সেই দিনগুলোর কথা মনে আছে, যখন আপনার ইন্টারনেট কানেক্টেড থাকতো টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে? ডায়াল আপের সেই শব্দের কথা মনে আছে, যা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতো? যাই হোক, আমরা এখন ডায়াল আপের সেই যুগ থেকে অনেকটা এগিয়ে এসেছি। এটাও হতে পারে এই মুহূর্তে আপনি এই লেখাটিও পড়ছেন ওয়াই-ফাই এর মাধ্যমে। তাহলে আমরা কিভাবে ডায়াল আপের সেই যুগ থেকে এখানে এলাম? চলুন উঠে পড়ুন আমার টাইম ম্যাশিনে আর আমি আপনাদের দেখাই কিভাবে এলো এই ওয়াই-ফাই আর কিভাবেই বা তা কাজ করে।

ওয়াই-ফাই এর প্রথম যুগ শুরু হয় ১৯৪০ সালে যখন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রি ও আবিষ্কারক, হেডি লেমার রেডিও সিগন্যাল প্রতিরোধ করার উপায় বের করেন। সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিলো, তারপর থেকে রেডিও কন্ট্রোল টর্পেডোগুলোকে সহজেই তাদের গতিপথ থেকে সরানো যেতো, যা নেভি সাবমেরিনগুলোর জন্য বিরাট সমস্যার সৃষ্টি করে। এই সমস্যা প্রতিরোধে তারা ফ্রিকুয়েন্সি-হোপিং-সিগান্যালের অসাধারণ আইডিয়া পান, যেখানে যারা তা কন্ট্রোল করবে তারা সহজেই এক ফ্রিকুয়েন্সি থেকে অন্য ফ্রিকুয়েন্সিতে সরে যেতে পারবে যাতে করে তারা তাদের টর্পেডো গুলো রেডিও সিগন্যাল প্রতিরোধকের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে এবং তাদের লক্ষ্যে আবিষ্ট থাকে।

ছবি: হেডি লেমার
যাই হোক, এখন চলে যাওয়া যাক ১৯৮০ র দশকে। এটা সেই সময় যখন কম্পিউটার আমাদের জীবনযাত্রায় ঢুকতে শুরু করেছে। কিন্তু সেই সময়ে কম্পিউটার ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকতো সাধারণ ইথ্যারনেট ক্যাবল দিয়ে। আমার মনে হয় সে সময় বিজ্ঞানিরা ক্যাবলের প্যাঁচে অতিষ্ট হয়ে পরেন এবং তারা রেডিও সিগনালের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদানের উপায় বের করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেই সময় তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়, যেহেতু রেডিও সিগন্যাল দেয়াল, ফার্নিচার এবং প্রায় সব কিছুর মাঝেই বাধাগ্রস্ত হয়। কিন্তু সে সময় বিজ্ঞানিরা জানতেন না যে মাত্র এক দশকের মধ্যেই এই বিরাট সমস্যার সমাধান বের হবে যখন পার্সোনাল কম্পিউটারও আবিষ্কার হয়নি। এসব কিছুর শুরু হয় ১৯৭০ এর দশকে ইলেক্টিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ডক্টর জন ও’সুলিভান, যিনি ‘ওয়াইফাই এর জনক’ হিসেবে পরিচিত। সেই সময়ে সে এবং তার টিম চেষ্টা করছিলেন রেডিও সিগন্যালের মধ্যমে ব্লাকহোল ডিটেক্ট করার। এতে করে তারা ফার্স্ট ফোরিয়ার ট্রান্সফর্ম নামের একটি জটিল সমীকরণ আবিষ্কার করেন। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তারা ব্লাকহোল ডিটেক্ট করতে পারেননি এবং তাদের সব রিসার্চ পেপার ও যন্ত্রপাতি তালাবদ্ধ করে দেন।

ছবি: ডক্টর ও’সুলিভান
আশ্চর্যজনকভাবে বিশ বছর পর ডক্টর ও’সুলিভান ও তার সহকর্মীরা ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং এর ক্ষেতে সেই ফার্স্ট ফোরিয়ার সমীকরণকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন, যা ওয়াই-ফাই আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বহু গবেষনা করে তারা তাদের সমীকরণকে একটি ডেটা সমীকরণের সাথে যোগ করেন, যেটি তারা পূর্বে রেডিও সিগন্যালের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন। এতে করেই তারা ওয়াই-ফাই এর ভিত্তি আবিষ্কার করে ফেলেন যার সম্পর্কে আমরা আজ সবাই জানি আর যেটি ছাড়া একদিনও চলা কঠিন। কিন্তু এটি ছিলো শুধুই মূল ভিত্তি। ১৯৯৬ সালে তারা তাদের প্যাটেন্ট এর আরো ডেভেলপমেন্টে হাত দেন এবং ১৯৯৭ এ তারা অবশেষে তারা 802.11 Protocol কোড ক্র‍্যাক করতে সক্ষম হোন।


ছবি: ফার্স্ট ফোরিয়ার ট্রান্সফম সমীকরণ
আজকের মতো এ পর্যন্তই। শ্রীঘ্রই পেয়ে যাবেন পরবর্তি পর্ব। লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

 

★দ্বিতীয় পর্ব ★

★তৃতীয় পর্ব★

★চতুর্থ ও শেষ পর্ব★

7 thoughts on "ওয়াই-ফাই এর সূচনা ও কার্যপদ্ধতি (পর্ব-১)"

  1. Ajman Shah Ajman Shah Contributor says:
    সুন্দর পোস্ট।


    1. Tanvir Tanvir Author Post Creator says:
      ধন্যবাদ
    1. Tanvir Tanvir Author Post Creator says:
      Thanks
  2. rex boy rex boy Contributor says:
    chaliye jan.
  3. Shahed Noor Shahed Noor Contributor says:
    Pore vhalo laglo..thanks for giving this information😀
    1. Tanvir Tanvir Author Post Creator says:
      you are most welcome

Leave a Reply