বলে দেয় সাইটটি খুঁজে পেতে হলে কোথায় যেতে হবে। একটি ওয়েব অ্যাড্রেসে যে যে অংশ থাকে তাহলো বেশীর ভাগ ওয়েব এড্রেসই শুরু হয় http:// দিয়ে। এর অর্থ Hypertext Transfer Protocol ইন্টারনেটের মাধ্যমে সাধারণ ওয়েবপেজ গুলোকে ট্রান্সফার করতে এই প্রটোকল ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য প্রটোকলের মধ্যে যেগুলো আপনার। চোখে পড়বে তার একটি হলো ftp:// (file transfer protocol) এবং trps / 1 / s * P ব্যবহার করা হয় সুরক্ষিত ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে, যেসব সাইটে গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। এই সব সাইটে ঢোকার জন্য লগ ইন করতে হয়।

 Domain name

domain name-এর বেশ কিছু অংশ আছে। মূলত ওয়েব এড্রেসের এই অংশটিই ইন্টারনেট প্রটোকল আসল কাজটি করে (IP) এড্রেসেরবেশির ভাগ ওয়েব এড্রেসে www অংশটি থাকে। এর অর্থ World Wide Web domain name-এর প্রথম অংশে এটি থাকে 8 Host domain name-এর এই অংশে ওয়েবসাইটের সত্ত্বাধিকারীর নির্বাচিত কোন নাম দেয়া থাকে। এ নামটি কোন ব্যক্তি বা কোম্পানির নামেও হতে পারে। @ সাইটের ধরণ domain name-এর এই অংশটা তোমাকে বলবে সাইটটি কি ধরনের সাইট। উদাহরণস্বরূপ, .co অথবা com-এর অর্থ হলো সাইটটি কোন কমার্শিয়াল সাইট, আবার gov-এর অর্থ সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সাইট.org-এর অর্থ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসমূহের সাইট এবং edu অথবা ue-এর অর্থ হলো শিক্ষামূলক সাইট। US ব্যতীত অপর কোন দেশের ওয়েবসাইট হলে সাইটটির একটি country code থাকতে পারে। যেমন uk-এর অর্থ দেশ হলো এটি United kingdom ভিত্তিক কোন ওয়েবসাইট। ওয়েব ব্রাউজিং (Web Browsing) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সার্ভারে রাখা পরস্পর সংযোগযোগ্য ওয়েষপেল পরিদর্শন করাকে ওয়েব ব্রাউজিং বলা হয়। ওয়েব ব্রাউজিং হলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সাভারে রাখা ওয়েবপেজ পরিদর্শন প্রক্রিয়া। ওয়েব ব্রাউজিং এর সাহায্যে ইন্টারনেট থেকে অসংখ্য তথ্য আরোহন সম্ভব। ওয়েব ব্রাউজিং-এর জন্য অনেক সফটওয়্যার রয়েছে। যেমন Google Chrome, Mozilla Firefox, Internet Explorer Opera, Mosaic ইত্যাদি। ওয়েব ব্রাউজিং এর দুইটি পদ্ধতি হলো ১. নির্দিষ্ট অ্যাড্রেস বা ঠিকানার মাধ্যমে ব্রাউজিং এ ব্যবহারকারীকে যে প্রতিষ্ঠান বা বিষয়ের ওয়েবসাইটে যেতে চান সেই সাইটের ঠিকানা বা অ্যাড্রেস জানতে হবে বা কোন মাধ্যমে তা জেনে ব্রাউজার ওপেন করার পর Address/looking বক্সে উক্ত সাইটটির অ্যাড্রেস টাইপ করে Enter দিলে কাঙ্খিত সাইটটির মূল/ প্রধান বা home page আসবে। এই পদ্ধতিকে কম্পিউটারের ভাষায় Log on বলা হয়। Log on এর পর হোম পেজ আসবে এবং সেখান থেকে Hyperlink এর মাধ্যমে সাইটটির অন্যান্য পেজে ভ্রমন করা যায়। ২. শব্দ বা বাক্যের মাধ্যমে ব্রাউজিং এ যদি ব্যবহাকারী যে বিষয়ের ওয়েবসাইটে গমন করতে চান সে বিষয়ের অ্যাড্রেস বা ঠিকানা যদি না জানা থাকে তাহলে ব্যবহারকারীকে একটি সার্টিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিষয় বস্তুটির কোন মূল শব্দ বা বাক্য সংক্রান্ত আকারে লিখে Enter দিলে কাঙ্খিত বিষয়ের ওয়েব সাচিং এ ওয়েবসাইট অসংখ্য ওয়েবসাইট অ্যাড্রেস প্রদর্শন করে থাকে। এর মধ্যে থেকে উপযুক্ত সাইটটি বাছাই করে ব্যবহারকারী কাঙ্খিত সাইট ব্রাউজিং করতে পারেন। Google, Lycos, yahoo প্রভৃতি জনপ্রিয় সার্চিং ইঞ্জিন বা ওয়েবসাইট। ওয়েব সার্ভিস হল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত বিভিন্ন কম্পিউটারে চালু থাকা বিভিন্ন সফটওয়্যারের মধ্যে আন্তঃক্রিয়ার একটি ব্যবস্থা। ওয়েব সার্ভিসগুলো সাধারণত সুনির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন অনুসারে প্রকাশিত কিছু ইন্টারফেস। মূলত এটি ওয়েব সার্ভিস ডেসক্রিপশন ল্যাংগুয়েরো লেখা হয়। একটি সফটওয়্যার যখন ওয়েব সার্ভিস গ্রহণ করে তখন আসলে এটি সেরকম একটি ইন্টারফেসে বার্তা পাঠায়। এই বার্তা সোপ (SOAP) প্রটোকল মেনে চলে। সার্ভিসের অনুরোধ কিংবা উত্তর – উভয়েই এক্সএমএলএ লেখা হয়।

