প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিস্তীর্ণ রূপ নিয়ে বেষ্টিত আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। ১২০ কিলোমিটারের সমুদ্র সৈকতকে ঘিরে রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় স্থানের কারণে প্রতি বছর কক্সবাজারে ছুটে আসেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক।

বিশ্বের বৃহত্তম এই সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজার শহর একটানা ১২০ কি.মি. দক্ষিণে বদরমোকাম পর্যন্ত বিস্তৃত। বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি আর গর্জনের মনোমুগ্ধকর আওয়াজ সমুদ্র সৈকতের পরিবেশকে মনোরম করে তুলে। সৈকতের পাশেই রয়েছে সারি সারি ঝাউবন, পাহাড়, ঝর্ণা, বালুর নরম বিছানা। সৈকতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে ভোরের সূর্যদয় এবং সূর্যাস্তের বর্ণিল দৃশ্য দেখা। এ সময়টাতে অনেকেই আবার ছবি তুলতে পছন্দ করে। সৈকতের সাথেই রয়েছে সারি বদ্ধভাবে সাজানো বিভিন্ন রং এর চেয়ার ছাতা গুলো। এখানে বসে পর্যটকরা সাগরের সতেজ বাতাস অনুভব করতে পারবেন। সত্যিই অসম্ভব ভালো লাগবে এ মুহূর্তটি।

আপনার ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করবে মেরিন ড্রাইভ । বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মেরিন ড্রাইভ রাস্তা। এটি প্রায় ৭০ কিঃমি পযন্ত লম্বা । মেরিন ড্রাইভ আপনার কক্সবাজার ভ্রমণকে আরও সুন্দর করবে। সকালে যখন ভ্রমণে বের হবেন তখন দেখবেন একপাশে সাগরের কলতান আর সতেজ বাতাস যা আপনাকে এক অন্যরকম অনুভুতিতে নিয়ে যাবে।

বিচ পয়েন্ট গুলো সম্পর্কে জেনে নিই

কলাতলী পয়েন্ট

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের একটি প্রধান অংশ হচ্ছে কলাতলী পয়েন্ট যা কক্সবাজার শহরের ডলফিনের মোড়ের দিকে অবস্থিত। অনেক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কলাতলীর আশেপাশে অবস্থিত।

সুগন্ধা পয়েন্ট

সুগন্ধা পয়েন্ট কলাতলী পয়েন্ট থেকে দূরে উত্তর দিকে অবস্থিত । এখানে অবস্থিত জনপ্রিয় বার্মিজ মার্কেট। অতীতে এখানে অনেক সামুদ্রিক-মাছের তৈরি খাবারের রেস্টুরেন্ট ছিলো কিন্তু সরকার পরে সেগুলো উচ্ছেদ করে।

লাবনী পয়েন্ট

কক্সবাজার সৈকতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হচ্ছে লাবনী পয়েন্ট। পর্যটকরা মূলত এ পয়েন্টে ভিড় করে থাকে। লাবনী পয়েন্ট সাঁতার কাটা, জগিং, সাইকেলিং ও সার্ফিং জন্য জনপ্রিয় স্থান।

দরিয়ানগর সৈকত

দরিয়ানগর সৈকত অবস্থিত হিমছড়ি জাতীয় পার্কের কাছে। দরিয়ানগর সৈকতের আরেকটি আকর্ষণ হচ্ছে এর মধ্য দিয়ে জলপথ প্রবাহিত হয়ে থাকে।

হিমছড়ি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহারে ঘেরা আরেকটি বিচ হচ্ছে হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্র। এটি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থিত। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এ সমুদ্র সৈকতের নাম হিমছড়ি। এখানকার সমুদ্র সৈকতটি  অপেক্ষাকৃত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও নির্জন। এর সৌন্দর্য অত্যাধিক সুন্দর ।

ইনানী সৈকত

ইনানী সৈকতটি প্রায় ১৮ লম্বা। এটি কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় অবস্থিত। ইনানী সৈকতটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কি.মি দক্ষিণে অবস্থিত। এই সৈকতে রয়েছে সবুজ ও কালো বর্ণের অনেক প্রবাল পাথর।

কক্সবাজার যা যা করবেন

প্যরাসেইলিং

প্যারাসেইলিং উঠে আপনি আকাশ থেকে সমুদ্র ও পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে পারবেন। কক্সবাজার ও হিমছড়িতে প্যারাসেইলিং উপভোগ করতে পারবেন।

স্পিডবোট

বিচে কিছু স্পিডবোট চলে যা অন্যতম আকর্ষণ সৈকতের। স্পিডবোট  গুলো  চলাচল করে মেইন বিচ থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত। এত খরচ হবে এক রাউন্ড ১০০ টাকা।

বিচ বাইক

পর্যটকদের জন্য উপভোগের কিছু বিচ বাইক কক্সবাজার সাগর সৈকতে রয়েছে। এগুলোতে ১ কিলোমিটার দূরত্বে রাউন্ড প্রতি খরচ হবে ৫০ টাকা করে ।

বিচ ফটোগ্রাফি

কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুমে অনেক বিচ ফটোগ্রাফার পর্যটকদের ছবি তুলে থাকে। যারা ছবি তুলতে আগ্রহী তাদের জন্য দারুন একটা জায়গা এটি ।

মুক্ত হাঁটা

সৈকতে অনেকেই হাঁটতে পছন্দ করে। সৈকতের নিরব পরিবেশ এবং সতেজ বাতাসে লম্বা সময় হাঁটলে আপনার মনকে সহজেই রিফ্রেশ করবে।

সাঁতার কাটা

সাগরের সবচেয়ে  রোমাঞ্চকর বিষয় হচ্ছে সাঁতার কাটা । প্রথমে চোখে একটু লবণাক্ত পানির অনুভুতি হয় । কিন্তু অল্পকিছু সময়ের মধ্যে সেটা আর ঠিক হয়ে যায়। ঢেউয়ের সাথে সাথে আপনার সাঁতার কাটতে দারুন লাগবে।

কক্সবাজার ভ্রমণের সেরা সময়

কক্সবাজারের ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। এ সময়টায় বৃষ্টি কম হওয়ায় এবং গরম কম থাকায় পর্যটকদের ভীড় বেশি থাকে। এই সময়টাকে পিক সিজন বলে থাকে। তাই এ সময়ে ভ্রমণের যেতে চাইলে যাওয়ার আগে আপনার কাঙ্ক্ষিত হোটেলে বুকিং দেওয়াটা ভাল হবে।

তবে অফ সিজনে হোটেল খরচ তুলনামুলক কম থাকে। কারণ পর্যটক সমাগম কম থাকে । যারা জনসমাগম এড়িয়ে চলতে চায় তাদের জন্য পারফেক্ট সময় হল অফ সিজন।

কিভাবে যাবেন?

বাংলাদেশের প্রায় সব জেলা থেকেই কক্সবাজারে বাস চলাচল করে থাকে । তবে আপনার চাইলে ঢাকা থেকেও যেতে পারেন । প্রতিদিন ঢাকার শ্যামলি, কল্যাণপুর ছাড়াও অসংখ্য জায়গা থেকে কক্সবাজার রোডে বাস চলাচল করে থাকে। কমলাপুর থেকে ট্রেনে চট্রগ্রাম পযন্ত যেতে পাববেন । এরপর সেখান থেকে বাসে যেতে পারবেন। অথবা ঢাকা থেকে বিমান করেও সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

কক্সবাজারে রয়েছে পর্যটকের জন্য সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ। এখানে আন্তর্জাতিক মানেরও বেশ কিছু হোটেল রয়েছে । তাই পিক সিজনে ভ্রমণে গেলে আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখা ভাল । অনেক সময় আবাসন সম্যাসা হতে পারে । বিশেষ করে বিভিন্ন জাতীয় উৎসবের সময় ।

সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও অন্যান্য তথ্য

পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সমুদ্রে নামার আগে অবশ্যই জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন। এ সম্পর্কিত নির্দেশনাসহ কয়েকটি সাইনবোর্ড ও পতাকা রয়েছে বিচের বিভিন্ন স্থানে। জোয়ারের সময় সমুদ্রে গোসলে নামা নিরাপদ। এ সময় তাই জোয়ারের সময় নির্দেশিত থাকে, পাশাপাশি সবুজ পতাকা ওড়ানো হয়।

 

Article source: WebPedia Online

4 thoughts on "কক্সবাজার পরিচিতি: কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন"

  1. Romantic... Romantik... Contributor says:
    Please make a post about, how to make a relation with a beautifull girl for long time!
    Bujechen?


  2. Romantic... Romantik... Contributor says:
    coxbazar already jaoya hoye geche. But, apsos, holo aka aka jaoya lagce, tai vabche, next time gele gf loiya jabo. Tai, apnake akta post korte bolche.bujlen?
  3. Rahim Rahim Contributor says:
    Nice post
  4. Shrabon Chowdhury Shayan Contributor says:
    সরি ভাইয়া অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট করার জন্য তবে আপনার সোর্স সাইট’টি খুবই Vulnerable এটি দ্রুতই Develop করুন নইলে হ্যাকার হানা দিতে পারে।
    হিনটস হিসেবে কিছু ইনফরমেশন দিচ্ছি যাতে কোথায় আসল সমস্যা তা বুঝতে পারেন:
    এডমিন ইউজারনেইম: webpedia_admin
    পাসওয়ার্ড বলছি না তবে ******************** দেখে নিশ্চয়ই লেন্থ অনুমান করতে পেরেছেন।
    webpedia_online_db_new ডাটাবেইজটি হতে ডাটা ব্যাকআপ রেখে পুনরায় সাইট’টি ডেভোলপ করা যেতে পারে।

    আর্টিকেলটি ভালো ছিলো, ধন্যবাদ

Leave a Reply