আসুন এখন কথা বলি ওয়াই-ফাই এর নাম কেন ওয়াই-ফাই সে বিষয়ে। কী বুঝায় আসলে ওয়াই-ফাই দিয়ে?
আমি ভাবতাম ওয়াই-ফাই শব্দটি হয়তো কোনো টেলনিক্যাল শব্দকে সংক্ষিত করে গঠন করা হয়েছে। তবে সত্যি বলতে এটা দ্বারা আসলে সেরকম কিছু বুঝায় না। যেভাবে তাদের এই নামকরণ হয় তা দেখা যাক। ওয়াই-ফাই এলায়েন্স তাদের প্রথম প্রটোকল 802.11 এর পরিবর্তে সহজ সহজ কোনো নাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেটা অবশ্যই ভালো আইডিয়া। তাই তারা একদল লোক ভাড়া করলো যাতে তারা নামকরণের বিষয়ে সাহায্য করতে পারে। আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই সেই দলের দেওয়া ওয়াই-ফাই নামটিই চূড়ান্ত নাম হিসেবে জায়গা করে নেয়। কিন্তু কিভাবে তারা দিলো নামটি? ওয়াই-ফাই শব্দের ধারণা মূলত আসে হাই-ফাই থেকে যার পূর্ণরূপ ‘হাই ফেডেলেটি’, যেটি মুলত ব্যবহৃত হয় হাই কোয়ালিটি অডিও টেকনলোজির ক্ষেত্রে। এখন চিন্তা করুন তো, আপনি কোন ক্যাফে বা রেস্টুরেন্টে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “IEEE 802.11 এর পাসওয়ার্ড কী?” 😂।

যাই হোক প্রথম পর্বে আমরা টাইম ম্যাশিনে উঠেছিলাম, এবার নামার পালা। আমরা এতোক্ষন জানলাম কিভাবে ওয়াই-ফাই এর গোড়াপত্তন হলো আর কিভাবেই বা তার নাম হলো ওয়াই-ফাই। এখন জানা যাক আসলে কিভাবে কাজ করে এই ওয়াই-ফাই টেকনোলজি।
আপনি ইতোমধ্যেই জানেন, ওয়ারলেস ইন্টারনেট আমাদের ফাইল, ম্যাসেজেস, ছবি ইত্যাদি পাঠাতে এবং গ্রহন করতে সাহায্য করে। কিন্তু আপনি কি এটা জানেন যে এটা সম্ভব হয় রেডিও ওয়েভের মাধ্যমেই (প্রথম পর্বের হেডি লেমার আর ড. ও’সুলিভানের কথা ভুলে যাবেন না! সঙ্গত কারণের তাদের কথা বলা হয়েছে।)। হ্যাঁ, ওয়াই-ফাই রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করে রাউটার এবং ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে। এই ফ্রিকুয়েন্সি মাপা হয় গিগাহাটর্জ এককে। লেমার কিংবা ও’সুলিভানের বৈজ্ঞানিক ধারণা সাইডে রেখে আসুন নিচের কাহিনীটি কল্পনা করি।
আপনি মধ্যদুপুরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বসে আছেন। বসে বসে আপনি থালার মতো সূর্য ও সৈকরে আছড়ে পড়া ঢেউ অবলোকন করছেন। আপনি যদি এখন প্রতিটি ঢেউ আছড়ে পড়ার সময় গণনা করতে চান, তবে আপনাকে ঢেউয়ের ফ্রিকুয়েন্সি গণনা করতে হবে। ধরে নেওয়া যাক প্রতিটা ঢেউ আছড়ে পড়তে এক সেকেন্ড করে সময় নিয়েছে। এই সেকেন্ডকে গণনা করা হবে হার্টজ হিসেবে; এক হার্টজ=এক সেকেন্ড। এখন, এক গিগাহার্টজ সমান প্রতি সেকেন্ডে এক বিলিয়ন ঢেউ পাড়ে আছড়ে পড়ছে! আপনি যদি দেখেন এভাবে ঢেউ আছড়ে পড়ছে, তাহলে অবশ্যই আপনি প্রাণ বাঁচিয়ে দৌড়ে পালাতে সময় লাগাবেন না 😂।
যাই হোক, ওয়াই-ফাই রাউটার প্রতি সেকেন্ডে ২.৪ গিগাহার্টজ অথবা ৫ গিগাহার্টজের ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করে। ঠিক এই কারণের আপনার ডিভাইস ও রাউটারের মধ্যে খুবই তাড়াতাড়ি ডেটা আদান-প্রদান ঘটে।

আজকের মতো এ পর্যন্তই। আগামি পর্বে আলোচলা করবো ২.৪ গিগাহার্টজ এবং ৫ গিগাহার্টজ সম্পর্কে। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। পোস্টটি ভালো লাগলে লাইক করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

প্রথম পর্ব

★তৃতীয় পর্ব★

★চতুর্থ ও শেষ পর্ব★

 

One thought on "ওয়াই-ফাই এর সূচনা ও কার্যপদ্ধতি (পর্ব-২)"

  1. Shahed Noor Shahed Noor Contributor says:
    Nice post…next post er jonno wait kortasi.


Leave a Reply