ওয়েব ব্রাউজার (Web Browser) 

ওয়েব ব্রাউজ করার জন্য যে সকল সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় তাকে ওয়েব ব্রাউজার বলে। অন্যভাবে বলা যায়, ওয়েবসাইটগুলো ঘুরে দেখার জন্য ব্যবহারকারী যে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন, তাকে ওয়েব ব্রাউজার (Web Browser) বলে। ব্রাউজার শব্দটির অর্থ হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে কোন কিছু পড়া বা দেখা। ওয়েব ব্রাউজার এর মাধ্যমে কোন কিছু খুঁজতে গেলে বা কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের ওয়েবসাইটে গমন করতে হলে একাধিক পথ আছে। ওয়েব ব্রাউজার সফটওয়্যারের উল্লেখযোগ্য কাজসমূহ হল- ইন্টারপ্রেটারের ন্যায় ওয়েবপেজে লিখিত কোডগুলো অনুবাদ করে ফলাফল প্রদর্শন করে, ব্রাউজার সফটওয়্যার ব্যবহার করে সহজে ইন্টারনেট থেকে যে কোন তথ্য খুঁজে বের করা যায়, ওয়েবসাইটের ঠিকানা জানা না থাকলেও সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়, ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ডাউনলোড করা যায়, নিজ থেকে ওয়েবসাইটে বিভিন্ন তথ্য আপলোড করা যায় ইত্যাদি ওয়েব ব্রাউজার হলো এমন একটি সফটওয়্যার যার মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী যেকোনো ওয়েবপেইজ, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে অথবা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে অবস্থিত কোনো ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি এবং অন্যান্য তথ্যের অনুসন্ধান, ডাউনলোড কিংবা দেখতে পারেন। কোনো ওয়েবসাইটে অবস্থিত লেখা এবং ছবি একই অথবা ভিন্ন ওয়েবসাইটের সাথে আন্তঃসংযুক্ত (হাইপারলিঙ্কড) থাকলে একটি ওয়েব ব্রাউজার একজন ব্যবহারকারীকে দ্রুত এবং সহজে এই সকল লিঙ্কের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অবস্থিত অসংখ্য ওয়েবপেইজের সাথে তথ্য আদান-প্রদানে সাহায্য করে। নিচে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কিছু ওয়েব ব্রাউজারের নাম দেওয়া হলো।

  • ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার (Internet Explorer)
  • মজিলা ফায়ারফক্স (Mozilla Firefox)
  • গুগলক্রোম (Google Chrome)
  • সাফারি (Safari)
  • ওপেরা (Opera)
  • Google Crome Mozilla Firefox
  • Safari
  • Internet Explorer
  • Opera

কোন প্রোগ্রাম ব্যবহার করবে? কোন প্রোগ্রামটি ব্যবহার করবে তা একান্তই নির্ভর করছে ব্যবহারকারীর উপর। উপরে যে সব ব্রাউজারের নাম আমরা জেনেছি বা দেওয়া হয়েছে তাদের প্রত্যেকটিই জনপ্রিয়। এদের মধ্যে থেকে ইচ্ছেমত যেকোনো একটি ব্রাউজার ব্যবহার করা যায়। তবে একমাত্র ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারই কেবল আলাদাভাবে ইনস্টল করা লাগে না অর্থাৎ উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সাথে বিল্টইন ভাবে ইনস্টল হয়ে থাকে। তাই ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজলভ্য। বাদবাকী অন্য সবগুলো ব্রাউজারগুলো ব্যবহার করতে হলে তাদেরকে আগে সংগ্রহ করতে হবে তারপর আলাদাভাবে ইনস্টল করতে হবে। যদিও ব্রাউজার সংগ্রহ করা সামান্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমরা ইন্টারনেট থেকে অথবা কোনো বন্ধুর নিকট থেকে অথবা কোনো সফটওয়্যার বিক্রি করে এমন দোকান থেকে সহজেই সফটওয়্যারটি সংগ্রহ করতে পারি।

ব্রাউজার সম্বন্ধে আরও কিছু কথা:

প্রত্যেকটি ওয়েব ব্রাউজার ওয়েবসাইটগুলোকে একটু ভিন্নভাবে দেখাই। তবে এই ভিন্নতা খুবই সামান্য। যদি একই সময়ে একটি ব্রাউজার দিয়ে ওয়েবসাইট খোলা হয় তাহলে ভিন্নতা বোঝা কষ্টকর হয়ে যাবে কিন্তু একই সাথে একই সময়ে কয়েকটি ব্রাউজার দিয়ে একটি ওয়েবসাইট খুললে ভিন্নতা বা সূক্ষ পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে। সার্চ ইঞ্জিন সার্চ ইঞ্জিন হলো এমন এক ধরনের টুলস যার সাহায্যে ইন্টারনেটের অজস্র ওয়েব সার্ভার থেকে সহজেই যেকোনো তথ্য খুঁজে বের করা যায়। সার্চ ইঞ্জিন হলো এমন একটি টুলস যা সমস্ত ইন্টারনেট বিস্তৃত ওয়েবসাইটগুলোকে আয়ত্তের মধ্যে রাখে। বহুল ব্যবহৃত কিছু জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হলোঃ

কিভাবে ওয়েব থেকে তথ্য খোঁজা যায়? ইন্টারনেটে প্রয়োজনীয় কোনো বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য ওয়েব অ্যাড্রেস জানা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু যদি ঐ বিষয়ের ওয়েব ড্রেস জানা না থাকে তাহলে সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্যে সহজেই ইনফরমেশন পাওয়া যেতে পারে। ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে দুইভাবে তথ্য খোঁজা যায়। যথাঃ

১. সরাসরি কোন ওয়েবপেজ ব্রাউজ করে: ইন্টারনেটে কানেক্ট হয়ে ব্রাউজার প্রোগ্রাম চালু করে অ্যাড্রেস বারে কোন ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখে এন্টার দিলে উক্ত ওয়েবপেজটি প্রদর্শিত হবে। এভাবে সরাসরি কোন ওয়েবপেজ থেকে তথ্য পাওয়া যায়।

২. সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে ওয়েবপেজ ব্রাউজ করে: কোন বিষয় এর তথ্য জানার জন্য ওয়েব ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে কোন সার্চ ইঞ্জিনের ঠিকানা লিখে এন্টার দিলে ঐ সার্চ ইঞ্জিনের ওয়েবপেজটি ওপেন হবে। সার্চ ইঞ্জিনের ফাইন্ড বক্সে যে বিষয়ের তথ্য জানা দরকার তার টাইটেল লিখে এন্টার দিলে সে সম্পর্কিত বিভিন্ন লিংকের তালিকা প্রদর্শিত হবে। তালিকা থেকে যেটিতে ক্লিক করা হবে সেটির ওয়েবপেজটি ওপেন হবে। এভাবে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে ইন্টারনেট থেকে যেকোনো তথ্য জানা যায় ডোমেইন নেম ও ওয়েব হোস্টিং (Domain Name and Web Hosting): সারা বিশ্বের প্রতিটি মানুষেরই একটি নাম রয়েছে। এটিই তার পরিচয়। একই নামে একই শহরে অনেক লোক থাকতে পারে কিন্তু তার ঠিকানা থাকে ভিন্ন ভিন্ন। এদের দেশ একও হতে পারে আবার ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে। আবার ভাষাও হতে পারে ভিন্ন ভিন্ন। ইন্টারনেটেরও এরকম ব্যবহার রয়েছে। ইন্টারনেটে দুই ধরনের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়।

জেনে রাখা ভালো; সারা বিশ্বের ডোমেইন যেকোনো কম্পিউটারকে চেনার জন্যে যে উপায়সমূহ আছে, এর | নেম বা আইপি এড্রেস যে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণ করে তার নাম আইসিএএনএন (ICANN. Internet corporation for Assigned Names and Numbers)। যেহেতু সকল | দেশের সর্বোপরি সারা বিশ্বের ডোমেইন নেম | প্রদান করে এই একটি প্রতিষ্ঠান ভাই যেকোনো | ডোমেইন নেমের পুনরাবৃত্তি হবার সম্ভাবনা কম। | এই প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার ডিস্ট্রিবিউটর | প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যে ডোমেইন নেমই যে স্থান নেম রেজিস্ট্রি করা হয় তবে এটি সারাবিশ্ব হতে একটি ইউনিক থেকে রেজিস্টার করা হোক না কেন এটি আইডেন্টিটি পাবে। অর্থাৎ একই নাম আর কেউ নিতে পারবে না। | ICANN থেকেই আসবে।

একটি হলো আইপি অ্যাড্রেস এবং অন্যটি হলো টেক্সট নির্ভর ডোমেইন নেম সিস্টেম (ডিএনএস)। ডোমেইন নেমও হচ্ছে একটি স্বতন্ত্র টেক্সট এড্রেস বা ওয়েব এড্রেস। ডোমেইন নেম এমন একটি সার্ভার কম্পিউটার যা ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এই ডোমেইন নেমের মাধ্যমেই সারা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইট খুঁজে পাবে। সুতরাং আইপি এড্রেসের অনুবাদই হচ্ছে ডোমেইন নেম। যদি একটি ডোমেইন যেমন- ধরি মাইক্রোসফট কোম্পানির ওয়েব অ্যাড্রেস হলো www.microsoft.com এবং এর আইপি অ্যাড্রেস হলো ২০৭,৬৮,১৩৭.৫৩ এখন ওয়েব ব্রাউজারে অ্যাড্রেসের স্থলে www.microsoft.com লিখলে যে ওয়েবপেজটি প্রদর্শিত হবে আর এর আইপি অ্যাড্রেস ২০৭.66.137.53 লিখলেও একই ওয়েবপেজ প্রদর্শিত হবে। একটি ডোমেইনের ২ বা ততোধিক অংশ থাকে। প্রতিটি অংশকে ডট binom দ্বারা ভাগ করা হয়।

তো আজ এই পর্যন্তই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ্য থাকবেন। ধন্যবাদ।

3 thoughts on "ওয়েবসাইটের ধারণা, ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ক্যাটেগরি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।"

  1. Tech Noyon Contributor says:
    Wapka tha kivabe comment box add kore
    1. Akash_Ahmed4555 Contributor Post Creator says:
      YouTube a search korlei onk tutorial paben.

Leave a Reply