ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কে অনেকেই শুনেছেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বর্তমানে খুব জনপ্রিয় একটি প্রযুক্তি। বিভিন্ন এ্যানিমেশন থেকে শুরু করে মুভি এবং ভিডিও গেমেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।

আসুন তাহলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি…

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual Reality) কি?
Virtual Reality শব্দের অর্থ হলো সামনের বাস্তবতা। এটিকে এক ধরনের বাস্তবিক অনুকরণ ও বলা যেতে পারে।

এটি 3D এবং 5D প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম্পিউটারের মাধ্যমে এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেটা আপনি ফিজিক্যালি এবং মেন্টালি দুইভাবেই অনুভব করতে।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রকারভেদ:
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত ৫ প্রকার, যেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন কাল্পনিক জগত তৈরি করার জন্য।

Fully Immersive:
সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল জগতকে রিয়েলেস্টিক বাস্তবমুখী করার জন্য ফুললি ইমার্সিভ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল জগত তৈরি করলে, আপনি মনে করবেন আপনি অন্য একটি জগত রয়েছেন।

Semi Immersive:
কোন একটি ভার্চুয়াল জগতকে আংশিক রিয়েলিস্টিক বাস্তবমুখী করার জন্য সেমি ইমার্সিভ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

এই প্রযুক্তি বেশিরভাগ বিভিন্ন ভিডিও গেমে ব্যবহৃত হয়।

Non Immersive:

কোন ভার্চুয়াল জগতকে তৈরি করা হবে, কিন্তু সেটা বাস্তব মুখী হবে না। এই ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কে নন-ইমার্সিভ প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা হয়।

বিভিন্ন ধরনের কার্টুন এবং ভিডিও গেম তৈরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।

Augmented Reality:
অগমেন্টেড রিয়েলিটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির এমন একটি প্রকার যেখানে বিভিন্ন ক্যারেক্টার আপনার মনে হবে আপনার রুমের মধ্যে আছে, কিন্তু সত্যিকারে সেটা আপনার সাথে থাকবে না।

উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন হোম ডেকোরেটররা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনার বাসা কেমন হবে সেটা দেখাতে পারবে। যেমন আপনার ঘরের কোন স্থানে শোবার খাট রাখলে সেটা সুন্দর লাগবে, তিনি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাকে অনুধাবন করাতে পারবেন।

Collaborative VR:
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির এই ভাগে একটি নতুন জগৎ তৈরি হয়ে যায়। যেখানে আপনি এবং অন্যান্য ব্যক্তিরা একই সাথে কথাবার্তা এবং কার্টুন ক্যারেক্টার এর মাধ্যমে দেখাও করতে পারে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ভাগটি অনেক উন্নত। (যেমন: পাবজি ও ফ্রী ফায়ার গেম)

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি কি কাজে ব্যবহৃত হয়:
১. মেডিকেল প্রশিক্ষণ এবং প্র্যাকটিসে
২. সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং ট্রেনিং
৩. ভিডিও গেমে
৪. ইন্টারটেইনমেন্ট এর ক্ষেত্রে (যেমন: মুভি)
৫. ড্রাইভিং শেখার ক্ষেত্রে (ইত্যাদি)

এছাড়া আরো অনেক কাজে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সুবিধা:
১. শিক্ষা এবং বিভিন্ন ট্রেনিং এর ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার ফলে এক স্থানে কাজ অন্য স্থানে বসে করা যাচ্ছে। ট্রেনিং এবং প্রশিক্ষণের সময় আপনি সুরক্ষিত থাকবেন।
২. ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে একটি কাল্পনিক জগৎ তৈরি হওয়ার ফলে, আমরা সেই জগতকে অনুধাবন করতে পারি।
৩. আধুনিক গেমিং এর ক্ষেত্রে আপনি বাস্তবতার ছোঁয়া দিতে পারছেন।

৪. বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অনেক বেশি ব্যবহৃত হয়।

আশা করি আজকের পোস্ট এর মাধ্যমে আপনারা কিছু জানতে পেরেছেন।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

 

গুগোলে ব্লগ বা আর্টিকেল রেঙ্ক করানোর উপায়

ই-সিম (Embedded Sim) কি? ই-সিম এর সুবিধা এবং অসুবিধা

Leave a Reply