চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর-জি) মোবাইল সেবার জন্য গাইডলাইন তৈরি হয়েছে জানিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির বিদায়ী চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেছেন, ২০১৬ সালে তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) বরাদ্দের ঘোষণা দেয়া হবে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ফোর-জি এবং এলটিই (লং টার্ম এভ্যিলিউশন) দ্রুত আসবে। ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ ও এক হাজার ৮০০ মেগাহার্জ তরঙ্গের ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষ নীতিমালা হচ্ছে। এতে একটা তরঙ্গ দিয়ে থ্রি-জি ও ফোর-জি চলতে পারবে। এতে ব্যয়ও কমে আসবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের শেষের দিকে থ্রি-জি প্রযুক্তির সেবা চালু করে দেশের পাঁচটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান।
সুনীল কান্তি বলেন, থ্রি-জি’র অতিরিক্ত কিছু তরঙ্গ নিলামের তারিখ দেয়া ছিলো। তবে ট্যাক্সেশন ও অন্যান্য কারণে অপারেটররা অংশ নিতে চায়নি। এখন তারা বলছে আবার অংশ নেবে। আরও উন্নত সেবার জন্য তাদের বাড়তি তরঙ্গ প্রয়োজন। গাইডলাইন ঠিক করে আনছি, খুব সহসাই চলে আসবে এবং থ্রি-জি’র নিলাম হবে।
টেলিযোগাযোগখাতের বিকাশের নেপথ্যে বিটিআরসি
আগামীতে বিটিআরসি’র ভূমিকা সম্পর্কে সুনীল কান্তি বোস বলেন, একটা সময় ছিল বিটিআরসি থেকে অনেক বিষয় সরকারকে জানানো হতো না, এখন সে পরিস্থিতি নেই।
এছাড়া গঠিত হতে যাওয়া টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর (ডট) সরকারকে পরামর্শ দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারকেও বুঝতে হবে রেগুলেশনের কাজটি বিটিআরসি’র হাতেই থাকা উচিত৷ বিটিআরসি না হলে টেলিযোগাযোগ খাতের এতো বিকাশ হতো না৷গত তিন বছরের সফলতা বা ব্যর্থতা বিষয়ে সুনীল কান্তি বলেন, যা করতে পারিনি সেটাই ব্যর্থতা।
এছাড়া এখন বৈধ আর্ন্তজাতিক কল আদান-প্রদানের হার বেড়েছে বলেও দাবি করেন বিদায়ী চেয়ারম্যান।
নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অপারেটরদের পক্ষে উপদেষ্টা থাকা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, রেগুলেটর যেন আরও ক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশে মত জনংসংখ্যার দেশে ছয়টি মোবাইল অপারেটর থাকার মত অবস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন সুনীল কান্তি বোস। তিনি বলেন একটি অপারেটর ভাল লাভ করছে, দুই একটি সামান্য লাভে আছে, বাকিগুলোর অবস্থা ভাল নয়, ‘দে হ্যাভ টু ডাই অর জয়েন টু আদার।’
আগামী দিনগুলোতে টেলিযোগাযোগ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ জনবল তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন বিদায়ী চেয়ারম্যান।
ইন্টারনেট নিরাপত্তায় সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা গঠনের প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে সুনীল কান্তি বোস বলেন, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ একদল লোক এ খাতে নিয়োগ করতে হবে।
এছাড়া গ্রাহকদের সুবিধা অনুযায়ী ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ মূল্য কমানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন সুনীল কান্তি বোস। তিনি বলেন, যে পর্যায়ের ভোক্তা বেশি সেটাকেই ফোকাস করা উচিত বলে।
মতবিনিময়কালে বিটিআরসি ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবীব খান, সচিব সরওয়ার আলমসহ কমিশনারগণ উপস্থিত ছিলেন।

One thought on "ফোর-জি’র জন্য গাইডলাইন তৈরি"

  1. Reyad Reyad Contributor says:
    ৩ জি পেলাম না সব ফোনে আবার ৪জি


Leave a Reply