ক্রিপ্টোকারেন্সি বা গুপ্ত মুদ্রা কি?

ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে খুবই জনপ্রিয় একটি কারেন্সি। আমরা হয়তো অনেকেই এনাম শুনে থাকতে পারেন। কিন্তু এ বিষয়ে সঠিক তথ্য নাও জানতে পারে অনেকে। সুতরাং আজকে আমি ক্রিপ্টোকারেন্সি বা গুপ্তমুদ্রা
কি? এর কাজ ও ব্যবহার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে! সুতরাং কথা না বাড়িয়ে চলুন এবার আমরা মূল পয়েন্টে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসি।

প্রথমত আমাদের এটাই ধারণা থাকতে হবে যে, গুপ্তলিখনভিত্তিক ডিজিটাল ইলেকট্রনীয় মুদ্রা যার কোনও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা নেই। তবে এর ব্যবহার দিন দিন প্রচুর পরিমাণ বৃদ্ধি হয় অথচ আমরা অনেকেই এ বিষয়ে কোনো ধারণা রাখার চেষ্টাও করি না।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি?

ক্রিপ্টোকারেন্সিঃ গুপ্তমুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হল বাইনারি উপাত্তের একটি সংকলন যা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এর অস্তিত্ব শুধু ইন্টারনেট জগতেই বিদ্যমান। এটি ব্যবহার করে লেনদেন শুধু অনলাইনেই সম্ভব যার পুরো কার্যক্রম গুপ্তলিখন নামক একটি সুরক্ষিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ২০১৭ সাল থেকে এটি একটি উঠতি বাজারে পরিণত হয়েছে।

যদিও শুরুতে অর্থাৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে নতুন নতুন আসছে তার কোনো মূল্য পাওয়া যেত না। এবং অনেকের মাঝে ধারণা ছিল যে এটা বাজারে নিয়ে আসে কোন লাভ হবে না। কিন্তু আস্তে আস্তে ক্রিপ্টোকারেন্সি অনলাইন জগতের সবচেয়ে বড় একটি কারেন্সি হয়ে দাঁড়ালো। এবং দিন দিন এর চাহিদা এবং ব্যবহারের সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সিঃ লেনদেন করার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি অনলাইন জগতে সবচেয়ে সেরা একটি নেটওয়ার্ক। এমনকি প্রায় বেশিরভাগ সংস্থা প্রতিষ্ঠানগুলো এই কারেন্সি সাপোর্ট করে থাকে। এবং দিন দিন ক্রিপ্টো কারেন্সি অনলাইন জগতের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হওয়ার সম্ভাবনা দিনে দিনে প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি এর ইতিহাস?

ক্রিপ্টোকারেন্সি অনলাইন জগতে আমরা অনেকেই প্রচুর তিন বছর আগেই দেখে আসছি। তবে ক্রিপ্টোকারেন্সি গুপ্ত মুদ্রা এর ইতিহাস অনেকে আমরা জানি না। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই এই বর্তমান অনলাইন প্রযুক্তির যুগে ক্রিপ্টোকারেন্সি এর ইতিহাস জানা খুবই জরুরী। কারণ এই কারেন্সি সাধারণত অনলাইনে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় অন্যতম,

১৯৮৩ সালে মার্কিন গুপ্তলিখনবিদ ডেভিড চৌম গুপ্তলৈখিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল উপায়ে টাকা আদান প্রদানের বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন। যার নাম দেন ই-ক্যাশ। ১৯৯৫ সালে, তিনি ডিজিক্যাশের মাধ্যমে এটি একটি গুপ্তলৈখিক ইলেকট্রনীয় (বৈদ্যুতিন) মূল্য পরিশোধ ব্যবস্থার একটি প্রাথমিক রূপ বাস্তবায়নের দিকে এগুতে থাকেন।

এবং পরবর্তীতে সফটওয়ারে নির্দিষ্ট গুপ্তায়িত চাবিগুলি প্রবেশের পর প্রাপক প্রেরণকারীর অর্থ পান। তবে এই অর্থ কোনও রাষ্ট্রে পরিচালিত মুদ্রার (টাকা, ডলার, পাউন্ড, দিনার) মত নয়। সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন পয়েন্ট। তবে সাতোশি নাকামোতো (কোন ব্যক্তি বা গ্রুপ) সফলভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাবিহীন ডিজিটাল নকগদ অর্থে মূল্য পরিশোধ ব্যবস্থা চালু করেন, যা বিটকয়েন নামে পরিচিত।

বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে সকল লেনদেন এখন অনলাইনে হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর পরিমাণে দেখা যাচ্ছে। এখন থেকে কয়েকটি দেশে চালু হয়েছে শুধুমাত্র অনলাইনেই টাকার লেনদেন চলবে। হাতে হাতে টাকা-পয়সা আর থাকবে না শুধুমাত্র অনলাইনে মাধ্যমেই সব জায়গা থেকে টাকার লেনদেন করতে হবে।

বুঝতে পারছেন ক্রিপ্টোকারেন্সি যাতা জিনিস নয় এর বিষয়ে অনেক কারণ বিদ্যমান। অনলাইনের জগতে একটু কারেন্সির গুরুত্ব বর্তমান সময়ে প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেতে আছে । এমনকি অনেক জায়গায় লেনদেনের জন্য শুধুমাত্র অনলাইন কে প্রাধান্য দিয়ে, লেনদেন করার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি কে বেছে নিচ্ছে অনেকেই।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা গুপ্তমুদ্রার তালিকা

ক্রিপ্টোকারেন্সি এর তালিকা সারাবিশ্বে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। সাধারণত বর্তমান এই সারা পৃথিবীতে প্রায় হাজারেরও উপরে গুপ্তমুদ্রা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে__ • বিটকয়েন • ইথেরিয়াম • লাইটকয়েন • রিপল • মোনেরো • ড্যাশ • বাইটকয়েন • ডোজকয়েন ইত্যাদি।

যদিও অনলাইনে আরো অনেক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা গুপ্ত মুদ্রার তালিকা প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মানুষের ব্যবহৃত এবং বর্তমানে সবচেয়ে উপযোগী কারেন্সি গুলো নিয়েই আপনাদেরকে বলা হলো। উপরোক্ত কারেন্সির ভিতরে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বিটকয়েন সবার পূর্বসূরী ও সবচেয়ে পরিচিত। মূলত এর সফলতার কারণেই আরো প্রতিদ্বন্দ্বী গুপ্তমুদ্রার জন্ম হয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি এর পদ্ধতিঃ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা গুপ্তমুদ্রা যেহেতু অস্তিত্বহীন মুদ্রা। পিয়ার টু পিয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেরক থেকে সরাসরি প্রাপকের কাছে যায়। সেহেতু এর বিনিময় পদ্ধতিও আলাদা। যে কেউ চাইলেই কোন এক কারেন্সি তে ভেরিফাইড একাউন্ট তৈরি করে চালাতে পারে। তবে এ ধরনের কোন ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে অবশ্যই কমপক্ষে 18 বছর থাকতে হবে।

ওয়ালেট ক্রিপ্টোকারেন্সিঃ ওয়ালেট অনলাইন মানিব্যাগ। যা অনলাইন ও অফলাইন, এই দুই ধরনের হয়। এই ওয়ালেট থেকে প্রেরণকারী অর্থ পাঠাতে পারে। আর গ্রহণকারী নিজের ওয়ালেটে ভর্তে পারে। প্রতিটি ওয়ালেটের এক একটি নিদির্ষ্ট এনক্রিপ্টেড ঠিকানা থাকে।

যদিও এটি একদিকে সুবিধা হলেও অন্যদিকে আর একটু অসুবিধা হয় বটে। তার কারণ এই কারেন্সি টাকায় রূপান্তর অন করে হাতে নেওয়া যাবে না আর কয়েক বছরের মধ্যে। 5 থেকে 10 বছরের ভিতর কাগজের আর কোন টাকা থাকবে না মনে হয়। সকল লেনদেন অনলাইনের মাধ্যমে করা হবে বলে জানা যায়।

ব্লকচেইন ক্রিপ্টোকারেন্সিঃ এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানায় ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠাতে তা এনক্রিপটেড লেজার বা উন্মুক্ত খতিয়ানে রেকর্ড হয়ে যায়। যাকে ব্লকচেইন বলে। এখানে জমা থাকা তথ্য পৃথিবী যে কোন স্থান থেকে দেখা সম্ভব। এই কারেন্সি বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল দেশেই চালানো সম্ভব। এমনকি আপনি চাইলেই বাংলাদেশ থেকেও এই ব্লকচেইন ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি ভেরিফাইড একাউন্ট তৈরি করে চালাতে পারবেন। তবে অবশ্যই তাদের প্রতিষ্ঠান গাইডলাইন মেনে আপনাকে একাউন্টে টিকিয়ে রাখতে হবে।

