আমাদের যাদের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেল আছে তারা অবশ্যই এসইও শব্দটির সাথে পরিচিত। একটি ওয়েবসাইটের জন্য এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারন একটি ওয়েবসাইটে যদি সঠিকভাবে এসইও করা না থাকে তাহলে সেই ওয়েবসাইট কখনোই রেংক করেনা।

আজকে আমরা ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এবং হোয়াইটহেডস ইউ সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। তাহলে চলুন শুরু করি…

• ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কি?
ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এমন এক ধরনের এসইও যেটাতে মূলত সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্টকে বেশি টার্গেট করা হয়। একটি ওয়েবসাইট দ্রুত রেংকিং করার জন্য ব্ল্যাক হ্যাট এসইও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই প্রক্রিয়ায় মূলত সার্চ ইঞ্জিনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু কনটেন্ট কোয়ালিটি এবং ইউজার এক্সপেরিয়েন্স কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। একটি সার্চ ইঞ্জিন থেকে কম সময়ে ভালো ট্রাফিক পাওয়া জন্য এই ধরনের এসইও করা হয়।

এই প্রক্রিয়ায় সার্চ ইঞ্জিন থেকে বেশি ট্রাফিক পাওয়ার জন্য বেশিরভাগ সময়ই স্প্যাম টেকনিকগুলো অবলম্বন করা হয়। মনে রাখবেন এই ধরনের টেকনিকগুলো সাময়িক সময়ের জন্য। এই টেকনিকগুলো দিয়ে আপনি বেশি সময় ধরে কাজ করতে পারবেন না। কারণ ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করা ওয়েবসাইট বা ব্লগ সার্চ ইঞ্জিনগুলো পছন্দ করে না, তাই এগুলো নিষ্কাশন করে দেয়।

তবে আপনার ওয়েবসাইটে যদি ভাল কনটেন্ট থাকে, আপনি যদি ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করে ভিজিটর আনতে পারেন এবং সেই ভিজিটরকে ধরে রাখতে পারেন, তাহলে অবশ্যই ব্ল্যাক হ্যাট এসইও আপনার জন্য কার্যকর হবে।

• ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর টেকনিক সমূহ:
আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে অনেক ভাবেই ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করতে পারবেন। তবে কিছু জনপ্রিয় ব্ল্যাকহেড এসইও টেকনিক নিচে আলোচনা করা হলো-

১. কি-ওয়ার্ড স্টাফিং: কি-ওয়ার্ড স্টাফিং হলো এমন একটি টেকনিক, যেখানে একটি ওয়েবসাইটের এক বা একাধিক কিওয়ার্ড কে অযথা বারবার মেনশন করা হয়। এই ধরনের কিবোর্ড গুলো সাধারণত আর্টিকেল এর মধ্য, ওয়েবসাইটের পেইজ এর মধ্যে এবং বিভিন্ন কমেন্টের মধ্যে উল্লেখ করা হয়। এই ধরনের কিওয়ার্ড গুলো অযথাই ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়, বেশি ট্রাফিক পাওয়ার জন্য। কি-ওয়ার্ড স্টাফিং গুগল সার্চ ইঞ্জিন পছন্দ করেনা।

২. আনলিমিটেড মেটা ডিস্ক্রিপশন: আমরা কোন একটি আর্টিকেল লিখার পর সেটার ডিসক্রিপশন এ মূলত আর্টিকেল থেকে কোন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যবহার করি। কিন্তু আনলিমিটেড মেটা ডিস্ক্রিপশন এ এমন একটি ডিসক্রিপশন যুক্ত করা হয়, যেটা আর্টিকেল এর সাথে কোন সম্পর্ক নেই। ধরুন, আপনার আর্টিকেলটি চিকিৎসা সম্পর্কিত কিন্তু সেখানে ডিসক্রিপশন যুক্ত করা হলো অনলাইন ইনকাম সম্পর্কিত। মূলত এই ধরনের ডিসক্রিপশন হাই সার্চেবল কিওয়ার্ড দ্বারা তৈরি করা হয়, যাতে বেশি ট্রাফিক পাওয়া যায়। এই ধরনের ডিসক্রিপশন সার্চ ইঞ্জিন পছন্দ করেনা।

৩. ডোরওয়ে পেজ: এই ধরনের পেজ গুলো আপনার ওয়েবসাইটের সাথে কোন সম্পর্ক থাকে না। এই ধরনের পেজগুলো বিভিন্ন ধরনের কিওয়ার্ড রিসার্চ করে বেশি ট্রাফিক পাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়। বেশিরভাগ ওয়েবসাইট স্বল্প সময়ের জন্য এই ধরনের পেজ তৈরি করে। তারপরে তারা এই পেজ গুলো ডিলিট করে দেয়। এগুলোও সার্চ ইঞ্জিন পছন্দ করেনা।

৪. ডুবলিকেট কনটেন্ট: ডুবলিকেট কনটেন্ট প্রথা বর্তমানে অনেক বেশি জনপ্রিয়। এই টেকনিকে একটি ওয়েবসাইটের কোন একটি বা একাধিক রেংকিং পোস্টকে বারবার নতুনভাবে পোস্ট করা হয় অথবা কপি পেস্ট করা হয়। যাতে করে ওই ওয়েবসাইটে দ্রুত রেংক করে। তবে ডুবলিকেট কনটেন্ট টেকনিক মোটেই ওয়েবসাইটের জন্য ভালো নয়, কারণ এটি সার্চ ইঞ্জিন কখনোই পছন্দ করেনা।

৫. লিংক ফার্মিং: এই টেকনিকে নতুন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেই ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পোস্টে বা অন্য কোন উপায়ে, পুরনো ওয়েবসাইটের লিংককে অযথা বারবার মেনশন করা হয় বা হাইপারলিংক তৈরি করা হয়। বর্তমানে এই টেকনিক কি খুবই জনপ্রিয়, কারণ হচ্ছে এই টেকনিক এ ওয়েবসাইটের মালিক কে বেশি কষ্ট করতে হয়না। এটাও সার্চ ইঞ্জিন পছন্দ করেনা।

এছাড়া আরো অনেক উপায় ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করা হয়। আমি শুধুমাত্র কিছু জনপ্রিয় ব্ল্যাক হ্যাট এসইও টেকনিকগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম। আশা করি আজকের পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

আমার ফেসবুক প্রোফাইল

One thought on "ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কি? ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর টেকনিক সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন"

  1. 420 Contributor says:
    যখন এসইও শুরু করছেন এটা সম্পুর্ন শেষ করার চেষ্টা করবেন, কিভাবে ক্লাইন্টের কাজ করে দেওয়া হয় সেটাও দেখাইয়েন।

Leave a Reply