হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে আমিও ভালো আছি। আজকের টপিকস এ আপনাদের সামনে আলোচনা করবো Motivation স্পিচ কি সত্যিই আমাদের Lifestyle এ দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রভাব ফেলে এই সম্পর্কে।
অবশ্যই মন দিয়ে ধৈর্য ধরে পোস্ট টা পড়বেন। এতে আপনার ই লাভ হবে।


আমরা এখন কমবেশি সকলেই মোটিভেশন স্পিচ শুনি।এবং এই বিষয়টি নিয়ে আমরা এক একজন এক একরকম ধারনাও পোষণ করি।

একটা সময় ছিল যখন আমি সত্যিই খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম।আমি বুঝে উঠতেই পাচ্ছিলাম যে, আমি জীবনে কি করব।একটার পর একটা চাকরির পরীক্ষায় আমি ব্যর্থ হচ্ছি, ব্যক্তিগত জীবন নানা সমস্যায় জর্জরিত।আমি তখন খুব অসহায় বোধ করতাম।

মনে মনে কিছু একটা খুঁজছিলাম, আমি চাকরি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম কিন্তু আমি মন থেকে চাকরি করতে চাইছিলাম না, তবে আমি যে কি চাই সেটাও বুঝতে পারছিলাম না।ফলে অনেক টা সময় আমার নষ্ট হল।

অবশেষে আমি নিজেকে আবিষ্কার করতে পারলাম একটি মোটিভেশন ভিডিও র মাধ্যমে।তখন আমি পাগলের মতো কিছু একটা খুঁজছিলাম । ওখানে বলা কিছু কথা আমার নিজেকে বুঝতে সাহায্য করেছিল। আমি খুঁজতে সক্ষম হলাম আসলে আমি জীবনে কি চাই।

প্রথমেই আমি নিজের মধ্যে থাকা বদ অভ্যাস গুলো পরিবর্তন করতে লাগলাম।যেমন সকালে ঘুম থেকে ওঠা,ঠিক সময়ে খাওয়া।শরীর চর্চা টা আমি অনেক আগের থেকেই করতাম, কিন্তু এবার এখানেও আরও কিছু পরিবর্তন আনলাম।

এবার শুরু হলো আমার নিজেকে প্রশ্ন করা, আমার জীবনের ইচ্ছা টা কি? কি হতে চাই আমি? আমি নিজেকে কোথায় দাঁড় করাতে চাই?

এক এক করে আমি আমার সব প্রশ্নের উত্তর পেতে থাকলাম।আমি এবার নিজেকে সাজাতে শুরু করলাম।খাতা কলম নিয়ে বসে পড়লাম, একটা একটা করে জীবনে কী কী করতে চাই সব কিছুই লিখলাম।

সঙ্গে চলছে মোটিভেশন মূলক ভিডিও দেখা।এবং বই পড়া।নিজেকে তৈরি করতে গেলে বই কে সর্বক্ষণের সঙ্গী করতে হবে।

আমি আজ যেটুকু জীবনে এগিয়ে যেতে পেরেছি বা পারছি সব টাই মোটিভেশন ভিডিও র দৌলতে।আর সঙ্গে আমার মায়ের অফুরন্ত উত্সাহ।ঐ মানুষ টা আমার প্রয়োজন বুঝে, একটার পর একটা বই হাতে তুলে দিয়েছে। মায়ের তুলনা অন্য কারো সাথে হয় না। মা তো মা ই।

না, আমি ছোটবেলা থেকে জীবন নিয়ে কিছুই ভাবিনি।তেমন পরিবেশ পরিস্থিতি ছিলো না। তাই আমার জীবনের সব পরিকল্পনা কিছু বছর আগে থেকে শুরু করেছি।

অনেকেই বলে মোটিভেশন স্পিচ এ কোন কাজ হয় না।ওটা স্রেফ সময় নষ্ট।কিন্তু আমি নিজে এতেই উপকৃত।

তবে মোটিভেশন স্পিচ শুনতে হবে এমন মানুষের যাঁরা নিজেরা জীবনে অনেক কঠিন সংগ্রাম করে আজ একটা সাফল্য মণ্ডিত জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছেন।এতে করে উত্সাহ টা বেশি পাওয়া যায়।আমি বিখ্যাত বিখ্যাত কয়েকটি মানুষকে প্রতিদিন অনুসরণ করি।যে সমস্ত মানুষ গুলো আমার জীবন আলোকিত করতে সাহায্য করেছেন তাঁদের প্রতি আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।

মোটিভেশন স্পিচ আপনার জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাব ফেলবে কি ফেলবে না সেটা নির্ভর করে সম্পন্ন আপনার উপর।আপনি কতটা বিশ্বাস করেন তার উপর নির্ভর করবে প্রেরণা।

আমি এখন আমার পরিচিত কিছু মানুষের মনের ভুল ধারণা,জীবন সম্পর্কে সচেতন না হওয়া বিষয় গুলো কে পয়েন্ট টু পয়েন্ট বোঝানোর চেষ্টা করি।তাঁদের আত্মবিশ্বাস যাতে বাড়ে তেমন প্রেরণা দেওয়ার চেষ্টা করি।কিন্তু এটা বুঝতে পারি আমার কথায় কোন কাজ দিচ্ছে না । সে নিজেকে একটু ও পাল্টাচ্ছে না।

তা বিষয় টা নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি, তাঁর পর বুঝতে পেরেছি যে, আসলে আমি যাঁকে বুঝাচ্ছি সে যতক্ষণ না নিজে নিজেকে অনুপ্রাণিত করবে ,যতক্ষণ না আমার কথা গুলো নেওয়ার জন্য তৈরি হবে ততক্ষণ এ সব কথার কোনও মূল্য নেই।

যদি মূল্য থাকত তাহলে তো যে কেউ কোনও একটা মোটিভেশন ভিডিও দেখত বা স্পিচ শুনত আর নিজেকে পুরোপুরি পাল্টে ফেলতে সক্ষম হতো।তাহলে প্রতিটা মানুষই জীবনে যা চাইত তাই পেত।আসলে মোটিভেশন স্পিচ শোনার জন্য আগে নিজেকে তৈরি করতে হবে।আমি এতে উপকৃত হবো এই মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

আমি মনে করি মোটিভেশন এর সঙ্গে মেডিটেশন এর একটা যোগসূত্র রয়েছে।আপনি যদি কোনও সমতল পাত্রে জল ঢালেন তাহলে কি হবে? জল কি সমতল পাত্রে দাঁড়ায়? দাঁড়ায় না তো, মেডিটেশন ছাড়া মোটিভেশন সমতল পাত্রের মতো, মেডিটেশন এর মাধ্যমে মন কে গভীর করা সম্ভব হয়।ফলে মোটিভেশন সহজেই সেখানে একটা জায়গায় দখল করতে পারে।


আসলে আপনি যা বিশ্বাস করেন সেই জিনিস টাই আপনাকে অনুপ্রাণিত করে।আপনাকে কোন জিনিস টি অনুপ্রাণিত করে সেটা আগে খুঁজে বার করতে হবে, তার মধ্যে থাকবে একটি সূত্র যার জোরে আপনি অসাধ্য সাধন করতে পারবেন।মানুষ অনন্ত শক্তির আঁধার, মানুষ পারে না এমন কোন কাজ এই পৃথিবীতে নেই।মানুষ যেটা পারে না ,সেটা হলো ধৈর্য্য ধরতে।

বেশির ভাগ মানুষ ই প্রচণ্ড অস্থির, মানুষ অপেক্ষা করতে ভালোবাসে না, যেটা চাইছে ভাবে এখুনি যদি সেটা পেয়ে যেতাম।কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়, ফলে জীবনে ব্যর্থতা নেমে আসে।

একটা গাছের চারা লাগালে সেই গাছ টা বড় হতে কতটা সময় লাগে বলুন তো। জীবন ও তো ঠিক এমন, একদিনে মানুষ যদি জীবনে সব কিছু পেয়ে যায় তাহলে সেই পাওয়া তে কোন মোহব্বত থাকে না।

মোটিভেশন স্পিচ হচ্ছে আপনাকে পথ চলতে সহায়তা করবে, কিন্তু চলতে কিন্তু হবে আপনাকেই।নিজের প্রতি বিশ্বাস না থাকলে কোনও প্রেরণা ই কাজ দেয় না।তবে আপনি যদি চান তাহলে এই বিশ্বাস আনতে আপনাকে সাহায্য করবে এই মোটিভেশন স্পিচ।

এইচ ডব্লু বীচার বলেছেন ——


‘একটি বেলুন যেমন গ্যাস ছাড়া উড়তে পারে না,একটি নৌকা যেমন হাল ছাড়া চলতে পারে না,ঠিক তেমনি প্রেরণা ব্যতিরেকে মানুষ কোনও কাজ করতে পারে না।’

আপনার বিশ্বাসের মুলে কতটা অনুপ্রেরণা আছে? আপনার অনুপ্রেরণা তো আপনি নিজে। আর এর সঙ্গে আমি মনে করি সব থেকে বড় মোটিভেশন পাওয়া যায়, বাবা মায়ের মুখের দিকে তাকালে।আমাদের প্রতি তাঁদের কত আশা।আমরা পারি তাঁদের শেষ জীবন টা যাতে শান্তি তে কাটে সেই ব্যবস্থা করতে।কারণ আমরা ভালো থাকলে সবথেকে বেশি শান্তি ঐ মানুষ দুটিই পায়।

তাবে প্রেরণা পেতে আপনাকে অন্যের উপর নির্ভরশীল হতেই হবে তা কিন্তু নয়, তবে নিজের উপর বিশ্বাস রেখে আপনি এগিয়ে চলুন, নিজেই হয়ে উঠুন নিজের প্রেরণা।আসলে সবার তো এক ওষুধ তে কাজ দেয় না।রোগ বুঝে ওষুধ খেলে তবেই তো অসুখ সারবে।

ধন্যবাদ।ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন😊

13 thoughts on "Motivation স্পিচ কি সত্যিই আমাদের Lifestyle এ দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রভাব ফেলে"

    1. Jibon Krishna Das Contributor Post Creator says:
      Thanks 👍
  1. Sk Shipon Author says:
    অনেক ভাল লিখেছেন। ভাল লাগলো,আরো চাই এমন পোস্ট।
    1. Jibon Krishna Das Contributor Post Creator says:
      Thanks for your opinion ☺️
  2. MD Shakib Hasan Author says:
    Good ভালো লাগছে ব্রো
    1. Jibon Krishna Das Contributor Post Creator says:
      Thanks for your feedback ☺️
    2. MD Shakib Hasan Author says:
      ওয়েলকাম
  3. MD Musabbir Kabir Ovi Author says:
    মোটিভেশন speach আমাদের শুধু অনুপ্রেরনা যোগায়,, তবে সেটা ক্ষণস্থায়ী এটা আমরা কিছুক্ষন পরেই ভুলে যায়
    1. Jibon Krishna Das Contributor Post Creator says:
      Nijer upor diffend kore
    2. MD Musabbir Kabir Ovi Author says:
      এটা ঠিক
  4. Nishan khan Author says:
    Thanks!
    Viya ki dhoroner book porten? Sugest these type of book!
    1. Jibon Krishna Das Contributor Post Creator says:
      অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ” আমাকে সময় নিয়ে নতুন করে ভাবিয়েছে।

Leave a Reply