খনন ক্রিপ্টোকারেন্সিঃ ব্লকচেইনে লিপিবদ্ধ প্রতিটি লেনদেনের বৈধতা নির্ণয়করণকে বলা হয় খনন (মাইনিং)। আর এ কাজ যারা করেন তাদেরকে বলা হয় খননকারী (মাইনার)। ফলে কোনও ধরনের প্রতারণার সম্ভাবনা থাকে না। পরিচয় গোপন থাকে উভয় পক্ষেরই। অনলাইনে হয়তো অনেকেই মাইনিং এর কথা শুনেছেন,,, তাছাড়া অনেক প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র মাইনিং করে কিছু পরিমাণ ডলার দিয়ে থাকে।

আস্তে আস্তে আপনারা এই প্রতিষ্ঠান গুলোর মাধ্যমে মাইনিং করে মোটামুটি ভালই আর্নিং করতে সক্ষম হবেন। মাইনিং করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটি খনন ক্রিপ্টোকারেন্সি নামে পরিচিত। আপনারা এই সম্পর্কে ইউটিউবে কিংবা গুগলে আরো অনেক মাইনিং সাইট পেয়ে যাবেন। বিশ্বস্ত কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ইচ্ছামত মাইনিং করে মোটামুটি প্রতিদিন বেশ ভালই আর্নিং করতে পারেন।

অপব্যবহার ক্রিপ্টোকারেন্সিঃ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা গুপ্তমুদ্রা সংরক্ষণের জন্য কোন সংরক্ষণাগার নেই। তাই ব্যাকআপ না থাকলে কম্পিউটার ক্রাশের মাধ্যমে মুছে যেতে পারে তথ্য উপাত্ত। হ্যাকিং ও ম্যালওয়্যার আক্রমণের হুমকিও রয়েছে। রয়েছে ডিজিটাল অর্থ চুরির আশংকাও। ৩৪ বছরের ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি চুরির শিকার হয়েছে বিটকয়েন।

আরো অন্যান্য কারেন্সি এর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অনেক সময় পাওয়া যায়। নিজের একাউন্ট নিজে টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব এর মত হয়ে গিয়েছে অনেকের কাছে। প্রায় 10 থেকে 20 বছরের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি অপব্যবহার প্রচুর পরিমাণে হয়েছে। তবে কিছু বছরের ভিতর আশা করা যায় এই জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি আরো কঠোর হবে। যেহেতু অনলাইনে তার জনপ্রিয়তা দিনে দিনে খুশির পরিমাণে বৃদ্ধি হচ্ছে এ কারণে এই ক্রিপ্টোকারেন্সি ঝুঁকিপূর্ণ থাকবেনা আশা করা যায়।

জনপ্রিয়তা ক্রিপ্টোকারেন্সিঃ বিশ্বের বহুদেশে অনলাইন বিকিকিনির জন্য গুপ্তমুদ্রা বেশ জনপ্রিয়। উইকিপিডিয়া, ওয়ার্ডপ্রেস, মাইক্রোসফটের মত প্রায় ৩০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান গুপ্তমুদ্রা গ্রহণ করে। শুধু মাত্র এগুলোই নয় আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে এই ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণ করে থাকে। আপনারা একটু গুগলে কিংবা ইউটিউব এ বিষয়ে অনুসন্ধান করলে আরও অনেক তথ্য জানতে পারবেন এ বিষয়ে।

এই আর্টিকেলটি সর্বপ্রথম এই ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা হয় ShopTips24.Com

প্রিয় বন্ধুগণ আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ নির্ভুল সঠিক তথ্য দিয়ে আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তাই আশা করব কেউ বাজে বা খারাপ কোন মন্তব্য কমেন্ট করবেন না। এ ধরণের আরো নতুন নতুন খবর খবর প্রয়োজনীয় আর্টিকেলটিতে এই ওয়েবসাইটের পাশেই থাকবেন। আশা করি পরবর্তীতে আরো ভালো ভালো আর্টিকেল আপনাদেরকে উপহার দিতে পারব। ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন আর্টিকেলটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply