আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে TrickBD তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে TrickBD তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই TrickBD এর সাথেই থাকুন ।

জীবনে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন

পড়াশুনা করলে হবে নবাব খেলাধুলা করলে হবে খারাপ। বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে অধিকাংশ ভারতীয়রা কিন্তু এই ধারণা থেকে বেরোতে পারেনি। আর আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এর ব্যতিক্রম নয়। ভারত বা বাংলাদেশ 90% বাবা মা চাই তাদের ছেলেমেয়েরা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার অথবা সরকারি চাকুরিজীবি হক। যতই তারা অভিনেতা ক্রিকেটারদের প্রশংসা করুক না কেন তারা কখনোই চায় না তাদের সন্তান গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু একটা করুনননিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেক।

কিন্তু কিছু মানুষ এমন হয় যারা গতানুগতিক ধারায় চলতে পারে না কারণ তারা তাদের মত করে রাস্তা নির্বাচন করতে ভালোবাসে। সাফল্যের পথে পৌঁছানোর একটা রাস্তা হলো পড়াশোনা। কিন্তু এটাই একমাত্র রাস্তা নাই। আপনি কোন বিষয়ে সফল হতে চান সেটা পুরোপুরি আপনার উপর নির্ভর করে। আপনি যদি অভিনেতা বা ক্রিকেটার হতে চান তাহলে স্বাভাবিকভাবেই শুধুমাত্র পড়াশোনার দ্বারা সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন না তার জন্য আপনাকে ক্রিকেট প্র্যাকটিস করতে হবে অভিনয় পারদর্শী হতে হবে।

এই বিষয়টা কিন্তু ভালোভাবে বোঝার দরকার।একটা ছোট বাচ্চা ছিল যার পড়াশোনা করতে একদম ভালো লাগতো না সে পড়াশুনায় ভাল ছিলনা। তবে সে খেলাধুলা করতে ভালোবাসতো একবার এসে একটা বিষয়ে ফেল করে। সে বাড়ি পৌঁছানোর পথে গোটা রাস্তায়ই এভাবেই কাটিয়ে দেয় যে বাড়ি গেলে সে প্রচন্ড মার খাবে। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর পর যখন সে তার বাবাকে ফেল হওয়ার খবরটা দেয় তখন তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করেন আচ্ছা তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও। তখন সেই বাচ্চাটা উত্তর দেয় বাবা আমি খেলোয়ার হতে চাই।

পড়ে গিয়ে সেই ব্যক্তি খেলোয়াড় না হলে ও বলিউডের খিলাড়ি হিসেবে বিখ্যাত। হা বন্ধুরা আমি অক্ষয় কুমারের কথাই বলছি। তার বাবা সবসময় বলতেন জীবনে সাফল্য পেতে হলে ভালো নম্বর পাওয়া নয় বরং ডিসিপ্লিন হওয়া জরুরী। যার জীবন্ত উদাহরণ হলেন অক্ষয় কুমার আর তাই হয়তো কলেজ ড্রপ আউটের সিদ্ধান্তে অক্ষয় কুমারের বাবা তাকে সমর্থন করেছিলেন। আর আজ তিনি একজন ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড উইনার। বন্ধুরা বাস্তব জীবনের সাফল্য আপনার রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে আসে না বরং আপনার কঠোর পরিশ্রম এবং ডিসিপ্লিন থেকে আসে।

মনে রাখবেন বাস্তব জগত কিন্তু বইয়ের জগৎ থেকে অনেকটাই আলাদা অনেকটা এরকমই কাহিনী হলো Ingvar Kamprad এর আপনারা হয়তো অনেকেই নামটা শোনেননি তার নাম ততটা জনপ্রিয় না হলেও তার ব্র্যান্ড কিন্তু বিশ্ব বিখ্যাত। তিনি হলেন Ikea ফাউন্ডার ছোট থেকে ব্যবসার প্রতি আগ্রহী মানুষটার ডিসলেক্সিয়া ছিল। যেটা একটা লার্নিং ডিসাবিলিটি যেটা Taare Zaman Par সিনেমাই নিশান এর মধ্যে ছিল। কিন্তু এই সমস্যাটা কোন ভাবেই তাকে সফল হওয়া থেকে আটকাতে পারেনি।

সে তার অক্ষমতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেয় যার ফলে Ikea প্রত্যেকটা ম্যানুয়াল ভিজুয়াল যে তাদের ফার্নিচারকে যে কেউ সহজেই অ্যাসেম্বল করে দিতে পারবে। Ikea তাদের প্রোডাক্ট এর ব্যতিক্রমী নামের জন্য জনপ্রিয়। যেহেতু তিনি পড়তে পারতেন না তাই তিনি তার প্রোডাক্ট এর নাম তার জন্মস্থান সুইডেনের সব বিখ্যাত জায়গা এবং বিখ্যাত মানুষের নামে রাখেন। যাতে তিনি সমস্ত প্রোডাক্ট এর নাম মনে রাখতে পারেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে দেশলাই কাঠি বিক্রির মাধ্যমে শুরু হয়েছিল তার উদ্যোক্তার জীবন আর ১৭ বছর বয়সে তিনি প্রথম Ikea স্টোর খুলে ফেলেন।

জীবনের শেষ পর্যায়ে গিয়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় আট নম্বরে ছিলেন। যদি এই সমস্যাটা থাকার পরেও তিনি সফলতা অর্জন করতে পারেন তাহলে ভাবুন কেন আপনি পারবেন না। প্রত্যেকে কিন্তু সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায় না কিন্তু নিজের পরিস্থিতি বদলানোর সুযোগ সবার কাছেই আসে। আর কিছুটা এমনই কাহিনী হলো ভারতের প্রথম stand-up কমেডি এন Johnny Lever এর। তিনি সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন।

পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় খুব শীঘ্রই স্কুল জীবনের ইতি টেনে তাকে ছোটখাটো কাজ শুরু করে দিতে হয়। যেমন রাস্তায় মিমিক্রি করা। মুম্বাইয়ের রাস্তায় বলিউড অভিনেতাদের মিমিক্রি করা ইত্যাদি। এরপর হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের কাজ করার সময় কোম্পানির একটা প্রোগ্রামে তিনি সিনিয়র অফিসারদের মিমিক্রি করেছিলেন আর সেদিন থেকেই জনি জানুয়ালা থেকে তিনি হয়ে গেলে জনি লিভার এটা আপনারা সকলেই জানেন যে একটা সময় এমন ছিল যখন বলিউডে জনি লিভারকে ছাড়া কোন সিনেমায় হতো না।

বন্ধুরা প্রত্যেক সফল ব্যক্তি সফলতার পিছনে কঠিন পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার একটা কাহিনী থাকে। বর্তমান সময় হলিউডের সুপারস্টার টম ক্রুজের লার্নিং ডিসাবিলিটি ছিল। তাই সে পড়াশোনায় ভালো ছিল না। তিনি ছোট থেকেই খেলাকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু চোট লাগার কারণে তাকে সেটা ছাড়তে হয়। তারপর সে প্রকাশ করে অভিনয় এর উপরে আর আজ তার সাফল্যের কথা গোটা বিশ্ব জানে। এই জন্য কোন একটা বিষয়ে ফেল করা মানে এই নয় যে আপনার দ্বারা কিছু হবে না।

অন্য কিছুর উপর ফোকাশ করুন এক না একদিকে আপনার প্রতিভা আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আপনারা বিটিএসের কথা তো নিশ্চয়ই শুনেছেন। এক সময় সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যান্ড যাদের গান আজও জনপ্রিয়। তাদের চারজন সদস্য নিজেদের পড়াশোনা শেষ করেনি তারা পড়াশুনায় জিনিয়াস না হলেও মিউজিকের দিক থেকে জিনিয়াস ছিল। আপনারা হয়তো বিশ্বাস করবেন না কিন্তু এই মিউজিকের লিজেন্ডরা মিউজিক্যাল সিট লিখতে বা পড়তে পারতেন না।

তারা মিউজিক্যাল থিওরি বুঝতেন না। কিন্তু তারপরে ওই চারজন দুই বিলিয়নের বেশি অ্যালবাম বিক্রি করেছে। এই কাহিনী গুলো শুনে মনে হয় না কোন কিছুই অসম্ভব নয় আর বিশ্বাস করুন এই কথাটা একেবারেই সত্যি।

আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল প্রয়োজন হলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ফেসবুকে আমি

Leave a Reply